, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শেরপুরে রোড নিবন্ধন ফি অর্ধেক ও চেকপোস্টে সিরিয়াল চেকিংয়ের দাবিতে মানববন্ধন কাউনিয়ায় KICHIP প্রকল্পের কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটরদের মাঝে স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় অশ্রুসিক্ত বিদায়, দেবীগঞ্জে শিক্ষক হাসিনাতুজ্জাকিয়া বানুকে সংবর্ধনা ব্যক্তিগত ইমেজ নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম সুজার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ভাইভা দিতে ঢাকায় আসা হলো না মিশার, সড়কেই থামল স্বপ্নযাত্রা” ঘাটে এসেও ভিড়তে পারল না ফেরি ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান’, প্রবল স্রোতে ভোগান্তিতে যাত্রী-চালক মালয়েশিয়া পা-চা-রের জন্য জড়ো করা হয়েছিল ৫ জনকে, উ-দ্ধা-র করল র‌্যাব পঞ্চগড়ে যুব জাগপা’র ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ওয়ারিশি সম্পত্তির দখল নিয়ে বিরোধ, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হু-ম-কি ধামকির অভিযোগ বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির আ-ত্ম-হ-ত্যা, স্বামীসহ ৬ জনের নামে থানায় মা-ম-লা

ভাঙ্গুড়ায় দলিলের শর্ত না মেনে ৩০ বছরের পুরোনো তিন মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

ভাঙ্গুড়ায় দলিলের শর্ত না মেনে ৩০ বছরের পুরোনো তিন মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

১৫

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় পূর্বের রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের শর্ত পূরণ না করে প্রায় ৩০ বছর বয়সী তিনটি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ছাইফুল ইসলাম গংদের বিরুদ্ধে। উপজেলার ভাঙ্গুড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মেন্দা শাহাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জমির মালিক দাবিদার ছাইদুর রহমান নাসির বাদী হয়ে ছাইফুল ইসলাম গংদের বিরুদ্ধে ভাঙ্গুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ ও রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, ভাঙ্গুড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মেন্দা শাহাপাড়া এলাকায় ছাইদুর রহমান ১৯৯৯ সালের দিকে ৪৫০০ দাগে ৩৭ শতক জমি ক্রয়সূত্রে মালিক হন। জমিটির খাজনা-খারিজও হালনাগাদ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালের দিকে ৩০৯ নম্বর দলিলের মাধ্যমে একই জমির উত্তর দিক থেকে পূর্ব-পশ্চিম লম্বা করে ১০ শতক জমি তার আপন ছোট ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করেন ছাইদুর রহমান। দলিলে জমিটির উত্তর দিকের অবস্থান উল্লেখ করা হয় বলে জানা গেছে।

এর কয়েক বছর পর মায়ের চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহের জন্য ছাইদুর রহমান ২০২১ সালে ১৪৯ নম্বর দলিলের মাধ্যমে মূল সম্পত্তির উত্তর দিক থেকে আরও ৫ শতক জমি সাজেদা খাতুনের কাছে বিক্রি করেন। তবে অভিযোগকারীর দাবি, সাজেদা খাতুন ওই জমিতে কখনো দখলে যাননি। পরে তিনি সাংসারিক প্রয়োজনে সম্প্রতি ওই জমি ছাইফুল ইসলাম গংদের কাছে বিক্রি করেন।

অভিযোগকারীর দাবি, পরবর্তীতে ছাইফুল ইসলাম গং ২০০৯ সালের দলিলে তার ছোট ভাইকে দেওয়া উত্তর দিকের ১০ শতক জমির ওপর থাকা তাদের রোপণ করা প্রায় ৩০ বছর বয়সী তিনটি মেহগনি গাছ কাটতে যান। এতে ছাইদুর রহমান বাধা দেন। কিন্তু তার বাধা উপেক্ষা করে মেশিনের সাহায্যে অল্প সময়ের মধ্যে গাছ তিনটি কেটে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ছাইদুর রহমান বলেন, “২০০৯ সালের ৩০৯ নম্বর দলিলের শর্ত অনুযায়ী জমি বুঝে নেওয়ার পর ২০২১ সালের ১৪৯ নম্বর দলিলের শর্ত অনুযায়ী ৫ শতক জমি বুঝে নিতে বলেছি। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আগের দলিলের শর্ত উপেক্ষা করে গাছ কাটার ঘটনায় বাধ্য হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।”

তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালের দলিল অনুযায়ী তার ছোট ভাইয়ের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর অবশিষ্ট জমি থেকে ২০২১ সালের দলিল অনুযায়ী ৫ শতক জমি বুঝে নিলে তার কোনো আপত্তি নেই।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, একই দাগের জমি একাধিকবার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে পূর্বের দলিলের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ছাইফুল ইসলাম গংয়ের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

শেরপুরে রোড নিবন্ধন ফি অর্ধেক ও চেকপোস্টে সিরিয়াল চেকিংয়ের দাবিতে মানববন্ধন

ভাঙ্গুড়ায় দলিলের শর্ত না মেনে ৩০ বছরের পুরোনো তিন মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৫

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় পূর্বের রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের শর্ত পূরণ না করে প্রায় ৩০ বছর বয়সী তিনটি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ছাইফুল ইসলাম গংদের বিরুদ্ধে। উপজেলার ভাঙ্গুড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মেন্দা শাহাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জমির মালিক দাবিদার ছাইদুর রহমান নাসির বাদী হয়ে ছাইফুল ইসলাম গংদের বিরুদ্ধে ভাঙ্গুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ ও রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, ভাঙ্গুড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মেন্দা শাহাপাড়া এলাকায় ছাইদুর রহমান ১৯৯৯ সালের দিকে ৪৫০০ দাগে ৩৭ শতক জমি ক্রয়সূত্রে মালিক হন। জমিটির খাজনা-খারিজও হালনাগাদ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালের দিকে ৩০৯ নম্বর দলিলের মাধ্যমে একই জমির উত্তর দিক থেকে পূর্ব-পশ্চিম লম্বা করে ১০ শতক জমি তার আপন ছোট ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করেন ছাইদুর রহমান। দলিলে জমিটির উত্তর দিকের অবস্থান উল্লেখ করা হয় বলে জানা গেছে।

এর কয়েক বছর পর মায়ের চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহের জন্য ছাইদুর রহমান ২০২১ সালে ১৪৯ নম্বর দলিলের মাধ্যমে মূল সম্পত্তির উত্তর দিক থেকে আরও ৫ শতক জমি সাজেদা খাতুনের কাছে বিক্রি করেন। তবে অভিযোগকারীর দাবি, সাজেদা খাতুন ওই জমিতে কখনো দখলে যাননি। পরে তিনি সাংসারিক প্রয়োজনে সম্প্রতি ওই জমি ছাইফুল ইসলাম গংদের কাছে বিক্রি করেন।

অভিযোগকারীর দাবি, পরবর্তীতে ছাইফুল ইসলাম গং ২০০৯ সালের দলিলে তার ছোট ভাইকে দেওয়া উত্তর দিকের ১০ শতক জমির ওপর থাকা তাদের রোপণ করা প্রায় ৩০ বছর বয়সী তিনটি মেহগনি গাছ কাটতে যান। এতে ছাইদুর রহমান বাধা দেন। কিন্তু তার বাধা উপেক্ষা করে মেশিনের সাহায্যে অল্প সময়ের মধ্যে গাছ তিনটি কেটে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ছাইদুর রহমান বলেন, “২০০৯ সালের ৩০৯ নম্বর দলিলের শর্ত অনুযায়ী জমি বুঝে নেওয়ার পর ২০২১ সালের ১৪৯ নম্বর দলিলের শর্ত অনুযায়ী ৫ শতক জমি বুঝে নিতে বলেছি। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আগের দলিলের শর্ত উপেক্ষা করে গাছ কাটার ঘটনায় বাধ্য হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।”

তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালের দলিল অনুযায়ী তার ছোট ভাইয়ের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর অবশিষ্ট জমি থেকে ২০২১ সালের দলিল অনুযায়ী ৫ শতক জমি বুঝে নিলে তার কোনো আপত্তি নেই।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, একই দাগের জমি একাধিকবার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে পূর্বের দলিলের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ছাইফুল ইসলাম গংয়ের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।