, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
চরভদ্রাসনে কানাইরটেকে গরু চুরির ঘটনায় চোর সন্দেহে আটক দুইজন আদালতে প্রেরণ, উদ্ধার হয়নি চুরি যাওয়া গরু ফরিদপুরে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, ৩৩ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার-নগদ লুট সদরপুরে খোলা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট,হয়ে, নির্মাণ শ্রমিক নিহত দৌলতদিয়ায় বিবাহিত বনাম অবিবাহিত দলের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত নাটোরের বড়াইগ্রামে পুকুরে গোসল করতে নেমে স্কুলছাত্রের মৃত্যু শ্রীবরদীতে ১৮ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ করল বিজিবি বাহাদুরপুরে চুরির সময় জনতার হাতে চোর আটক রাণীশংকৈলে মির্জা রুহুল আমিন স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টূর্নামেন্টের উদ্বোধন গোপালগঞ্জে ১৫ আগস্ট ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা, মোতায়েন পাঁচ প্লাটুন বিজিবি কুড়িগ্রামে বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন

ফরিদপুরে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, ৩৩ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার-নগদ লুট

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বড় মাধবপুর এলাকায় কুয়েতপ্রবাসী এক ব্যক্তির বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে প্রায় ৫০ মিনিট ধরে লুটপাট চালিয়ে ১৪ ভরি স্বর্ণালংকার, প্রায় ১৩ ভরি রুপার গহনা ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল। লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।

ঘটনাটি বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে বড় মাধবপুর এলাকায় ঘটে।

কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুয়েতপ্রবাসী হেলাল ভূঁইয়ার স্ত্রী তানিয়া আক্তার (৩৫), দুই ছেলে সাবিত ভূঁইয়া (১২) ও নাশাত ভূঁইয়া (৮) এবং শাশুড়ি শেফালী বেগম (৭০) ওই বাড়িতে বসবাস করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা বাড়ির লোহার কেচি গেটে দুটি তালা লাগিয়ে এবং মূল দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন।

রাত আনুমানিক ১টার দিকে ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল গেটের দুটি তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে ৫-৬ জন ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে এবং অন্যরা বাইরে পাহারা দেয়। ডাকাতদের হাতে পিস্তল, রামদা, চাপাতি, ছ্যানদা ও চাইনিজ কুড়াল ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন মুখে মাস্ক পরা ছিল।

ডাকাতরা বৃদ্ধা শেফালী বেগম ও তার নাতি সাবিত ভূঁইয়ার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে সবাইকে চুপ থাকতে বলে এবং চিৎকার করলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। পরে আলমারির চাবি নিয়ে দুটি স্টিলের আলমারি খুলে ১৪ ভরি স্বর্ণালংকার, প্রায় ১৩ ভরি রুপার গহনা এবং নগদ ২৫ হাজার টাকা লুট করে।

এজাহার অনুযায়ী, লুট হওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকা, রুপার গহনার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং নগদ টাকাসহ মোট লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।

প্রায় ৫০ মিনিট ধরে লুটপাট চালানোর পর ডাকাতরা বাইরে থেকে দরজায় হ্যাজবোল্ট লাগিয়ে পরিবারের সদস্যদের ঘরের ভেতরে আটকে রেখে পালিয়ে যায়। পরে শেফালী বেগম মোবাইল ফোনে তার জামাতা মো. আঃ হাকিম মিয়াকে বিষয়টি জানালে তিনি ঘটনাস্থলে এসে দরজা খুলে পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করেন।

এদিকে প্রতিবেশী জালিল ভূঁইয়া জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।

এ ঘটনায় মো. আঃ হাকিম মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনার পর বড় মাধবপুর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং এলাকায় পুলিশের টহল ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

চরভদ্রাসনে কানাইরটেকে গরু চুরির ঘটনায় চোর সন্দেহে আটক দুইজন আদালতে প্রেরণ, উদ্ধার হয়নি চুরি যাওয়া গরু

ফরিদপুরে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, ৩৩ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার-নগদ লুট

আপডেট সময় ১১:২৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বড় মাধবপুর এলাকায় কুয়েতপ্রবাসী এক ব্যক্তির বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে প্রায় ৫০ মিনিট ধরে লুটপাট চালিয়ে ১৪ ভরি স্বর্ণালংকার, প্রায় ১৩ ভরি রুপার গহনা ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল। লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।

ঘটনাটি বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে বড় মাধবপুর এলাকায় ঘটে।

কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুয়েতপ্রবাসী হেলাল ভূঁইয়ার স্ত্রী তানিয়া আক্তার (৩৫), দুই ছেলে সাবিত ভূঁইয়া (১২) ও নাশাত ভূঁইয়া (৮) এবং শাশুড়ি শেফালী বেগম (৭০) ওই বাড়িতে বসবাস করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা বাড়ির লোহার কেচি গেটে দুটি তালা লাগিয়ে এবং মূল দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন।

রাত আনুমানিক ১টার দিকে ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল গেটের দুটি তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে ৫-৬ জন ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে এবং অন্যরা বাইরে পাহারা দেয়। ডাকাতদের হাতে পিস্তল, রামদা, চাপাতি, ছ্যানদা ও চাইনিজ কুড়াল ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন মুখে মাস্ক পরা ছিল।

ডাকাতরা বৃদ্ধা শেফালী বেগম ও তার নাতি সাবিত ভূঁইয়ার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে সবাইকে চুপ থাকতে বলে এবং চিৎকার করলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। পরে আলমারির চাবি নিয়ে দুটি স্টিলের আলমারি খুলে ১৪ ভরি স্বর্ণালংকার, প্রায় ১৩ ভরি রুপার গহনা এবং নগদ ২৫ হাজার টাকা লুট করে।

এজাহার অনুযায়ী, লুট হওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকা, রুপার গহনার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং নগদ টাকাসহ মোট লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।

প্রায় ৫০ মিনিট ধরে লুটপাট চালানোর পর ডাকাতরা বাইরে থেকে দরজায় হ্যাজবোল্ট লাগিয়ে পরিবারের সদস্যদের ঘরের ভেতরে আটকে রেখে পালিয়ে যায়। পরে শেফালী বেগম মোবাইল ফোনে তার জামাতা মো. আঃ হাকিম মিয়াকে বিষয়টি জানালে তিনি ঘটনাস্থলে এসে দরজা খুলে পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করেন।

এদিকে প্রতিবেশী জালিল ভূঁইয়া জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।

এ ঘটনায় মো. আঃ হাকিম মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনার পর বড় মাধবপুর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং এলাকায় পুলিশের টহল ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।