, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ গেলেই টর্চ-মোবাইলের আলোতে চিকিৎসা গোপালপুরে বৈরাণ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের আয়োজনে সাহিত্য আড্ডা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মধুমতীর স্রোতে নিখোঁজ রাব্বির ম-র-দে-হ মিলল এক দিন পর বাকৃবিতে ব্যান্ড বিষয়ক প্রশিক্ষণ পেলেন ১৫ নিরাপত্তাকর্মী রাজশাহীতে চাহিদা মাফিক সার বরাদ্দ ও বৈজ্ঞানিক ব্যবহারের তাগিদ ফার্টিলাইজার অ্যসোসিয়েশনের লালপুরে সাইবার প্র-তা-র-ক চক্রের ৫ সদস্য গ্রে-প্তা-র মাগুরা শ্রীপুরে গ্রামবাংলার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে ব্যতিক্রমী বিয়ে শ্রীপুর উপজেলা জাসাসের ৬৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা শ্রীপুরে সড়ক দূ-র্ঘ-ট-নায় ৪ বছরের শি-শু নি-হ-ত মহাদেবপুর উপজেলার ধুনজইল মোড়ে সরকারি গাছের মা-থা কে-টে ফেলার ও ফুটেজ মুছে দেওয়ার অভিযোগ!

মাগুরা শ্রীপুরে গ্রামবাংলার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে ব্যতিক্রমী বিয়ে

মাগুরা শ্রীপুরে গ্রামবাংলার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে ব্যতিক্রমী বিয়ে

২৪

মাগুরা শ্রীপুরে গ্রামবাংলার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে ব্যতিক্রমী বিয়ে।

যান্ত্রিক গাড়ি, দামি ব্র্যান্ডের মোটর বহর কিংবা ঝলমলে আধুনিকতার যুগে বিলুপ্তপ্রায় পালকি, সজ্জিত গরুর গাড়ি এবং রাজকীয় ঘোড়ার গাড়িতে চেপে সম্পন্ন হলো এক চোখধাঁধানো ঐতিহ্যবাহী বরযাত্রা। গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া কৃষ্টি ও আবহমান সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে নতুন করে ফিরিয়ে আনার এই ভিন্নধর্মী রূপকথা যেন দেখল মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বরিশাট গ্রামের বাসিন্দারা।

​উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোঃ বদরুল আলম লিটু ও মোছাঃ রোজিনা বেগমের পুত্র মোঃ শ্রাবণের সাথে টুপিাপাড়া গ্রামের মোঃ আব্দুল হালিম শেখ ও জাকিয়া সুলতানা জুথীর কন্যা নাবিয়া ইকরার বিবাহ বন্ধন উপলক্ষে এই ব্যতিক্রমী ও নান্দনিক আয়োজন করা হয়।

প্রাচীন গ্রামীণ কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই বদরুল আলম লিটু ও তার সহধর্মিণী মোছাঃ রোজিনা বেগম তাদের ছেলের বিয়েতে এই অভিনব পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

​বিয়ে উপলক্ষে গ্রামের আঁকাবাঁকা মেঠোপথে নামানো হয় রঙিন কাপড়ে সুসজ্জিত পালকি, বাহারি সাজে সাজানো গরুর গাড়ি এবং কয়েকটি রাজকীয় ঘোড়ার গাড়ি। চিরাচরিত গ্রামীণ পোশাকে বর যখন সুসজ্জিত পালকিতে চড়ে কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন, তখন তার পেছনে গরুর গাড়ি ও ঘোড়ার গাড়িতে চেপে সফর করেন বরযাত্রীরা। সানাইয়ের মধুর সুর আর ঢাক-ঢোলের তাল ও রিমঝিম শব্দে পুরো বরিশাট গ্রাম জুড়ে এক আনন্দমুখর ও উৎসবময় আবহ তৈরি হয়।

​রাস্তার দুই ধারে ভিড় জমিয়ে গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ, প্রবীণ থেকে শুরু করে উৎসুক শিশুরা এই মনোমুগ্ধকর শোভাযাত্রা উপভোগ করেন। গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরা স্মৃতিকাতর হয়ে জানান, প্রযুক্তির আধিপত্যে আজ গ্রাম বাংলা থেকে পালকি ও গরুর গাড়ি একেবারেই বিলুপ্ত। বহু বছর পর এমন ঐতিহ্যবাহী রূপসী বাংলার বিয়ের আয়োজন দেখে তারা অভিভূত ও আনন্দিত।

​আয়োজনের বিষয়ে বরের পিতা মোঃ বদরুল আলম লিটু জানান, “আমাদের গ্রামীণ কৃষ্টি ও শিকড়ের সংস্কৃতি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। আধুনিকতার ভিড়ে নতুন প্রজন্ম যেন নিজেদের প্রাচুর্যময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য ভুলে না যায়, সেই ভাবনা থেকেই মূলতঃ এই ব্যতিক্রমী বরযাত্রার উদ্যোগ নিয়েছি।”

​আধুনিকতার ছোঁয়া এড়িয়ে শিকড়ের টানে আয়োজিত এই উৎসবমুখর বিবাহ অনুষ্ঠানটি বর্তমানে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং স্থানীয় সচেতন মহল ও সর্বস্তরের মানুষের কাছে বিপুল প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ গেলেই টর্চ-মোবাইলের আলোতে চিকিৎসা

মাগুরা শ্রীপুরে গ্রামবাংলার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে ব্যতিক্রমী বিয়ে

আপডেট সময় ০৬:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
২৪

মাগুরা শ্রীপুরে গ্রামবাংলার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে ব্যতিক্রমী বিয়ে।

যান্ত্রিক গাড়ি, দামি ব্র্যান্ডের মোটর বহর কিংবা ঝলমলে আধুনিকতার যুগে বিলুপ্তপ্রায় পালকি, সজ্জিত গরুর গাড়ি এবং রাজকীয় ঘোড়ার গাড়িতে চেপে সম্পন্ন হলো এক চোখধাঁধানো ঐতিহ্যবাহী বরযাত্রা। গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া কৃষ্টি ও আবহমান সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে নতুন করে ফিরিয়ে আনার এই ভিন্নধর্মী রূপকথা যেন দেখল মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বরিশাট গ্রামের বাসিন্দারা।

​উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোঃ বদরুল আলম লিটু ও মোছাঃ রোজিনা বেগমের পুত্র মোঃ শ্রাবণের সাথে টুপিাপাড়া গ্রামের মোঃ আব্দুল হালিম শেখ ও জাকিয়া সুলতানা জুথীর কন্যা নাবিয়া ইকরার বিবাহ বন্ধন উপলক্ষে এই ব্যতিক্রমী ও নান্দনিক আয়োজন করা হয়।

প্রাচীন গ্রামীণ কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই বদরুল আলম লিটু ও তার সহধর্মিণী মোছাঃ রোজিনা বেগম তাদের ছেলের বিয়েতে এই অভিনব পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

​বিয়ে উপলক্ষে গ্রামের আঁকাবাঁকা মেঠোপথে নামানো হয় রঙিন কাপড়ে সুসজ্জিত পালকি, বাহারি সাজে সাজানো গরুর গাড়ি এবং কয়েকটি রাজকীয় ঘোড়ার গাড়ি। চিরাচরিত গ্রামীণ পোশাকে বর যখন সুসজ্জিত পালকিতে চড়ে কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন, তখন তার পেছনে গরুর গাড়ি ও ঘোড়ার গাড়িতে চেপে সফর করেন বরযাত্রীরা। সানাইয়ের মধুর সুর আর ঢাক-ঢোলের তাল ও রিমঝিম শব্দে পুরো বরিশাট গ্রাম জুড়ে এক আনন্দমুখর ও উৎসবময় আবহ তৈরি হয়।

​রাস্তার দুই ধারে ভিড় জমিয়ে গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ, প্রবীণ থেকে শুরু করে উৎসুক শিশুরা এই মনোমুগ্ধকর শোভাযাত্রা উপভোগ করেন। গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরা স্মৃতিকাতর হয়ে জানান, প্রযুক্তির আধিপত্যে আজ গ্রাম বাংলা থেকে পালকি ও গরুর গাড়ি একেবারেই বিলুপ্ত। বহু বছর পর এমন ঐতিহ্যবাহী রূপসী বাংলার বিয়ের আয়োজন দেখে তারা অভিভূত ও আনন্দিত।

​আয়োজনের বিষয়ে বরের পিতা মোঃ বদরুল আলম লিটু জানান, “আমাদের গ্রামীণ কৃষ্টি ও শিকড়ের সংস্কৃতি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। আধুনিকতার ভিড়ে নতুন প্রজন্ম যেন নিজেদের প্রাচুর্যময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য ভুলে না যায়, সেই ভাবনা থেকেই মূলতঃ এই ব্যতিক্রমী বরযাত্রার উদ্যোগ নিয়েছি।”

​আধুনিকতার ছোঁয়া এড়িয়ে শিকড়ের টানে আয়োজিত এই উৎসবমুখর বিবাহ অনুষ্ঠানটি বর্তমানে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং স্থানীয় সচেতন মহল ও সর্বস্তরের মানুষের কাছে বিপুল প্রশংসা কুড়াচ্ছে।