জনতা ব্যাংক পিএলসি-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এবং নীলখী ইউনিয়নের কৃতি সন্তান মরহুম কাজী রইস উদ্দিন আহমেদের রুহের মাগফিরাত কামনায় এক স্মরণসভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নীলখী ইউনিয়ন এবং ইতালি প্রবাসী বৃন্দের যৌথ আয়োজনে এই দোয়া মাহফিল সম্পন্ন হয়।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ডাক্তার কাজী জাহাঙ্গীর হোসেনের (এমবিবিএস, এমপিএইচআইএল, পিএইচডি) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মরহুমের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, এলাকার প্রতি তাঁর অবদান এবং তাঁর আদর্শ নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডাক্তার কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, নসু (মরহুম কাজী রইস উদ্দিন আহমেদ) আমার অত্যন্ত কাছের মানুষ ছিল। সে আমার চেয়ে দুই-তিন বছরের ছোট হলেও তার বিচক্ষণতা ও ব্যক্তিত্ব ছিল অনুকরণীয়। আমি আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, তিনি যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।
মরহুমের কর্মজীবনের মূল্যায়ন করে তাঁর ভাগিনা জামাল গোমস্তা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি মনে করি আমরা শুধু নীলখী নয়, সমগ্র দক্ষিণবঙ্গ একজন কৃতি ব্যাংক কর্মকর্তাকে হারালাম। দক্ষিণবঙ্গের গুটিকয়েক শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। মামার যে আশা-আকাঙ্ক্ষা ও এলাকার উন্নয়নের স্বপ্ন ছিল, তা আমাদের সকলকে মিলে বাস্তবায়ন করতে হবে।
পিতার আদর্শ তুলে ধরে মরহুমের ছেলে ধ্রুব কাজী বলেন, “আপনারা অনেকে আমাকে হয়তো দেখেছেন বা দেখেননি। আমি বাবার সাথে নিয়মিত গ্রামে আসতাম, প্রতিটি ঈদ আমরা গ্রামে কাটিয়েছি। এলাকার মানুষের সাথে বাবার গভীর সম্পর্ক ছিল। বাবা কখনোই ঝগড়াঝাটি পছন্দ করতেন না; সবসময় মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি দেখতে চাইতেন। আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, বাবার সেই ঐক্যের স্বপ্ন যেন আপনারা বাস্তবায়িত করতে পারেন। বাবার জীবনের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে সবাই তাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আমাদের পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। আমি আপনাদের মাঝেই আছি, যেকোনো প্রয়োজনে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
অনুষ্ঠান শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয় ও তবারক বিতরণ করেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং প্রবাসীদের প্রতিনিধিরা এই দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।

























