, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শেরপুরে রোড নিবন্ধন ফি অর্ধেক ও চেকপোস্টে সিরিয়াল চেকিংয়ের দাবিতে মানববন্ধন কাউনিয়ায় KICHIP প্রকল্পের কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটরদের মাঝে স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় অশ্রুসিক্ত বিদায়, দেবীগঞ্জে শিক্ষক হাসিনাতুজ্জাকিয়া বানুকে সংবর্ধনা ব্যক্তিগত ইমেজ নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম সুজার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ভাইভা দিতে ঢাকায় আসা হলো না মিশার, সড়কেই থামল স্বপ্নযাত্রা” ঘাটে এসেও ভিড়তে পারল না ফেরি ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান’, প্রবল স্রোতে ভোগান্তিতে যাত্রী-চালক মালয়েশিয়া পা-চা-রের জন্য জড়ো করা হয়েছিল ৫ জনকে, উ-দ্ধা-র করল র‌্যাব পঞ্চগড়ে যুব জাগপা’র ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ওয়ারিশি সম্পত্তির দখল নিয়ে বিরোধ, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হু-ম-কি ধামকির অভিযোগ বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির আ-ত্ম-হ-ত্যা, স্বামীসহ ৬ জনের নামে থানায় মা-ম-লা

বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির আ-ত্ম-হ-ত্যা, স্বামীসহ ৬ জনের নামে থানায় মা-ম-লা

বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির আত্মহত্যা, স্বামীসহ ৬ জনের নামে থানায় মামলা

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির (২২) আত্মহত্যার ঘটনায় স্বামী, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর ও জাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যৌতুকের পাঁচ লাখ টাকা ও ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে মুন্নি আত্মহত্যা করেছেন বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

গত ২১ আগস্ট উপজেলার মুড়িরগুল এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে মুন্নির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা—এ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা হয়। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর গতকাল ৫ সেপ্টেম্বর রাতে মুন্নির মা মোছা. রেনু বেগম বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় মামলা করেন।

মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে মুড়িরগুল এলাকার মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে লাভলু আহমদের সঙ্গে মুন্নির বিয়ে হয়। তাঁদের আড়াই বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। লাভলু বর্তমানে সৌদি আরবে থাকেন।

মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। ওই টাকা দিয়ে লাভলু সৌদি আরবে গাড়ি কিনবেন বলে মুন্নিকে চাপ দেওয়া হতো। টাকা দিতে না পারায় তাঁকে বিভিন্ন সময় গালিগালাজ ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, শ্বশুরবাড়ির লোকজন মুন্নিকে বিভিন্ন ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা তুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। একপর্যায়ে মুন্নির বাবা জামিনদার হয়ে তাঁর নামে একটি বেসরকারি ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে দেন। পরে ওই ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে মুন্নির ওপর আবারও চাপ সৃষ্টি করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন ২১ আগস্ট মুন্নিকে পিত্রালয় থেকে টাকা এনে ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হয়। তিনি টাকা দিতে অপারগতা জানালে তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। এ সময় নির্যাতনের কিছু অডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়েছিলেন মুন্নি। তাঁর মায়ের দাবি, স্বামীর কাছ থেকেও ফোনে হুমকি ও মানসিক চাপ দেওয়া হতো।

পরে ওই দিন দুপুরের দিকে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি মুন্নির বাবাকে ফোন করে তাঁর মৃত্যুর খবর দেন। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মুন্নিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়।

মুন্নির মা রেনু বেগমের অভিযোগ, মেয়ের লাশ গোসল করানোর সময় তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। নির্যাতনের অডিও ও ভিডিও তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দীর্ঘদিনের নির্যাতন, মানসিক যন্ত্রণা ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার কারণে মুন্নি এ পথ বেছে নেন।

এর আগে মুন্নির বাবা মকবুল আলী বড়লেখা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছিলেন। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর মা লিখিত অভিযোগ করেন।

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

শেরপুরে রোড নিবন্ধন ফি অর্ধেক ও চেকপোস্টে সিরিয়াল চেকিংয়ের দাবিতে মানববন্ধন

বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির আ-ত্ম-হ-ত্যা, স্বামীসহ ৬ জনের নামে থানায় মা-ম-লা

আপডেট সময় ১২:৪৩:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির (২২) আত্মহত্যার ঘটনায় স্বামী, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর ও জাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যৌতুকের পাঁচ লাখ টাকা ও ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে মুন্নি আত্মহত্যা করেছেন বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

গত ২১ আগস্ট উপজেলার মুড়িরগুল এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে মুন্নির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা—এ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা হয়। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর গতকাল ৫ সেপ্টেম্বর রাতে মুন্নির মা মোছা. রেনু বেগম বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় মামলা করেন।

মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে মুড়িরগুল এলাকার মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে লাভলু আহমদের সঙ্গে মুন্নির বিয়ে হয়। তাঁদের আড়াই বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। লাভলু বর্তমানে সৌদি আরবে থাকেন।

মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। ওই টাকা দিয়ে লাভলু সৌদি আরবে গাড়ি কিনবেন বলে মুন্নিকে চাপ দেওয়া হতো। টাকা দিতে না পারায় তাঁকে বিভিন্ন সময় গালিগালাজ ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, শ্বশুরবাড়ির লোকজন মুন্নিকে বিভিন্ন ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা তুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। একপর্যায়ে মুন্নির বাবা জামিনদার হয়ে তাঁর নামে একটি বেসরকারি ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে দেন। পরে ওই ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে মুন্নির ওপর আবারও চাপ সৃষ্টি করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন ২১ আগস্ট মুন্নিকে পিত্রালয় থেকে টাকা এনে ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হয়। তিনি টাকা দিতে অপারগতা জানালে তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। এ সময় নির্যাতনের কিছু অডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়েছিলেন মুন্নি। তাঁর মায়ের দাবি, স্বামীর কাছ থেকেও ফোনে হুমকি ও মানসিক চাপ দেওয়া হতো।

পরে ওই দিন দুপুরের দিকে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি মুন্নির বাবাকে ফোন করে তাঁর মৃত্যুর খবর দেন। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মুন্নিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়।

মুন্নির মা রেনু বেগমের অভিযোগ, মেয়ের লাশ গোসল করানোর সময় তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। নির্যাতনের অডিও ও ভিডিও তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দীর্ঘদিনের নির্যাতন, মানসিক যন্ত্রণা ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার কারণে মুন্নি এ পথ বেছে নেন।

এর আগে মুন্নির বাবা মকবুল আলী বড়লেখা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছিলেন। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর মা লিখিত অভিযোগ করেন।

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।