, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মুক্তি-পণের দাবিতে অ-প-হ-রণ, টেকনাফে যুবক উ-দ্ধা-র রজবাড়ী পাংশায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটিতে প্রকৌশলী মোঃ আতিকুল ইসলাম মিরুখালী ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: তরুণ প্রজন্মের আস্থার প্রতীক রাফিউল ইসলাম রাজুর নির্বাচনী অঙ্গীকার নাগেশ্বরীতে বিশেষ অভিযানে ৪ মা-দ-ক বিক্রেতা গ্রে-প্তা-র, ১ কেজি গাঁ-জা জ-ব্দ ১০ টাকায় সিম বিক্রির আড়ালে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ, পঞ্চগড়ে ৩ জন আ-ট-ক মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ থেকে চতুর্থ উপাচার্য, অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদারকে সংবর্ধনা বরিশালে ময়লার স্তূপে দুই নবজাতক শিশুর ম-র-দে-হ উ-দ্ধা-র বড়লেখায় মিথ্যা মা-ম-লার অভিযোগে সোনাহর আলীর সংবাদ সম্মেলন ৪২ কোটি টাকার ই-য়া-বা-র চালান জ-ব্দ, আ-টক ২ প্রেমের টানে গোপালগঞ্জে হিন্দু যুবকের বাড়িতে কুড়িগ্রামের মুসলিম তরুণী

শেরপুরে খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ৬৮ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত

শেরপুরে খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ৬৮ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত

৪৯

শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় খাল পুনঃখনন শেষে অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।

প্রকল্পের আওতায় সাহাব্দীরচর থেকে কামারেরচর বাজার হয়ে পয়েস্তিরচর পর্যন্ত ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার কাটাখালী খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। কৃষিজমিতে সেচসুবিধা বাড়ানো, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাই ছিল প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য। এ জন্য মোট ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

গত ১৩ মে পয়েস্তিরচর এলাকায় প্রকল্পের খননকাজের উদ্বোধন করেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৩০ জুন খননকাজ শেষ করা হয়। পরে গত ১৩ আগস্ট অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

প্রকল্পের আওতায় খালের দুই পাশে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষ্ণচূড়া, বকুল, জারুল ও সোনালুসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় মানুষের যাতায়াত ও কৃষিকাজের সুবিধার জন্য ১৬০টি রিং কালভার্ট, তিনটি কাঠের সেতু ও তিনটি ইউ-ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা সূত্রে জানা গেছে, খননকাজে প্রতিদিন প্রায় ৫৯৫ জন শ্রমিক কাজ করেছেন। এতে একদিকে অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ভরাট হয়ে থাকা খালটি পুনঃখননের ফলে কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

শেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও প্রকল্পের সদস্যসচিব রকিবুল হাসান বলেন, “গত ১৩ মে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ৩০ জুন শেষ হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫৯৫ জন শ্রমিক এখানে কাজ করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি ভালোভাবে শেষ করা সম্ভব হয়েছে। খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গায় মাটি সরে গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে সেগুলোও মেরামত করে দেওয়া হবে।”

শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রকল্পের সভাপতি আসমা বিনতে রফিক বলেন, “প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। কাজ শেষে বরাদ্দের অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। খালটি পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।”

তিনি বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহ সহজ হবে এবং জলাবদ্ধতা কমবে। পাশাপাশি খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের ফলে পরিবেশের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে কৃষকদের ফসলের জমিতে সেচের পানির সংকট অনেকটাই কমবে এবং শেরপুরে সবজি ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পরপরই এলাকার সাধারণ মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খালে নৌকা চলাচল করছে এবং পর্যাপ্ত দেশি মাছও পাওয়া যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির একটি ভালো দৃষ্টান্ত।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

মুক্তি-পণের দাবিতে অ-প-হ-রণ, টেকনাফে যুবক উ-দ্ধা-র

শেরপুরে খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ৬৮ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত

আপডেট সময় ০৫:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
৪৯

শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় খাল পুনঃখনন শেষে অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।

প্রকল্পের আওতায় সাহাব্দীরচর থেকে কামারেরচর বাজার হয়ে পয়েস্তিরচর পর্যন্ত ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার কাটাখালী খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। কৃষিজমিতে সেচসুবিধা বাড়ানো, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাই ছিল প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য। এ জন্য মোট ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

গত ১৩ মে পয়েস্তিরচর এলাকায় প্রকল্পের খননকাজের উদ্বোধন করেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৩০ জুন খননকাজ শেষ করা হয়। পরে গত ১৩ আগস্ট অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

প্রকল্পের আওতায় খালের দুই পাশে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষ্ণচূড়া, বকুল, জারুল ও সোনালুসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় মানুষের যাতায়াত ও কৃষিকাজের সুবিধার জন্য ১৬০টি রিং কালভার্ট, তিনটি কাঠের সেতু ও তিনটি ইউ-ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা সূত্রে জানা গেছে, খননকাজে প্রতিদিন প্রায় ৫৯৫ জন শ্রমিক কাজ করেছেন। এতে একদিকে অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ভরাট হয়ে থাকা খালটি পুনঃখননের ফলে কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

শেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও প্রকল্পের সদস্যসচিব রকিবুল হাসান বলেন, “গত ১৩ মে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ৩০ জুন শেষ হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫৯৫ জন শ্রমিক এখানে কাজ করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি ভালোভাবে শেষ করা সম্ভব হয়েছে। খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গায় মাটি সরে গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে সেগুলোও মেরামত করে দেওয়া হবে।”

শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রকল্পের সভাপতি আসমা বিনতে রফিক বলেন, “প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। কাজ শেষে বরাদ্দের অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। খালটি পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।”

তিনি বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহ সহজ হবে এবং জলাবদ্ধতা কমবে। পাশাপাশি খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের ফলে পরিবেশের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে কৃষকদের ফসলের জমিতে সেচের পানির সংকট অনেকটাই কমবে এবং শেরপুরে সবজি ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পরপরই এলাকার সাধারণ মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খালে নৌকা চলাচল করছে এবং পর্যাপ্ত দেশি মাছও পাওয়া যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির একটি ভালো দৃষ্টান্ত।