বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে ১৫ই আগস্ট এক ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭০ সালের এই দিনে স্বৈরাচারী ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ছাত্র সংগঠনগুলোর হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগের মেধাবী ছাত্র এবং তৎকালীন সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের সহ-সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল মালেক শাহাদত বরণ করেন। শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামী আদর্শ ও জাতীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার দাবিতে তাঁর এই আত্মত্যাগকে স্মরণ করে প্রতিবছর ১৫ই আগস্ট ‘ইসলামী শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
১৯৬৯ সালে নূর খান শিক্ষা কমিশন গঠিত হলে শিক্ষা সংস্কার নিয়ে তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে চরম বিতর্ক শুরু হয়। একটি গোষ্ঠী শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ধর্মীয় ও ইসলামী মূল্যবোধ সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে একমুখী ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতি চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়। এর বিপরীতে আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে একদল সচেতন শিক্ষার্থী ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক, সার্বজনীন ও নৈতিক শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে তীব্র জনমত গড়ে তোলেন।
১৯৭০ সালের ১২ই আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) শিক্ষা কমিশন সংক্রান্ত এক জনসভা ও বিতর্কের আয়োজন করা হয়। সেখানে আব্দুল মালেক ইসলামী শিক্ষার যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। তাঁর যুক্তিনিষ্ঠ বক্তব্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যপক সাড়া ফেলে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তৎকালীন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা তাঁর ওপর সসংঘবদ্ধ হামলা চালায়। উপর্যুপরি আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। টানা তিন দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। ১৯৭০ সালের ১৫ই আগস্ট তিনি শাহাদত বরণ করেন।
শহীদ আব্দুল মালেকের শাহাদতের পর থেকে এই দিনটি ‘ইসলামী শিক্ষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। কেবল সনদসর্বস্ব শিক্ষা নয়, বরং নৈতিকতা ও মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রেরণা যোগায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্নমত পোষণ এবং আদর্শিক লড়াইয়ে সহনশীলতার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। শিক্ষাঙ্গনে আধিপত্যবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়।
শহীদ আব্দুল মালেক কেবল একটি নাম নন, বরং শিক্ষাঙ্গনে আদর্শিক লড়াই এবং নৈতিকতার এক প্রতীক। তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ আজও তরুণ প্রজন্মকে একটি সৎ, দক্ষ ও নৈতিক সমাজ গঠনে অনুপ্রাণিত করে। ইসলামী শিক্ষা দিবস পালন কেবল অতীয় স্মৃতিচারণ নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও নৈতিক শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নের নতুন অঙ্গীকার।

























