কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন ও কথিত অনিয়মকে কেন্দ্র করে নিজের নাম জড়ানোর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আব্দুস সালাম (সুজা)। তার দাবি, কোনো ধরনের ব্যবসায়িক বা আর্থিক সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে তার নাম একটি বিতর্কিত ঘটনার সঙ্গে জড়ানোর অপচেষ্টা চলছে।
এক লিখিত প্রতিবাদপত্রে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম (সুজা) বলেন, ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার কোনো ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব, মালিকানা, আর্থিক লেনদেন কিংবা ব্যবস্থাপনার সম্পর্ক নেই। অথচ তাকে সংশ্লিষ্ট দেখিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হলে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও তার সামাজিক-রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা বলে তিনি দাবি করেন।
প্রতিবাদপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ ২০১৫ সাল থেকে রফিকুল ইসলামের একক মালিকানাধীন (Sole Proprietorship) প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত/রেজিস্ট্রেশনকৃত। প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক হিসাবসহ ব্যবসায়িক নথিপত্র রফিকুল ইসলামের নামেই রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির কোনো আর্থিক বা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের দায় তার ওপর চাপানোর সুযোগ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম (সুজা) আরও বলেন, ভিশন এন্টারপ্রাইজের নামে কারও কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ, কাউকে অর্থ প্রদান কিংবা কোনো আর্থিক লেনদেনে তিনি জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগ থাকলে শুধু মুখে মুখে প্রচার না করে যথাযথ প্রমাণ জনসম্মুখে প্রকাশ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমার উপস্থিতিতে, আমার মাধ্যমে অথবা আমার স্বাক্ষর/অনুমোদনে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকলে তার প্রমাণ প্রকাশ করা হোক। প্রমাণ ছাড়া কারও নাম জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
প্রতিবাদপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, ব্যবসায়িক জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়ে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হয়েছে এবং তদন্তের পর প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে রফিকুল ইসলামকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম (সুজার) দাবি, তিনি ব্যক্তি হিসেবে কিংবা দলীয় অবস্থান থেকে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড, আর্থিক অসততা বা প্রতারণাকে কখনো প্রশ্রয় দেননি।
তিনি বলেন, কোনো ঘটনার সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীর দায় থাকলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়িয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
এ সময় গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম (সুজা) বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশের আগে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ করা সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্ব। একপাক্ষিক তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করে কারও সামাজিক মর্যাদা ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি আরও কঠোরভাবে বলেন, “আমাকে না জানিয়ে, আমার বক্তব্য না নিয়ে এবং কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন না করে আমার নাম কোনো অভিযোগের সঙ্গে জড়ানো হলে তা আমি মেনে নেব না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ও মানহানিকর প্রচারণা অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার আমি সংরক্ষণ করি।”
ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম (সুজা) সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো পোস্ট, অভিযোগ বা একপাক্ষিক বক্তব্য যাচাই না করে বিশ্বাস কিংবা প্রচার করা উচিত নয়। সত্যতা যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সত্য একদিন অবশ্যই প্রকাশ পাবে।
সবশেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার তাওফিক কামনা করেন এবং তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।


























