, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আখেরী চাঁহার সোম্বা আজ

আখেরী চাঁহার সোম্বা আজ

১০

আঁখেরি চাহার সোম্বা হলো আরবি হিজরি সনের সফর মাসের শেষ বুধবার। ‘আখেরি’ অর্থ শেষ, ‘চাহার’ অর্থ চার বা সফর মাস এবং ‘সোম্বা’ অর্থ বুধবার। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) জীবনের শেষভাগে দীর্ঘ অসুস্থতার পর এই দিনে কিছুটা সুস্থতা বোধ করেছিলেন। ভারতীয় উপমহাদেশে তথা মুসলিম বিশ্বে দিনটি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়।

শব্দগত অর্থ ও পটভূমি:
নামের অর্থ: ফারসি ও আরবি শব্দ মিলে গঠিত যার পূর্ণ অর্থ “সফর মাসের শেষ বুধবার”।

ঐতিহাসিক ধারণা: রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনের অন্তিম পর্যায়ে অসুস্থতা থেকে কিছুটা সুস্থ হয়ে গোসল করেছিলেন এবং মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করেছিলেন—এমন বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে দিনটি শুকরিয়া বা রোগমুক্তির দিবস হিসেবে পালিত হয়।

প্রচলিত আমল ও উদযাপনঃ
অনেকে এ দিনে শুকরিয়া স্বরূপ নফল নামাজ (শুকরানার নফল সালাত) আদায় করেন। রোগমুক্তি ও কল্যাণ কামনায় দান-সদকা বা খয়রাত করা হয়।
বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও খানকায় মিলাদ মাহফিল, জিকির-আজকার ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে দিনটি উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ বা ঐচ্ছিক ছুটি থাকে অর্থাৎ এই দিনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ বন্ধ থাকে।

ইসলামী শরীআতের দৃষ্টিভঙ্গিঃ
গবেষক ও উলামায়ে কেরামের মতে, কোরআন ও সহিহ হাদিসে আখেরি চাহার সোম্বা পালনের পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো বড় ফজিলত বা বিশেষ ইবাদতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই তবে, সাহাবায়ে কেরাম বা তাবেঈনদের যুগে এই দিনটিকে উৎসব বা প্রথা হিসেবে পালনের কোনো প্রমাণও পাওয়া যায় নি।

ইসলামে নতুন কোনো ইবাদত বা প্রথা সংযোজনকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে, তবে সাধারণ নফল ইবাদত, দান-সদকা ও দোয়া যেকোনো সময়েই করা যায়, যার জন্য বিশেষ দিন বা ক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নাই।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

আরডিএ মার্কেট পরিদর্শনে চেয়ারম্যান, আধুনিক মার্কেট গড়ার আশ্বাস

আখেরী চাঁহার সোম্বা আজ

আপডেট সময় ০৫:১৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
১০

আঁখেরি চাহার সোম্বা হলো আরবি হিজরি সনের সফর মাসের শেষ বুধবার। ‘আখেরি’ অর্থ শেষ, ‘চাহার’ অর্থ চার বা সফর মাস এবং ‘সোম্বা’ অর্থ বুধবার। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) জীবনের শেষভাগে দীর্ঘ অসুস্থতার পর এই দিনে কিছুটা সুস্থতা বোধ করেছিলেন। ভারতীয় উপমহাদেশে তথা মুসলিম বিশ্বে দিনটি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়।

শব্দগত অর্থ ও পটভূমি:
নামের অর্থ: ফারসি ও আরবি শব্দ মিলে গঠিত যার পূর্ণ অর্থ “সফর মাসের শেষ বুধবার”।

ঐতিহাসিক ধারণা: রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনের অন্তিম পর্যায়ে অসুস্থতা থেকে কিছুটা সুস্থ হয়ে গোসল করেছিলেন এবং মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করেছিলেন—এমন বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে দিনটি শুকরিয়া বা রোগমুক্তির দিবস হিসেবে পালিত হয়।

প্রচলিত আমল ও উদযাপনঃ
অনেকে এ দিনে শুকরিয়া স্বরূপ নফল নামাজ (শুকরানার নফল সালাত) আদায় করেন। রোগমুক্তি ও কল্যাণ কামনায় দান-সদকা বা খয়রাত করা হয়।
বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও খানকায় মিলাদ মাহফিল, জিকির-আজকার ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে দিনটি উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ বা ঐচ্ছিক ছুটি থাকে অর্থাৎ এই দিনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ বন্ধ থাকে।

ইসলামী শরীআতের দৃষ্টিভঙ্গিঃ
গবেষক ও উলামায়ে কেরামের মতে, কোরআন ও সহিহ হাদিসে আখেরি চাহার সোম্বা পালনের পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো বড় ফজিলত বা বিশেষ ইবাদতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই তবে, সাহাবায়ে কেরাম বা তাবেঈনদের যুগে এই দিনটিকে উৎসব বা প্রথা হিসেবে পালনের কোনো প্রমাণও পাওয়া যায় নি।

ইসলামে নতুন কোনো ইবাদত বা প্রথা সংযোজনকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে, তবে সাধারণ নফল ইবাদত, দান-সদকা ও দোয়া যেকোনো সময়েই করা যায়, যার জন্য বিশেষ দিন বা ক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নাই।