, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ গেলেই টর্চ-মোবাইলের আলোতে চিকিৎসা গোপালপুরে বৈরাণ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের আয়োজনে সাহিত্য আড্ডা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মধুমতীর স্রোতে নিখোঁজ রাব্বির ম-র-দে-হ মিলল এক দিন পর বাকৃবিতে ব্যান্ড বিষয়ক প্রশিক্ষণ পেলেন ১৫ নিরাপত্তাকর্মী রাজশাহীতে চাহিদা মাফিক সার বরাদ্দ ও বৈজ্ঞানিক ব্যবহারের তাগিদ ফার্টিলাইজার অ্যসোসিয়েশনের লালপুরে সাইবার প্র-তা-র-ক চক্রের ৫ সদস্য গ্রে-প্তা-র মাগুরা শ্রীপুরে গ্রামবাংলার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে ব্যতিক্রমী বিয়ে শ্রীপুর উপজেলা জাসাসের ৬৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা শ্রীপুরে সড়ক দূ-র্ঘ-ট-নায় ৪ বছরের শি-শু নি-হ-ত মহাদেবপুর উপজেলার ধুনজইল মোড়ে সরকারি গাছের মা-থা কে-টে ফেলার ও ফুটেজ মুছে দেওয়ার অভিযোগ!

কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ গেলেই টর্চ-মোবাইলের আলোতে চিকিৎসা

কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ গেলেই টর্চ-মোবাইলের আলোতে চিকিৎসা

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ চলে গেলেই নেমে আসে অন্ধকার। তীব্র গরমে ফ্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগী ও স্বজনদের পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে। জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা, ড্রেসিং ও সেলাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও করতে হচ্ছে টর্চলাইট ও মোবাইল ফোনের আলোতে।

প্রায় চার লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসাস্থল ৫০ শয্যাবিশিষ্ট কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দিন-রাত প্রায়ই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। অথচ হাসপাতালে থাকা ৫০ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটরটি প্রায় তিন বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাতে হাসপাতালে বিদ্যুৎ চলে গেলে জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন স্থানে অন্ধকার নেমে আসে। তখন চিকিৎসক ও নার্সরা টর্চলাইট কিংবা মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশের আলো ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবা দেন। ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনদের তীব্র গরমে হাতপাখা, কাগজ কিংবা কাপড় দিয়ে বাতাস করতে দেখা যায়।

হাসপাতালে থাকা রোগী ও স্বজনরা জানান, প্রতিদিন কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে শিশু, বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অসুস্থ রোগীরা আরও অস্বস্তিতে পড়েন। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সময় হাসপাতালে বিকল্প বিদ্যুতের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় স্বজনদের নিজেদের উদ্যোগেই রোগীদের বাতাস করতে হয়।

নাজিরদহ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আলামিন মিয়া বলেন, “হাসপাতালের জরুরি বিভাগে শরীরের কাটা স্থানে সেলাই দেওয়ার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে মোবাইল ফোনের টর্চলাইটের আলোতে সেলাই ও ড্রেসিং করা হয়। দিনের বেলাতেও ৭ থেকে ৮ বার লোডশেডিং হচ্ছে। এতে গরমে সাধারণ রোগীরাও আরও অসুস্থ বোধ করছেন।”

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ চলে গেলে রাতে আইপিএস চালু করা হয়। তবে আইপিএসের মাধ্যমে হাসপাতালের সব ফ্যান ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো সম্ভব হয় না। উপরন্তু ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আইপিএসের ব্যাটারি ঠিকমতো চার্জ না হওয়ায় কিছুক্ষণ পর সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তখন টর্চলাইট ও মোবাইল ফোনের আলোই হয়ে ওঠে চিকিৎসাসেবার ভরসা।

এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসান হাবীব বলেন, “হাসপাতালের একটি বড় জেনারেটর নষ্ট হয়ে আছে। এটি মেরামত করার পর আবারও নষ্ট হয়। বর্তমানে জেনারেটরটি মেরামত করতে যে পরিমাণ খরচ হবে, সে তুলনায় নতুন জেনারেটর কেনাই উত্তম হবে। বিদ্যুৎ চলে গেলে রাতে আইপিএস ব্যবহার করা হয়। তবে আইপিএস দিয়ে পুরো হাসপাতাল কভার করা সম্ভব হয় না।”

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের দাবি, দ্রুত জেনারেটর সচল করা অথবা বিকল্প বিদ্যুতের স্থায়ী ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে লোডশেডিংয়ের সময় অন্তত ফ্যান ও জরুরি বিভাগের আলো চালু রাখার ব্যবস্থা করা হলে রোগীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ গেলেই টর্চ-মোবাইলের আলোতে চিকিৎসা

কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ গেলেই টর্চ-মোবাইলের আলোতে চিকিৎসা

আপডেট সময় ০৮:১১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ চলে গেলেই নেমে আসে অন্ধকার। তীব্র গরমে ফ্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগী ও স্বজনদের পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে। জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা, ড্রেসিং ও সেলাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও করতে হচ্ছে টর্চলাইট ও মোবাইল ফোনের আলোতে।

প্রায় চার লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসাস্থল ৫০ শয্যাবিশিষ্ট কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দিন-রাত প্রায়ই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। অথচ হাসপাতালে থাকা ৫০ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটরটি প্রায় তিন বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাতে হাসপাতালে বিদ্যুৎ চলে গেলে জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন স্থানে অন্ধকার নেমে আসে। তখন চিকিৎসক ও নার্সরা টর্চলাইট কিংবা মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশের আলো ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবা দেন। ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনদের তীব্র গরমে হাতপাখা, কাগজ কিংবা কাপড় দিয়ে বাতাস করতে দেখা যায়।

হাসপাতালে থাকা রোগী ও স্বজনরা জানান, প্রতিদিন কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে শিশু, বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অসুস্থ রোগীরা আরও অস্বস্তিতে পড়েন। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সময় হাসপাতালে বিকল্প বিদ্যুতের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় স্বজনদের নিজেদের উদ্যোগেই রোগীদের বাতাস করতে হয়।

নাজিরদহ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আলামিন মিয়া বলেন, “হাসপাতালের জরুরি বিভাগে শরীরের কাটা স্থানে সেলাই দেওয়ার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে মোবাইল ফোনের টর্চলাইটের আলোতে সেলাই ও ড্রেসিং করা হয়। দিনের বেলাতেও ৭ থেকে ৮ বার লোডশেডিং হচ্ছে। এতে গরমে সাধারণ রোগীরাও আরও অসুস্থ বোধ করছেন।”

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ চলে গেলে রাতে আইপিএস চালু করা হয়। তবে আইপিএসের মাধ্যমে হাসপাতালের সব ফ্যান ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো সম্ভব হয় না। উপরন্তু ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আইপিএসের ব্যাটারি ঠিকমতো চার্জ না হওয়ায় কিছুক্ষণ পর সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তখন টর্চলাইট ও মোবাইল ফোনের আলোই হয়ে ওঠে চিকিৎসাসেবার ভরসা।

এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসান হাবীব বলেন, “হাসপাতালের একটি বড় জেনারেটর নষ্ট হয়ে আছে। এটি মেরামত করার পর আবারও নষ্ট হয়। বর্তমানে জেনারেটরটি মেরামত করতে যে পরিমাণ খরচ হবে, সে তুলনায় নতুন জেনারেটর কেনাই উত্তম হবে। বিদ্যুৎ চলে গেলে রাতে আইপিএস ব্যবহার করা হয়। তবে আইপিএস দিয়ে পুরো হাসপাতাল কভার করা সম্ভব হয় না।”

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের দাবি, দ্রুত জেনারেটর সচল করা অথবা বিকল্প বিদ্যুতের স্থায়ী ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে লোডশেডিংয়ের সময় অন্তত ফ্যান ও জরুরি বিভাগের আলো চালু রাখার ব্যবস্থা করা হলে রোগীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।