কুড়িগ্রামের চিলমারীতে আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধীয় জমিতে রোপণ করা গাছ, সীমানা পিলার ও ঘর নির্মাণের কংক্রিটের খুঁটি উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের গয়নার পটল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ইউসুফ আলী, ইয়াকুব আলী, আনিছুরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন একই উপজেলার বাসিন্দা খন্দকার মোকছুদ আলী বাবু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউসুফ আলী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খন্দকার মোকছুদ আলী বাবু গং প্রায় ৯ একর পৈতৃক জমির মালিকানা দাবি করছেন। তাঁদের দাবি, জমিটি সিএস খতিয়ান ২৩/২, ১৪৪ ও ২৯৯-এর ৬২৬, ৬৩০ ও ৬৩১ নম্বর দাগ এবং এসএ খতিয়ান-১-এর ৬০১ নম্বর দাগে অবস্থিত। এ ছাড়া আরএস খতিয়ান-১৪৫-এর ১২৫৪/১২৬৩ (বাটা) দাগেও ওই জমির উল্লেখ রয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে খন্দকার মোকছুদ আলী বাবু গং কুড়িগ্রামের সহকারী জজ আদালতে ১২৭/২৬ নম্বর অন্য মোকদ্দমা করেন। মোকছুদ আলী বাবুর দাবি, গত ৮ সেপ্টেম্বর আদালত ওই মামলায় বিরোধীয় জমির বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
তাঁর অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও আজিজুল হকের ছেলে ইউসুফ আলী, ইয়াকুব আলী, আনিছুরসহ কয়েকজন বিরোধীয় জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় জমিতে রোপণ করা প্রায় ২৫০টি ইউক্যালিপটাস ও ৫০টি সুপারি গাছ, সীমানা পিলার এবং ঘর নির্মাণের জন্য স্থাপন করা কংক্রিটের খুঁটি উপড়ে ফেলা হয়।
মোকছুদ আলী বাবু আরও অভিযোগ করেন, ইউসুফ আলী গং ৩০ টাকা করাদির দাখিলার ভিত্তিতে সিএস খতিয়ান-২৩/২-এর ৫৮২ নম্বর দাগ এবং এসএ খতিয়ান-১-এর ৬০১ নম্বর দাগের জমি দাবি করছেন। এ নিয়ে মুনসেফি আদালতের ২১৭/৮৩ নম্বর মামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, ওই মামলায় প্রদর্শিত এসএ দাগ নম্বর হাতে তৈরি করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিবাদীদের দাবিকৃত জমির সুনির্দিষ্ট চৌহদ্দিও উল্লেখ করা হয়নি।
তাঁর দাবি, বিবাদীদের দাবিকৃত সিএস ৫৮২ নম্বর দাগ আরএস রূপান্তরের পর ১২৫৪/১২৬৭ দাগে খতিয়ান-২০-এ আমিনুদ্দৌলার নামে রেকর্ড হয়েছে। এর কিছু অংশ আরএস খতিয়ান-১০৯-এর ১২৫৪/১২৫৮ দাগে নুরুল ইসলামের নামে রেকর্ড হয়েছে। এসব কারণে ভুল তফসিল ও চৌহদ্দিবিহীন জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মোকছুদ আলী বাবুর দাবি, ইউসুফ আলী আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমিটি জোরপূর্বক দখলে রাখার চেষ্টা করছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউসুফ আলী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের ৩২ নম্বর সদস্য।
অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউসুফ আলী বলেন, ‘জমিগুলো আমাদের পৈত্তিক সম্পত্তি। যা আমরা দির্ঘদিন থেকেই ভোগদখল করে আসছি। গত এক বছর ধরে মোকছুদ আলী বাবু মামলা-মোকদ্দমা করে জমিগুলো নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।’
মোকছুদ আলী বাবু বলেন, ‘জমির সঠিক কাগজপত্রের ভিত্তিতেই আদালতে মামলা করা হয়েছে এবং আদালত আমাদের পক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। এরপরও ইউসুফ আলী গং আমার জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আমার জমিতে রোপণ করা ২৫০টি ইউক্যালিপটাস, ৫০টি সুপারি গাছ, সীমানা পিলার ও ঘর নির্মাণের কংক্রিটের খুঁটি উপড়ে ফেলা হয়েছে।’
তিনি জানান, এ ঘটনায় গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢুষমারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিরোধীয় জমিতে রোপণ করা প্রায় ২৫০টি ইউক্যালিপটাস গাছ ভেঙে নষ্ট করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পরদিন ঢুষমারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, যার নম্বর ৫৫৫।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর পরিবারের সদস্য ও শ্রমিকদের নিয়ে ঘর নির্মাণের উদ্দেশ্যে ওই জমিতে যান মোকছুদ আলী। এ সময় ইউসুফ আলী ও ইয়াকুব আলী গং ঘরের খুঁটি স্থাপন ও সুপারি গাছ রোপণে বাধা দেন। পরে মোকছুদ আলী তাঁদের সহকারী জজ আদালতের ১২৭/২৬ নম্বর মামলার অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার কাগজপত্র দেখান। কাগজপত্র দেখার পর তাঁরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় জমিতে রোপণ করা কোনো কিছুই থাকবে না বলে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে সেখানে ঘর নির্মাণের কয়েকটি কংক্রিটের খুঁটি স্থাপন ও কয়েকটি সুপারি গাছ রোপণ করে মোকছুদ আলী তাঁর বড় ভাই খন্দকার মাহতাব হোসেনের বাড়িতে দুপুরের খাবার খেতে যান। খাবার শেষে জমিতে ফিরে স্থানীয় আনজু মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রীকে সেখানে দেখতে পান। তাঁদের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা জানান, মোকছুদ আলী ও তাঁর লোকজনের অনুপস্থিতির সময়ে ইয়াকুবসহ তিনজন এসে খুঁটি ও গাছগুলো ভেঙে ফেলেছেন। অপর তিনজনকে তাঁরা চিনতে পারেননি বলে জানান।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ভেঙে ফেলা সুপারি গাছগুলো পরে জমিতে পাওয়া যায়নি। তবে কংক্রিটের খুঁটি পাশের একটি জমিতে পাওয়া যায়। ওই রাতেই আনজু মণ্ডল জমির অংশীদার মাহমুদা খাতুনকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান।
এ বিষয়ে ঢুষমারা থানার অফিসার ইনচার্জ এম আর সাঈদ বলেন, গাছ ভাঙার ঘটনায় পরদিন থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনাগুলোও অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
,
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
তারুণ্যের স্বপ্ন, তারুণ্যের ইশতেহার’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার টেকনাফে
হোয়াইক্যং সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৪ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১
কবিতা, গান ও নৃত্যে নজরুল বন্দনা, বদলগাছীতে পুরস্কৃত শিক্ষার্থীরা।
ফুলবাড়ীতে শিক্ষকের বেতের আঘাতে অসুস্থ হয়ে শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি।
চিলমারীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ
ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবের নির্বাচন ২২ অক্টোবর
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ছয় প্রার্থীর মনোয়ন বৈধ ঘোষণা।
ইঞ্জিন বিকল হয়ে গভীর সমুদ্রে ভাসছিল ফিশিং বোট, উদ্ধার ১৩ জেলে
মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ, উখিয়ায় কিশোর উদ্ধার
উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা, রোহিঙ্গা নারীকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে দিল পুলিশ
চিলমারীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ
-
মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম
- আপডেট সময় ১১:৪০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 1
জনপ্রিয় সংবাদ






























