টানা ভারী বর্ষণ ও অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বাশুড়িয়া এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের তিনটি অংশ ভেঙে গেছে। এতে সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বোরহানের দোকান এলাকা থেকে মধুমতী নদীর পাশ দিয়ে গহরডাঙ্গা মাদ্রাসা পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি ওই এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ। সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় বর্তমানে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সড়কটির আশপাশে রয়েছে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গহরডাঙ্গা মাদ্রাসা ও একটি মহিলা মাদ্রাসা। প্রতিদিন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। সড়কের ভাঙা অংশ দ্রুত সংস্কার না করা হলে শিক্ষার্থীদের চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বালু ও বিভিন্ন ভারী মালামাল বহনকারী যানবাহন নিয়মিত চলাচলের কারণে সড়কের পাশের মাটি সরে গিয়ে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সড়কের অবশিষ্ট অংশও ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
কুশলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফায়েক শেখ বলেন, “ভারী গাড়ি চলাচলের কারণে রাস্তার পাশের মাটি সরে গিয়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সড়কটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেলে এলাকার মানুষের বড় ধরনের দুর্ভোগে পড়তে হবে। কারণ এই পথটিই আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি মেরামতের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সড়কটিতে ভারী যানবাহন চলাচল সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করা হোক। একই সঙ্গে সড়কটির স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এলাকাবাসী গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো সংস্কার করা না হলে সড়কটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।


























