সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ :
কক্সবাজারের টেকনাফের জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাব্বির আহম্মেদ (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক হত্যার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী শাহেনা বেগমকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ক্যাম্প-২৭-এর সি/১৪ ব্লকে তাঁর বাবার বসতঘর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।
১৬ এপিবিএনের জাদিমুড়া ক্যাম্পের ইনসিডেন্ট রিপোর্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত আনুমানিক পৌনে ৪টার দিকে ক্যাম্প-২৭-এর সি/১২ ব্লকে একটি ভাড়া বাসা থেকে সাব্বির আহম্মেদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘরের ভেতরে তাঁর দুই হাত বাঁধা অবস্থায় এবং চালের বাঁশের সঙ্গে লুঙ্গি ও গামছা পেঁচানো অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়। ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় এটি হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করা হয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সাব্বির আহম্মেদের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী শাহেনা বেগমের পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে কলহ চলছিল বলে জানা গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এতে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহত সাব্বিরের সঙ্গে ২০২১ সালে শাহেনা বেগমের বিয়ে হয়। তাঁদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। সাব্বির আগে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সম্প্রসারিত অংশ ক্যাম্প-২৬-এর এফ/৮ ব্লকে বসবাস করতেন। পরে পারিবারিক বিরোধের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ক্যাম্প-২৭-এর সি/১২ ব্লকে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন বলে ইনসিডেন্ট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শাহেনা বেগমকে আসামি করে টেকনাফ থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ৫৩/২০২৬, তারিখ ১০ অক্টোবর ২০২৬। এতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
১৬ এপিবিএন জানায়, গ্রেপ্তার আসামিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। তবে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ।





























