, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পিরোজপুরে মানব পা/চার মামলায় পাঁচ জনের দশ বছর করে কা/রা/দ/ণ্ড গোপালগঞ্জে ৩ কেজি গাঁ/জা/সহ চারজন আটক বকশীগঞ্জে কৃষককে হ/ত্যা/র চেষ্টা ও জমি দখলের প্রতিবাদে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে জিআইজেড প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সিরাজগঞ্জে সুজন হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মাগুরা শ্রীপুর দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫: বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট মাগুরা শ্রীপুরে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট, নিরাপত্তাহীনতায় বৃদ্ধ মা- বাবা টেপামধুপুর ইউনিয়নে কমিউনিটি ঝুঁকি মূল্যায়ন চিলমারীতে ৬৮ পিচ ইয়াবাসহ যুবক আটক কাউনিয়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠান

টুঙ্গিপাড়ায় সরকারি পাটবীজ বাড়ির পেছনে ফেলে রাখার অভিযোগ, তদন্তে নামছে কৃষি বিভাগ

৩০

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়নে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি পাটবীজ বাড়ির পেছনে ফেলে রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগের তীর উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফায়েক শেখের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা কৃষি বিভাগ তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ইউপি সদস্যের বাড়ির পেছনে সরকারি পাটবীজের একাধিক প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ, এসব বীজ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ না করে অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ফায়েক শেখ বলেন, তাঁর কাছে ৬০ জন কৃষকের জন্য পাটবীজ বরাদ্দ ছিল। তবে তিনি দাবি করেন, বরাদ্দের চেয়েও বেশি সংখ্যক কৃষকের মধ্যে বীজ বিতরণ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, বাড়ির পেছনে থাকা কিছু বীজ গত বছরের এবং কিছু চলতি বছরের নষ্ট বীজ হতে পারে। কীভাবে সেখানে এত বীজ জমা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে অল্প কিছু নষ্ট বীজ তিনি নিজেই ফেলে রেখেছেন বলে জানান।

কুশলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইশতিয়াক হোসেন জানান, সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য তাঁর কাছ থেকে একাধিকবার সরকারি পাটবীজ নিয়েছেন। তবে সেই বীজ যথাযথভাবে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। তিনি বলেন, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে সরকারি বীজ কৃষকদের না দিয়ে অন্যভাবে ফেলে রাখা হয়েছে, তাহলে বিষয়টি অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিব ইসলাম বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অনিয়মের সত্যতা মিললে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বীজগুলো কেন বাড়ির পেছনে পড়ে ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, সরকারি কৃষি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে না পৌঁছে অপচয়ের শিকার হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এদিকে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের এক আত্মীয়ের স্ত্রী অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত হলেও কখনো সরকারি কৃষি সহায়তা পাননি। তাঁর দাবি, বরাদ্দকৃত পাটবীজ প্রকৃত কৃষকদের না দিয়ে অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে।

তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

পিরোজপুরে মানব পা/চার মামলায় পাঁচ জনের দশ বছর করে কা/রা/দ/ণ্ড

টুঙ্গিপাড়ায় সরকারি পাটবীজ বাড়ির পেছনে ফেলে রাখার অভিযোগ, তদন্তে নামছে কৃষি বিভাগ

আপডেট সময় ০৫:৩৯:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
৩০

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়নে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি পাটবীজ বাড়ির পেছনে ফেলে রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগের তীর উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফায়েক শেখের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা কৃষি বিভাগ তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ইউপি সদস্যের বাড়ির পেছনে সরকারি পাটবীজের একাধিক প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ, এসব বীজ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ না করে অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ফায়েক শেখ বলেন, তাঁর কাছে ৬০ জন কৃষকের জন্য পাটবীজ বরাদ্দ ছিল। তবে তিনি দাবি করেন, বরাদ্দের চেয়েও বেশি সংখ্যক কৃষকের মধ্যে বীজ বিতরণ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, বাড়ির পেছনে থাকা কিছু বীজ গত বছরের এবং কিছু চলতি বছরের নষ্ট বীজ হতে পারে। কীভাবে সেখানে এত বীজ জমা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে অল্প কিছু নষ্ট বীজ তিনি নিজেই ফেলে রেখেছেন বলে জানান।

কুশলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইশতিয়াক হোসেন জানান, সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য তাঁর কাছ থেকে একাধিকবার সরকারি পাটবীজ নিয়েছেন। তবে সেই বীজ যথাযথভাবে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। তিনি বলেন, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে সরকারি বীজ কৃষকদের না দিয়ে অন্যভাবে ফেলে রাখা হয়েছে, তাহলে বিষয়টি অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিব ইসলাম বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অনিয়মের সত্যতা মিললে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বীজগুলো কেন বাড়ির পেছনে পড়ে ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, সরকারি কৃষি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে না পৌঁছে অপচয়ের শিকার হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এদিকে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের এক আত্মীয়ের স্ত্রী অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত হলেও কখনো সরকারি কৃষি সহায়তা পাননি। তাঁর দাবি, বরাদ্দকৃত পাটবীজ প্রকৃত কৃষকদের না দিয়ে অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে।

তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।