চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানাধীন দশমীপাড়া গ্রামে মাদ্রাসার নামে ভুয়া রশিদ তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা উত্তোলনের অভিযোগে তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ঘটনার পর সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতে উপস্থাপন করা হলে আদালত তিনজনকেই কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
জানা গেছে, ৫ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার দামুড়হুদা থানাধীন দশমীপাড়া গ্রামের মালেক সুপার মার্কেটে আব্দুল খালিদ (৩৪)-এর গার্মেন্টস দোকানের ভিতরে মাদ্রাসার নামে তৈরি করা ভুয়া রশিদ ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করছিলেন তিন ব্যক্তি। বিষয়টি স্থানীয় জনগণের সন্দেহ হলে তারা তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে হেফাজতে নেয়।
আটককৃতরা হলেন—
১. মোঃ খালেদ মন্ডল (৩২), পিতা—মোঃ খাইরুল ইসলাম, সাং—পাইকুর দাড়িয়া, থানা—আক্কেলপুর, জেলা—জয়পুরহাট।
২. মোঃ সোহেল আলম (৩৯), পিতা—মৃত আবুল হোসেন, সাং—দক্ষিণ কুননগর, থানা—নালিতাবাড়ি, জেলা—শেরপুর।
৩. মোঃ ওলিউল্লাহ (২৫), পিতা—মোঃ তাইজউদ্দিন, সাং—ধনতা, থানা—ফুলপুর, জেলা—ময়মনসিংহ।
পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার পর আসামিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে তাদের সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচারের জন্য বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত) আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত তিন আসামির প্রত্যেককে ১৫ (পনের) দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১,০০০ (এক হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ৩ (তিন) দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালত আদেশ দেন।
মাদ্রাসার নামে ভুয়া রশিদ তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।































