পাবনার ভাঙ্গুড়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম হাসনাইন রাসেল এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বশির আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম।
ডিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে ঢাকার মিরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাঁদের গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের পাবনা জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার গোলাম হাসনাইন রাসেল পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের বড় ছেলে। তিনি ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। অপরদিকে গ্রেপ্তার বশির আহমেদ উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং স্থানীয় এপিক প্রিন্টার্সের মালিক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাসেল ও তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। সে সময় বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন-পীড়ন এবং নিজ দলের ভিন্নমতের নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করার অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রাসেল বা তাঁর আইনজীবীর কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর ও চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে আলোচিত ছিল। যদিও এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ডিবি পুলিশ জানায়, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে রাসেল আত্মগোপনে ছিলেন। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ঢাকার মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর তাঁদের পাবনা ডিবি কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গোলাম হাসনাইন রাসেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য বিষয়ও তদন্তাধীন রয়েছে।”
গ্রেপ্তারের খবরে ভাঙ্গুড়া উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

























