, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
লালপুরে পদ্মার চরে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শনে চীনের দল ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার পরও থামেনি ভাউলাগঞ্জ হাটে অতিরিক্ত টোল কাউনিয়ায় ‘কাগজের বিদ্যালয়’! ১৩০ শিক্ষার্থীর দাবি, সরেজমিনে মিলল ভিন্ন চিত্র তিস্তা এক্সপ্রেসে হারিয়ে যাওয়া ৩ বছরের শিশু উদ্ধার, বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর ময়মনসিংহে নিজ ঘর থেকে যুবকের ঝু-ল-ন্ত লা-শ উ-দ্ধা-র নিজ জন্ম স্থানে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাফ নদী পেরিয়ে ই-য়া-বা পা-চা-র, টেকনাফে তিনজন আ-ট-ক নাটোর পুলিশ লাইন্সের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত অনিয়মের দায়ে মিষ্টির কারখানায় জরি-মানা, স-তর্ক কয়েক ব্যবসায়ী তেঁতুলিয়ায় যৌথ অভিযানে দুইজন গ্রে-প্তা-র, পঞ্চগড় সদরে উ-দ্ধা-র চো-রা-ই মোটরসাইকেল

কাউনিয়ায় ‘কাগজের বিদ্যালয়’! ১৩০ শিক্ষার্থীর দাবি, সরেজমিনে মিলল ভিন্ন চিত্র

কাউনিয়ায় ‘কাগজের বিদ্যালয়’! ১৩০ শিক্ষার্থীর দাবি, সরেজমিনে মিলল ভিন্ন চিত্র

একটি সাইনবোর্ড আছে, টিনের একটি ঘরও আছে। সরকারি কাগজপত্রে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর হিসাব। কিন্তু বাস্তবে কোথায় সেই বিদ্যালয়, কোথায় শিক্ষার্থী-শিক্ষকের নিয়মিত পাঠদান—এমন প্রশ্নই উঠেছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের সাব্দী গ্রামের ‘শহীদবাগ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়’ ঘিরে।

২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে ১৩০ জন শিক্ষার্থী এবং একাধিক শিক্ষক রয়েছেন বলে দাবি করছে কর্তৃপক্ষ। তবে সরেজমিনে গিয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থী-শিক্ষকের উপস্থিতি, পাঠদান কিংবা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা কার্যক্রমের দৃশ্যমান চিত্র পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজপত্রে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সচল দেখানো হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এমনকি প্রশাসনিক পরিদর্শনের সময় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিত দেখাতে আশপাশের এলাকা থেকে সাধারণ শিশু এনে শ্রেণিকক্ষে বসানোর অভিযোগও উঠেছে।

শনিবার সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে একটি নিচু জায়গায় জরাজীর্ণ টিনের ঘর। ঘরের বাইরে বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড রয়েছে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষা উপকরণ, প্রশিক্ষণসামগ্রী কিংবা নিয়মিত পাঠদানের উপযোগী দৃশ্যমান পরিবেশ চোখে পড়েনি।

স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হয়—এমন দৃশ্য তারা সচরাচর দেখেন না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতিও তাদের চোখে পড়ে না।

অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক ১৩০ জন শিক্ষার্থী এবং বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম চালু থাকার কথা দাবি করলেও সরেজমিনে সেই দাবির সঙ্গে বাস্তব চিত্রের মিল পাওয়া যায়নি।

বিদ্যালয়টি নিয়ে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনিক পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংকন পাল বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসবেন—এমন খবর পাওয়ার পর আশপাশের এলাকা থেকে কয়েকজন সাধারণ শিশুকে এনে শ্রেণিকক্ষে বসানো হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিদর্শকদের সামনে বিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে—এমন একটি চিত্র তুলে ধরতেই এ ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাদের দাবি, ওই শিশুদের মধ্যে প্রকৃত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ছিল না এবং পরিদর্শন শেষ হওয়ার পর তাদের আর বিদ্যালয়ে দেখা যায়নি। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিদ্যালয়টি সরকারি স্বীকৃতি, এমপিওভুক্তি বা অনুদানের আওতায় আসবে—এমন আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগের নামে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রধান শিক্ষকের স্বামী আব্দুল হাইয়ের নাম থাকায় এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, স্বামী-স্ত্রীর প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা ও নিয়োগ কার্যক্রমে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার বৈধতা, প্রকৃত শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সংখ্যা, পরিচালনা কমিটির গঠন, নিয়োগ প্রক্রিয়া, অর্থ লেনদেন এবং সরকারি স্বীকৃতি বা অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—সবকিছু তদন্ত করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে প্রশাসনিক পরিদর্শনের সময় বাইরে থেকে শিশু এনে শিক্ষার্থী উপস্থিতি দেখানোর অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনের জন্য প্রতিষ্ঠিত কোনো বিদ্যালয়ের কার্যক্রম যদি কাগজপত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে এটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়মের বিষয় নয়; এর সঙ্গে শিশুদের শিক্ষার অধিকার এবং সরকারি ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতার প্রশ্নও জড়িত।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেফালি খাতুনের কাছে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করা কঠিন হলেও তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার স্বামী সভাপতি থাকার বিষয়টিও সবার সম্মতিতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে প্রশাসনিক পরিদর্শনের দিন বাইরে থেকে শিশু এনে শ্রেণিকক্ষে বসানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি হিসেবে আব্দুল হাই দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ মিথ্যা। তিনি বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবেই শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মকর্তা আনছার আলী বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিদর্শনের বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংকন পাল বলেন, পরিদর্শনকালে বিদ্যালয়ের বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। অন্য স্থান থেকে শিশু এনে পরিদর্শকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়ে থাকলে তা চরম অন্যায়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, বিশেষায়িত বিদ্যালয়ের নামে কোনো ধরনের অনিয়ম, ভুয়া শিক্ষার্থী প্রদর্শন কিংবা নিয়োগ বাণিজ্যের সুযোগ নেই। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে শুধু সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই নয়, বিশেষায়িত শিক্ষার নামে ভবিষ্যতে এ ধরনের ‘কাগজের বিদ্যালয়’ গড়ে ওঠার পথও বন্ধ করবে প্রশাসন।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

লালপুরে পদ্মার চরে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শনে চীনের দল

কাউনিয়ায় ‘কাগজের বিদ্যালয়’! ১৩০ শিক্ষার্থীর দাবি, সরেজমিনে মিলল ভিন্ন চিত্র

আপডেট সময় ০৭:৪৩:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একটি সাইনবোর্ড আছে, টিনের একটি ঘরও আছে। সরকারি কাগজপত্রে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর হিসাব। কিন্তু বাস্তবে কোথায় সেই বিদ্যালয়, কোথায় শিক্ষার্থী-শিক্ষকের নিয়মিত পাঠদান—এমন প্রশ্নই উঠেছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের সাব্দী গ্রামের ‘শহীদবাগ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়’ ঘিরে।

২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে ১৩০ জন শিক্ষার্থী এবং একাধিক শিক্ষক রয়েছেন বলে দাবি করছে কর্তৃপক্ষ। তবে সরেজমিনে গিয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থী-শিক্ষকের উপস্থিতি, পাঠদান কিংবা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা কার্যক্রমের দৃশ্যমান চিত্র পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজপত্রে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সচল দেখানো হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এমনকি প্রশাসনিক পরিদর্শনের সময় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিত দেখাতে আশপাশের এলাকা থেকে সাধারণ শিশু এনে শ্রেণিকক্ষে বসানোর অভিযোগও উঠেছে।

শনিবার সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে একটি নিচু জায়গায় জরাজীর্ণ টিনের ঘর। ঘরের বাইরে বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড রয়েছে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষা উপকরণ, প্রশিক্ষণসামগ্রী কিংবা নিয়মিত পাঠদানের উপযোগী দৃশ্যমান পরিবেশ চোখে পড়েনি।

স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হয়—এমন দৃশ্য তারা সচরাচর দেখেন না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতিও তাদের চোখে পড়ে না।

অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক ১৩০ জন শিক্ষার্থী এবং বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম চালু থাকার কথা দাবি করলেও সরেজমিনে সেই দাবির সঙ্গে বাস্তব চিত্রের মিল পাওয়া যায়নি।

বিদ্যালয়টি নিয়ে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনিক পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংকন পাল বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসবেন—এমন খবর পাওয়ার পর আশপাশের এলাকা থেকে কয়েকজন সাধারণ শিশুকে এনে শ্রেণিকক্ষে বসানো হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিদর্শকদের সামনে বিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে—এমন একটি চিত্র তুলে ধরতেই এ ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাদের দাবি, ওই শিশুদের মধ্যে প্রকৃত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ছিল না এবং পরিদর্শন শেষ হওয়ার পর তাদের আর বিদ্যালয়ে দেখা যায়নি। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিদ্যালয়টি সরকারি স্বীকৃতি, এমপিওভুক্তি বা অনুদানের আওতায় আসবে—এমন আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগের নামে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রধান শিক্ষকের স্বামী আব্দুল হাইয়ের নাম থাকায় এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, স্বামী-স্ত্রীর প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা ও নিয়োগ কার্যক্রমে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার বৈধতা, প্রকৃত শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সংখ্যা, পরিচালনা কমিটির গঠন, নিয়োগ প্রক্রিয়া, অর্থ লেনদেন এবং সরকারি স্বীকৃতি বা অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—সবকিছু তদন্ত করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে প্রশাসনিক পরিদর্শনের সময় বাইরে থেকে শিশু এনে শিক্ষার্থী উপস্থিতি দেখানোর অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনের জন্য প্রতিষ্ঠিত কোনো বিদ্যালয়ের কার্যক্রম যদি কাগজপত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে এটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়মের বিষয় নয়; এর সঙ্গে শিশুদের শিক্ষার অধিকার এবং সরকারি ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতার প্রশ্নও জড়িত।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেফালি খাতুনের কাছে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করা কঠিন হলেও তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার স্বামী সভাপতি থাকার বিষয়টিও সবার সম্মতিতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে প্রশাসনিক পরিদর্শনের দিন বাইরে থেকে শিশু এনে শ্রেণিকক্ষে বসানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি হিসেবে আব্দুল হাই দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ মিথ্যা। তিনি বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবেই শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মকর্তা আনছার আলী বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিদর্শনের বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংকন পাল বলেন, পরিদর্শনকালে বিদ্যালয়ের বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। অন্য স্থান থেকে শিশু এনে পরিদর্শকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়ে থাকলে তা চরম অন্যায়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, বিশেষায়িত বিদ্যালয়ের নামে কোনো ধরনের অনিয়ম, ভুয়া শিক্ষার্থী প্রদর্শন কিংবা নিয়োগ বাণিজ্যের সুযোগ নেই। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে শুধু সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই নয়, বিশেষায়িত শিক্ষার নামে ভবিষ্যতে এ ধরনের ‘কাগজের বিদ্যালয়’ গড়ে ওঠার পথও বন্ধ করবে প্রশাসন।