জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর পদ্মপুকুর এলাকায় চোর সন্দেহে দুই যুবককে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লাল বাদশা (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। অপর যুবক মাইদুল (১৮)কে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লাল বাদশা উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের আলমপুর আদর্শ গ্রামের জামালের ছেলে। আহত মাইদুল একই এলাকার ইব্রাহিমের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি মাঠে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে দুই যুবককে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাল বাদশাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে এবং মাইদুলকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে।
উদ্ধারের পর মাইদুল জানান, জামালগঞ্জ চারমাথা এলাকার একটি তেলের পাম্পের কাছ থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ডেকে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাদের মারধর ও নির্যাতন করা হয়। পরে তাদের মাঠের পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সামনে পেলে তিনি চিনতে পারবেন বলেও জানান মাইদুল। তবে তাদের নাম বা ঠিকানা তিনি জানেন না।
নিহত লাল বাদশার পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং চোখেও কম দেখতেন। অপরদিকে মাইদুলেরও কিছুটা জ্ঞান-বুদ্ধির সমস্যা রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চোর সন্দেহে দুই যুবককে মারধর ও নির্যাতন করা হয়ে থাকতে পারে। একপর্যায়ে তাদের মাঠের পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। সেখানে লাল বাদশার মৃত্যু হয় এবং মাইদুল অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তবে কী কারণে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে মৃত এবং অপরজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চোর সন্দেহে তাদের মারধর করা হয়ে থাকতে পারে। মাইদুলের দেওয়া তথ্যসহ অন্যান্য বিষয় যাচাই করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

























