ভূমিকম্পের আঘাত কাটিয়ে ওঠার আগেই ফের কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া: জরুরি অবস্থার মধ্যেই ৫.৯ মাত্রার ভূকম্পন
বিধ্বংসী ভূমিকম্পের ক্ষত শুকানোর আগেই আবারও শক্তিশালী ভূকম্পনে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের ফ্লোরেস অঞ্চল। জার্মানির ভূতত্ত্ব গবেষণা সংস্থা (GFZ)-এর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ আঘাত হানা এই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৯। এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্টি হয়েছিল।
এর আগে, গত শনিবার (১৫ আগস্ট) অঞ্চলটিতে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। সেই সময় প্রধান কম্পনের পর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আরও ৩৪১টি আফটারশক বা পরাঘাত অনুভূত হয়। ওই ভয়াবহ দুর্যোগের কেন্দ্রস্থলও ছিল ফ্লোরেস অঞ্চল এবং এর গভীরতাও ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার (BNPB) তথ্যমতে, পূর্ববর্তী এই ভূমিকম্পে ধসে পড়া বিভিন্ন ঘরবাড়ি ও ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত ৫৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চলায় প্রাণহানির এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের ধাক্কা এখানেই শেষ হয়নি। প্রথম বড় ভূকম্পনের মাত্র ১২ ঘণ্টার মাথায় (শনিবার সন্ধ্যা ৫টা ৫৪ মিনিটে) দেশের উত্তর সুমাত্রা প্রদেশে ৬.৯ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেমাতাংসিয়ানতার শহর থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ভূপৃষ্ঠের ১৮৩.২ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তিস্থল ছিল।
টানা ভূমিকম্পে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রোববার পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রাদেশিক সরকার ওই অঞ্চলে ১৪ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। কিন্তু জরুরি অবস্থা জারির পরদিন সোমবারই ফ্লোরেস অঞ্চলে ফের ৫.৯ মাত্রার নতুন এই ভূকম্পন অনুভূত হলো, যা স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সূত্র : এনডিটিভি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট/ এসএমডব্লিউে।

























