রূপালী মৎস্য স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ—এই স্লোগানকে সামনে রেখে মাদারীপুরের শিবচরে শুরু হয়েছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬। ১৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে রোজ রবিবার আরিয়াল খাঁ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য দপ্তরের বাস্তবায়নে এক বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।
১৬ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং অবৈধ উপায়ে মাছ শিকার রোধে কঠোর বার্তা দেন। মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী ‘চায়না দুয়ারী’ জাল ও ‘হিট মেশিন’ ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, স্বল্প সময়ে বেশি লাভের আশায় একটি অসাধু চক্র চায়না দুয়ারী ব্যবহার করে যাচ্ছে। তবে আমাদের বিশ্বাস, সচেতন নাগরিকরা এই ক্ষতিকর জাল ব্যবহার করেন না। যারা এই অপরাধের সাথে জড়িত, তাদের সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে। কোথাও হিট মেশিন দিয়ে মাছ ধরার সংবাদ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে মৎস্য কর্মকর্তা, থানা পুলিশ বা ইউএনও মহোদয়কে জানান।
তথ্য পাওয়ার সাথে সাথেই অভিযান পরিচালনা করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। গত ১১ আগস্ট এমন অপরাধে ৪ জনকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে, তাই কেউ যেন আর এই অবৈধ উপায়ে নদীতে নামার সাহস না পায়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান তাঁর বক্তব্যে মৎস্য খাতের বর্তমান বড় দুই চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে বলেন, আমাদের বর্তমান মৎস্য খাতের এক নম্বর সমস্যা হলো ‘চায়না দুয়ারী জাল’ এবং দ্বিতীয়টি হলো ‘হিট সিস্টেম’। এই জালগুলোর কারণে মৎস্যক্ষেত্রের বায়োডাইভার্সিটি বা জীববৈচিত্র্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৪ জনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। মানবিক কারণে সেবার তাদের জেল দেওয়া হয়নি। তবে সতর্ক করে দিচ্ছি—এরপর থেকে কোনো অভিযানে চায়না দুয়ারী ব্যবহারকারী বা হিট দিয়ে মাছ শিকারী পাওয়া গেলে আর কোনো আর্থিক জরিমানা করা হবে না, সরাসরি তাদের জেল দেওয়া হবে।
মাছ চাষের বিভিন্ন অনিয়ম প্রসঙ্গে ইউএনও আরও বলেন, মাছকে অস্বাস্থ্যকর ও নিষিদ্ধ খাবার, যেমন মুরগির নাড়ি-ভুঁড়ি বা বর্জ্য খাওয়ানো হচ্ছে বলে আমাদের কাছে অভিযোগ আসে। খবর পাওয়া মাত্রই আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। এমন কোনো কাজ করা যাবে না যা আমাদের মৎস্য খাতের অগ্রযাত্রাকে থমকে দেয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তিনি দূরদূরান্ত থেকে আসা মৎস্যজীবী ও চাষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জাতীয় মৎস্য পক্ষের সার্বিক সাফল্য কামনা করে অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

























