দারিদ্র্যকে জয় করে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন-৫ অর্জন করেছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার দারিয়াড়কুল গ্রামের শয়ন রাহা। বিদ্যালয়ে প্রথম হওয়ার পাশাপাশি উপজেলার ফলাফলেও চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে সে। তবে মেধাবী এই শিক্ষার্থীর সামনে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থসংকট। উচ্চশিক্ষার ব্যয় জোগাতে না পারলে তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন থমকে যেতে পারে।
শয়নের স্বপ্ন একজন চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করা। বাবাকে চিকিৎসার অভাবে হারানোর অভিজ্ঞতা থেকেই এই স্বপ্নের জন্ম। তার ইচ্ছা, ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে এমন মানুষের পাশে দাঁড়ানো, যারা অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়।
শয়নের বাবা বিপুল রাহা ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে স্ট্রোক করে মারা যান। এরপর মা কমলা রাহাই পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। একটি সেলাই মেশিনে কাজ করে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে আসছেন তিনি।
পরিবারটির আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বসতভিটায় রয়েছে মাত্র একটি জরাজীর্ণ ঘর। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ে। নেই কৃষিজমি কিংবা উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও ছেলের পড়াশোনা বন্ধ হতে দেননি কমলা রাহা।
শয়ন বালাডাঙ্গা এসএম মুসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনের পাশাপাশি সে বিদ্যালয়ের সেরা ফল করেছে। উপজেলার ফলাফলেও তার কৃতিত্ব তাকে এগিয়ে দিয়েছে।
শিক্ষাজীবনের পরবর্তী ধাপে বিজ্ঞান নিয়ে আরও পড়াশোনা করে মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার লক্ষ্য শয়নের। কিন্তু চিকিৎসক হওয়ার পথ দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবারটি।
বালাডাঙ্গা এসএম মুসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার মন্ডল বলেন, শয়ন অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। তার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহও অনেক। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে সহযোগিতা করা হয়েছে। এখন উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
স্থানীয়রাও মনে করছেন, অর্থের অভাবে এমন মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়া শুধু শয়নের পরিবারের জন্য নয়, সমাজের জন্যও বড় ক্ষতি। তাদের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন শয়নের পাশে দাঁড়াবে।
শয়নও নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যেতে রাজি নয়। তার একটাই প্রত্যাশা—অর্থের কারণে যেন পড়াশোনা বন্ধ না হয়। পর্যাপ্ত সুযোগ ও সহায়তা পেলে সে একদিন চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চায়।
দারিয়াড়কুল গ্রামের একটি অসচ্ছল পরিবারের এই মেধাবী কিশোরের স্বপ্ন পূরণে সময়মতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া গেলে শয়নের ভবিষ্যৎ যেমন বদলে যেতে পারে, তেমনি তার সাফল্য হয়ে উঠতে পারে সমাজের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার গল্প।

























