, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঈশ্বরগঞ্জের সরিষা মারুয়াখালীতে তরুণীকে ধ-র্ষ-ণের অভিযোগ, তিন আসামি গ্রে-প্তার দক্ষিণবঙ্গের কৃতি সন্তান জনতা ব্যাংকের ডিএমজি মরহুম কাজী রইস উদ্দিন আহমেদের স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অ-বৈধ অনুপ্রবেশ, বাঙালি যুবকের ৩ মাসের কা-রাদ-ণ্ড মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত ও ছিন-তাই রোধে চৌদ্দগ্রাম যুবদল নেতা জাকিরের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ কাউনিয়ায় আমনের বাম্পার ফলনের আশা, শেষ বেলায় পোকার শঙ্কা বকশীগঞ্জে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন শ্রীপুর গোয়ালদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবগঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত কক্সবাজারে ই-য়া-বাসহ দুইজন গ্রে-প্তার, মোটরসাইকেল জ-ব্দ ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাকৃবি রোভার স্কাউটের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি মাগুরা শ্রীপুরে স্বাক্ষর জা-ল ও মিথ্যা মা-ম-লার প্রতিবাদে শিমু খাতুনের সংবাদ সম্মেলন

গোপালগঞ্জে চান্দা বিলের পাটের মৌসুমি কাজে ঘুরছে হাজারো শ্রমজীবী পরিবারের ভাগ্যের চাকা

  • Avatar photo মোঃ ছাইম খাঁন
  • আপডেট সময় ১২:২৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • 43
৫৬

গোপালগঞ্জের চান্দা বিলের প্রাকৃতিক সম্পদ হারিয়ে কর্মসংস্থানের সংকটে পড়া হাজারো শ্রমজীবী মানুষের জন্য পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের মৌসুমি কাজ এখন আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। বর্ষার পানিতে বিল এলাকায় পাট জাগ দেওয়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এ সময়টায় ব্যস্ততা বেড়েছে শ্রমিকদের।

পাট জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও ধোয়ার মতো বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন শ্রম দিচ্ছেন স্থানীয় নারী-পুরুষ। এসব কাজে একজন শ্রমিক দৈনিক প্রায় ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। বর্ষাকালে এই মৌসুমি আয়ের ওপর নির্ভর করেই অনেক পরিবারের সংসারের খরচ চলছে।

স্থানীয়দের মতে, পাট চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে শ্রম ও সময় বেশি লাগলেও বর্তমান বাজারদর কৃষকদের প্রত্যাশা পূরণ করছে না। বর্তমানে প্রতি মণ পাট ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, প্রতি মণ পাটের দাম অন্তত ৪ হাজার ২০০ টাকা হলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে তারা কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারবেন। এ বিষয়ে সরকারের কাছে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও দাম বাড়ানোর সুপারিশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান জানান, গত জুলাই মাসে জেলায় ২৬ দিন বৃষ্টিপাত হয়েছে। ওই মাসে মোট ৬৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে বিলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাট জাগ দেওয়ার কাজও সহজ হয়েছে।

চান্দা বিলের মানুষের কাছে বর্ষা একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সংকট তৈরি করে, অন্যদিকে পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সাময়িক আয়ের সুযোগও এনে দেয়। বিলের পানিকে কাজে লাগিয়ে পাটের মৌসুমি কাজে যুক্ত শ্রমিকরা এই সময়ে বাড়তি আয় করছেন। ফলে পাটের কাজ ঘিরে বর্ষাকালে সচল থাকছে বহু পরিবারের জীবিকা ও সংসারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম।

স্থানীয় শ্রমজীবীদের প্রত্যাশা, পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষক ও শ্রমিক—উভয়েই উপকৃত হবেন। পাশাপাশি চান্দা বিলকেন্দ্রিক পাট প্রক্রিয়াজাতকরণে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

ঈশ্বরগঞ্জের সরিষা মারুয়াখালীতে তরুণীকে ধ-র্ষ-ণের অভিযোগ, তিন আসামি গ্রে-প্তার

গোপালগঞ্জে চান্দা বিলের পাটের মৌসুমি কাজে ঘুরছে হাজারো শ্রমজীবী পরিবারের ভাগ্যের চাকা

আপডেট সময় ১২:২৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
৫৬

গোপালগঞ্জের চান্দা বিলের প্রাকৃতিক সম্পদ হারিয়ে কর্মসংস্থানের সংকটে পড়া হাজারো শ্রমজীবী মানুষের জন্য পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের মৌসুমি কাজ এখন আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। বর্ষার পানিতে বিল এলাকায় পাট জাগ দেওয়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এ সময়টায় ব্যস্ততা বেড়েছে শ্রমিকদের।

পাট জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও ধোয়ার মতো বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন শ্রম দিচ্ছেন স্থানীয় নারী-পুরুষ। এসব কাজে একজন শ্রমিক দৈনিক প্রায় ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। বর্ষাকালে এই মৌসুমি আয়ের ওপর নির্ভর করেই অনেক পরিবারের সংসারের খরচ চলছে।

স্থানীয়দের মতে, পাট চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে শ্রম ও সময় বেশি লাগলেও বর্তমান বাজারদর কৃষকদের প্রত্যাশা পূরণ করছে না। বর্তমানে প্রতি মণ পাট ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, প্রতি মণ পাটের দাম অন্তত ৪ হাজার ২০০ টাকা হলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে তারা কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারবেন। এ বিষয়ে সরকারের কাছে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও দাম বাড়ানোর সুপারিশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান জানান, গত জুলাই মাসে জেলায় ২৬ দিন বৃষ্টিপাত হয়েছে। ওই মাসে মোট ৬৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে বিলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাট জাগ দেওয়ার কাজও সহজ হয়েছে।

চান্দা বিলের মানুষের কাছে বর্ষা একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সংকট তৈরি করে, অন্যদিকে পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সাময়িক আয়ের সুযোগও এনে দেয়। বিলের পানিকে কাজে লাগিয়ে পাটের মৌসুমি কাজে যুক্ত শ্রমিকরা এই সময়ে বাড়তি আয় করছেন। ফলে পাটের কাজ ঘিরে বর্ষাকালে সচল থাকছে বহু পরিবারের জীবিকা ও সংসারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম।

স্থানীয় শ্রমজীবীদের প্রত্যাশা, পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষক ও শ্রমিক—উভয়েই উপকৃত হবেন। পাশাপাশি চান্দা বিলকেন্দ্রিক পাট প্রক্রিয়াজাতকরণে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।