, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
লালপুরে মাজার ও মসজিদে চুরি মা-ইলিশ রক্ষা নিষেধাজ্ঞা: সাগরে নামার আগেই ঋণের জালে আব্দুল মান্নান,নুরনবি সহ হালিশহরের অসংখ্য মৎস্যজীবীরা সন্দেহজনক বোটে থামার সংকেত, পালিয়ে গেল পাচারকারীরা উত্তরে জেলা ঠাকূরগাঁওয়ে শীতের আগাম বার্তা। দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার পথে জিম্বাবুয়ের জঙ্গলে প্রাণ গেল রাণীশংকৈলের নুর আলমের স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভারতে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের সাত মাস পর সুস্থতার পথে বাকৃবির সাংবাদিক জীম এমপি জিলানীর সঙ্গে দুর্গামন্দির পরিদর্শনে বিএনপি নেতা অলিউর রহমান ও যুবদল নেতা শেহাব মোল্লা উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার লালপুরে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ৪৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজার বিসর্জন

গোপালগঞ্জে মহাসড়কে ঝুঁকি বাড়ছে, সাত মাসে জীবন হারিয়েছেন ৩৮ জন

গোপালগঞ্জে মহাসড়কে ঝুঁকি বাড়ছে, সাত মাসে জীবন হারিয়েছেন ৩৮ জন

১২৯

গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে যাওয়া ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গত সাত মাসে জেলার বিভিন্ন অংশে অর্ধশতাধিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। এতে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মহাসড়কে নছিমন-করিমন, ভ্যান, ইজিবাইকসহ ধীরগতির ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন অবাধে চলাচল করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অদক্ষ চালকদের বেপরোয়া গতি। পাশাপাশি মহাসড়কের বেশ কিছু অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আকবার শিকদার বলেন, মহাসড়কে নির্ধারিত নিয়ম না মেনে ছোট ও ধীরগতির যানবাহন চলাচল করছে। অনেক চালকের পর্যাপ্ত দক্ষতাও নেই। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলীয়া গ্রামের নাছরুল ভূইয়া বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক পরিবার তাদের আপনজন হারাচ্ছে। আবার কেউ কেউ গুরুতর আহত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে ছিটকে পড়ছেন। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকারী বাসচালক মিরাজ ফকির ও রুবেল শেখ জানান, একই সড়কে দ্রুতগতির বাস ও ট্রাকের পাশাপাশি ধীরগতির ভ্যান, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল চলাচল করায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তাদের মতে, দুর্ঘটনা কমাতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মহাসড়ক দুটি দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের দাবি, অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়াতে হবে। মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিত ছোট যানবাহনের চলাচল বন্ধ, বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো দ্রুত সংস্কারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকোনুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে মহাসড়কে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। বেপরোয়া গতিতে চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চালকদের সচেতন করতেও কাজ করছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত নজরদারি, সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সংস্কার, যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা এবং চালকদের দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা গেলে গোপালগঞ্জের মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

লালপুরে মাজার ও মসজিদে চুরি

গোপালগঞ্জে মহাসড়কে ঝুঁকি বাড়ছে, সাত মাসে জীবন হারিয়েছেন ৩৮ জন

আপডেট সময় ০৯:৪৩:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
১২৯

গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে যাওয়া ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গত সাত মাসে জেলার বিভিন্ন অংশে অর্ধশতাধিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। এতে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মহাসড়কে নছিমন-করিমন, ভ্যান, ইজিবাইকসহ ধীরগতির ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন অবাধে চলাচল করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অদক্ষ চালকদের বেপরোয়া গতি। পাশাপাশি মহাসড়কের বেশ কিছু অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আকবার শিকদার বলেন, মহাসড়কে নির্ধারিত নিয়ম না মেনে ছোট ও ধীরগতির যানবাহন চলাচল করছে। অনেক চালকের পর্যাপ্ত দক্ষতাও নেই। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলীয়া গ্রামের নাছরুল ভূইয়া বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক পরিবার তাদের আপনজন হারাচ্ছে। আবার কেউ কেউ গুরুতর আহত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে ছিটকে পড়ছেন। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকারী বাসচালক মিরাজ ফকির ও রুবেল শেখ জানান, একই সড়কে দ্রুতগতির বাস ও ট্রাকের পাশাপাশি ধীরগতির ভ্যান, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল চলাচল করায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তাদের মতে, দুর্ঘটনা কমাতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মহাসড়ক দুটি দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের দাবি, অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়াতে হবে। মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিত ছোট যানবাহনের চলাচল বন্ধ, বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো দ্রুত সংস্কারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকোনুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে মহাসড়কে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। বেপরোয়া গতিতে চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চালকদের সচেতন করতেও কাজ করছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত নজরদারি, সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সংস্কার, যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা এবং চালকদের দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা গেলে গোপালগঞ্জের মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।