, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এসএসসির ফল প্রকাশ: পাসের হার ৬২.২৫%, জিপিএ-৫ ১.১৬ লাখ ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার ৬২.২৫% মাদারীপুরের শিবচরে রাতের আঁধারে গরিব কৃষকের ফলন্ত লাউ ও বেগুন ক্ষেত ধ্বংস, দিশেহারা পরিবার ইসলামপুরে মাদক-সন্ত্রাস ও দুর্নীতি দমনে আলোচনা সভা, মানবাধিকার কর্মী বরণ ঈশ্বরগঞ্জ মডেল মসজিদে ‘প্রেমিনস্ক্রিপশন’, প্রশ্নের মুখে মূল্যবোধ গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ৬ নেতার পদত্যাগ একটু বৃষ্টিতেই ডুবে যায় সড়ক, বছরের পর বছর দুর্ভোগ বর্ণিবাসীর ক্লাসের পড়া ক্লাসে পড়ালে কোনো ছাত্র-ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে হবে না’ : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মাগুরায় যথাযথ মর্যাদায় পালিত হলো আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ভঙ্গুর অর্থনীতির মাঝেও ইতিহাস গড়ার আশাবাদ: লালপুরে প্রতিমন্ত্রী পুতুলের

মাদারীপুরের শিবচরে রাতের আঁধারে গরিব কৃষকের ফলন্ত লাউ ও বেগুন ক্ষেত ধ্বংস, দিশেহারা পরিবার

মাদারীপুরের শিবচরে রাতের আঁধারে গরিব কৃষকের ফলন্ত লাউ ও বেগুন ক্ষেত ধ্বংস, দিশেহারা পরিবার

মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার পূর্ব কাচিকাটা গ্রামে রাতের আঁধারে এক যুবকের একমাত্র সম্বল এক বিঘা জমির ফলন্ত লাউ গাছ কেটে এবং ৬০০ বেগুন গাছ তুলে ধ্বংস করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন ২১ বছর বয়সী দরিদ্র কৃষক আলোম খন্দকার।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালে নিজের লাউ ও বেগুন ক্ষেতের পরিচর্যা করতে যান আলোম খন্দকার। কিন্তু ক্ষেতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তার কষ্টের ফলন্ত সব লাউ গাছ কেটে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং শেকড়সহ তুলে ফেলা হয়েছে ৬০০ বেগুন গাছ। চোখের সামনে নিজের কষ্টের এই দৃশ্য দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই তরুণ কৃষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলোম খন্দকার এলাকার অত্যন্ত নম্র-ভদ্র ও সরল প্রকৃতির একজন ছেলে। অভাবের সংসারে পড়াশোনা করতে না পেরে কৃষি কাজকেই তিনি জীবিকা নির্বাহের একমাত্র পথ হিসেবে বেছে নেন। মায়ের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দিতে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধার-দেনা করে তিনি এই সবজি চাষ করেছিলেন। কিন্তু কে বা কারা তার সেই আশার আলো নিভিয়ে দিল, তা তিনি মেলাতে পারছেন না।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক আলোম খন্দকার জেএ টিভি-কে বলেন, আমার সাথে তেমন কারো কোনো পূর্বশত্রুতা নেই। কে বা কারা কেন আমার এমন ক্ষতি করল, তা আমি বুঝতে পারছি না। আমি গরিব ও অশিক্ষিত মানুষ, উপজেলা কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ রাখতে না পারায় কখনো কোনো সরকারি বা আর্থিক সহযোগিতা পাইনি। এখন আমি কীভাবে এই ঋণ শোধ করব জানি না।

ছেলের এমন পরিস্থিতিতে শোকে পাথর হয়ে গেছেন আলোমের মা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, অভাবের কারণে ছেলেকে পড়াশোনা করাতে পারিনি। আমার ছেলেটা সারাক্ষণ ক্ষেতে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে সংসার চালায়। ও খুব সহজ-সরল বলেই মাঝে মাঝে এমন অন্যায়ের শিকার হয়, কিন্তু আমরা কোনো বিচার পাই না।

এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামান খান বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, লাউ ও বেগুন ক্ষেতের এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই লাখ টাকার মতো। ভুক্তভোগী কৃষককে সান্ত্বনা ও সাহস যুগিয়েছি। দ্রুতই তাকে সরকারি উপদ্রব ও প্রণোদনা ভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং পরবর্তীতে তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।

অভাবের তাড়নায় গড়া একটি তরয়ের সাজানো স্বপ্ন এভাবে এক রাতে নিভে যাওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপে এই ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হোক—এটাই এখন এলাকাবাসীর দাবি।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

এসএসসির ফল প্রকাশ: পাসের হার ৬২.২৫%, জিপিএ-৫ ১.১৬ লাখ

মাদারীপুরের শিবচরে রাতের আঁধারে গরিব কৃষকের ফলন্ত লাউ ও বেগুন ক্ষেত ধ্বংস, দিশেহারা পরিবার

আপডেট সময় ০৮:৪৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার পূর্ব কাচিকাটা গ্রামে রাতের আঁধারে এক যুবকের একমাত্র সম্বল এক বিঘা জমির ফলন্ত লাউ গাছ কেটে এবং ৬০০ বেগুন গাছ তুলে ধ্বংস করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন ২১ বছর বয়সী দরিদ্র কৃষক আলোম খন্দকার।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালে নিজের লাউ ও বেগুন ক্ষেতের পরিচর্যা করতে যান আলোম খন্দকার। কিন্তু ক্ষেতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তার কষ্টের ফলন্ত সব লাউ গাছ কেটে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং শেকড়সহ তুলে ফেলা হয়েছে ৬০০ বেগুন গাছ। চোখের সামনে নিজের কষ্টের এই দৃশ্য দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই তরুণ কৃষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলোম খন্দকার এলাকার অত্যন্ত নম্র-ভদ্র ও সরল প্রকৃতির একজন ছেলে। অভাবের সংসারে পড়াশোনা করতে না পেরে কৃষি কাজকেই তিনি জীবিকা নির্বাহের একমাত্র পথ হিসেবে বেছে নেন। মায়ের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দিতে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধার-দেনা করে তিনি এই সবজি চাষ করেছিলেন। কিন্তু কে বা কারা তার সেই আশার আলো নিভিয়ে দিল, তা তিনি মেলাতে পারছেন না।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক আলোম খন্দকার জেএ টিভি-কে বলেন, আমার সাথে তেমন কারো কোনো পূর্বশত্রুতা নেই। কে বা কারা কেন আমার এমন ক্ষতি করল, তা আমি বুঝতে পারছি না। আমি গরিব ও অশিক্ষিত মানুষ, উপজেলা কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ রাখতে না পারায় কখনো কোনো সরকারি বা আর্থিক সহযোগিতা পাইনি। এখন আমি কীভাবে এই ঋণ শোধ করব জানি না।

ছেলের এমন পরিস্থিতিতে শোকে পাথর হয়ে গেছেন আলোমের মা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, অভাবের কারণে ছেলেকে পড়াশোনা করাতে পারিনি। আমার ছেলেটা সারাক্ষণ ক্ষেতে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে সংসার চালায়। ও খুব সহজ-সরল বলেই মাঝে মাঝে এমন অন্যায়ের শিকার হয়, কিন্তু আমরা কোনো বিচার পাই না।

এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামান খান বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, লাউ ও বেগুন ক্ষেতের এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই লাখ টাকার মতো। ভুক্তভোগী কৃষককে সান্ত্বনা ও সাহস যুগিয়েছি। দ্রুতই তাকে সরকারি উপদ্রব ও প্রণোদনা ভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং পরবর্তীতে তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।

অভাবের তাড়নায় গড়া একটি তরয়ের সাজানো স্বপ্ন এভাবে এক রাতে নিভে যাওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপে এই ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হোক—এটাই এখন এলাকাবাসীর দাবি।