, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
টেকনাফে পাঁচ দিন পর অপহৃত সিএনজি চালক উদ্ধার বড়লেখায় ইতালি প্রবাসী মোঃ সানু মিয়াকে ক্রেস্ট দেন, ভোলার কান্দি ইনকিলাব সমাজ কল্যাণ পরিষদ এর পক্ষে থেকে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি উৎসব অনুষ্ঠিত।। ‎ ‎গলাচিপা পক্ষিয়ায় খাল পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী নুরুল ফুলের মালায় বরণ হিন্দু সম্প্রদায়ের মসজিদ নির্মাণে সহযোগিতা চান বাসিন্দারা চৌদ্দগ্রামের আলকরায় মন্নান ট্রাফিকের বাড়িতে কাজ করার সময় রং মেস্তরীর মৃত্যু সেন্টমার্টিনে অবৈধ ট্রলিং বোটসহ ১৭ জেলে আটক বেসরকারি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে বাকৃবিতে মতবিনিময় সভা ভাঙ্গুড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান দুই অপারেশনে শেষ সম্বল শেষ, অসুস্থ দুই বছরের সাজিদের চিকিৎসায় মানবিক সহায়তার আবেদন

মালয়েশিয়ায় মাটিধসে নিহত শরিফুল ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে

  • Avatar photo মোঃ ছাইম খাঁন
  • আপডেট সময় ০২:২২:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 1
২

পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে তিন বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার তরুণ শরিফুল ইসলাম ফকির (২৬)। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। নির্মাণাধীন প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে মাটিধসে প্রাণ হারিয়ে কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন শরিফুল।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে মালয়েশিয়ায় একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে কাজ করার সময় মাটিধসে চাপা পড়ে নিহত হন তিনি। মৃত্যুর আগের রাতেও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন শরিফুল। জানিয়েছিলেন, কোরবানির ঈদের ছুটিতে দেশে ফিরে বিয়ে করবেন। সেই স্বপ্নের কথা শুনে অপেক্ষায় ছিল পরিবার। অথচ বিয়ের বদলে নিথর মরদেহ হয়ে ফিরতে হলো তাকে।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে এখন দিশেহারা স্বজনরা। প্রিয় সন্তানকে হারানোর শোকে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন শরিফুলের মা ও পরিবারের সদস্যরা।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মিডিয়ায় শরিফুলের মৃত্যুর খবর প্রচারের পর বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

অবশেষে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা ৪৯ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় মালয়েশিয়ায় মাটিধসে নিহত শরিফুল ইসলামের মরদেহবাহী কফিন। শনিবার সকালে কফিনবন্দি মরদেহটি তার নিজ গ্রাম টুঙ্গিপাড়ার বর্ণিতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। মুহূর্তেই শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বর্ণির পরিবেশ। যে সন্তান পরিবারের স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন, সেই সন্তানই ফিরলেন নিথর দেহে—কফিনবন্দি হয়ে মায়ের কোলে।

পরে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সকাল ১০:০০টায় জানাজা শেষে শরিফুল ইসলাম ফকিরকে স্থানীয় বর্ণি পূর্বপাড়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

শরিফুলের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া এক তরুণের এমন করুণ পরিণতিতে শোকাহত পুরো এলাকাবাসী।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

টেকনাফে পাঁচ দিন পর অপহৃত সিএনজি চালক উদ্ধার

মালয়েশিয়ায় মাটিধসে নিহত শরিফুল ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে

আপডেট সময় ০২:২২:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২

পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে তিন বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার তরুণ শরিফুল ইসলাম ফকির (২৬)। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। নির্মাণাধীন প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে মাটিধসে প্রাণ হারিয়ে কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন শরিফুল।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে মালয়েশিয়ায় একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে কাজ করার সময় মাটিধসে চাপা পড়ে নিহত হন তিনি। মৃত্যুর আগের রাতেও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন শরিফুল। জানিয়েছিলেন, কোরবানির ঈদের ছুটিতে দেশে ফিরে বিয়ে করবেন। সেই স্বপ্নের কথা শুনে অপেক্ষায় ছিল পরিবার। অথচ বিয়ের বদলে নিথর মরদেহ হয়ে ফিরতে হলো তাকে।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে এখন দিশেহারা স্বজনরা। প্রিয় সন্তানকে হারানোর শোকে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন শরিফুলের মা ও পরিবারের সদস্যরা।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মিডিয়ায় শরিফুলের মৃত্যুর খবর প্রচারের পর বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

অবশেষে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা ৪৯ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় মালয়েশিয়ায় মাটিধসে নিহত শরিফুল ইসলামের মরদেহবাহী কফিন। শনিবার সকালে কফিনবন্দি মরদেহটি তার নিজ গ্রাম টুঙ্গিপাড়ার বর্ণিতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। মুহূর্তেই শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বর্ণির পরিবেশ। যে সন্তান পরিবারের স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন, সেই সন্তানই ফিরলেন নিথর দেহে—কফিনবন্দি হয়ে মায়ের কোলে।

পরে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সকাল ১০:০০টায় জানাজা শেষে শরিফুল ইসলাম ফকিরকে স্থানীয় বর্ণি পূর্বপাড়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

শরিফুলের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া এক তরুণের এমন করুণ পরিণতিতে শোকাহত পুরো এলাকাবাসী।