, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মঠবাড়িয়ায় ৫৩ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে অনিয়ম: পানীয় জলের তীব্র সংকটে জনজীবন নওগাঁয় অ-বৈধ কারখানায় অভিযান, ৩০হাজার টাকা জরিমানা শিরোইল বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে আরডিএ চেয়ারম্যান, আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণের আশ্বাস রাজশাহীতে অনিয়মের জেরে কৃষি কর্মকর্তা বদলী সারের খোঁজে দ্বারে দ্বারে কৃষক লালপুরে স্যালোচালিত গাড়ির ধাক্কায় ইজিবাইক চালক নি-হত, চালক আটক কাউনিয়ায় অবৈধ রিং জালের বিরুদ্ধে অভিযান, জব্দের পর বিনষ্ট কাউনিয়ায় সোনালী আঁশে সোনালী স্বপ্ন কৃষকের কাউনিয়ায় সারাই ইউনিয়নে ১ হাজার ৮০০ বৃক্ষচারা রোপণ ১০০ বছর পর জমি ফেরত পেলেন লালমাইয়ের ওয়ারিশরা পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া ৬৭ নং সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অ-বৈধ ট্রাক পার্কিং

কাউনিয়ায় অবৈধ রিং জালের বিরুদ্ধে অভিযান, জব্দের পর বিনষ্ট

১২

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় নিষিদ্ধ রিং জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তর। অভিযানে বিভিন্ন জলাশয় ও নদ-নদী থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ রিং জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা এসব জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। একই অভিযানে একটি আড়াআড়ি বাঁধও অপসারণ করা হয়।

সোমবার (২৪ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নেতৃত্ব দেন কাউনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অঙ্কন পাল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ রিং জাল জব্দ করা হয়।

উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন জলাশয় ও নদ-নদীতে নিষিদ্ধ রিং জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ ধরার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে জলজ সম্পদ ও দেশীয় মাছ রক্ষায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জব্দ করা জাল পরে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

কাউনিয়া উপজেলা মৎস্য দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মিনারা হাফিজা ফেরদৌস বলেন, “রিং জালের ফাঁস অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় এতে বড় মাছের পাশাপাশি মাছের পোনা, ডিম ও বিভিন্ন প্রজাতির ছোট জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। এতে দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়। নিষিদ্ধ রিং জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে জলজ সম্পদ ও দেশীয় মাছ রক্ষায় সারা বছর কার্যকর নজরদারি থাকবে।”

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অঙ্কন পাল বলেন, “জলজ সম্পদ ও দেশীয় মাছের প্রজনন রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ নিষিদ্ধ রিং জাল ব্যবহার করে মাছ ধরলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথাও জানান তিনি।

অভিযান চলাকালে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মিনারা হাফিজা ফেরদৌস, মৎস্য দপ্তরের ক্ষেত্র সহকারী আশরাফুল ইসলাম, অফিস সহকারী মো. হাবিবুর রহমান এবং সফল মৎস্যচাষি জিয়াউর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের এ অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, নিষিদ্ধ রিং জালের ব্যবহার বন্ধে শুধু জাল জব্দ ও ধ্বংস করলেই হবে না, নিয়মিত নজরদারি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে। নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে দেশীয় মাছের প্রজনন, জলজ জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

মঠবাড়িয়ায় ৫৩ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে অনিয়ম: পানীয় জলের তীব্র সংকটে জনজীবন

কাউনিয়ায় অবৈধ রিং জালের বিরুদ্ধে অভিযান, জব্দের পর বিনষ্ট

আপডেট সময় ০৫:২০:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
১২

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় নিষিদ্ধ রিং জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তর। অভিযানে বিভিন্ন জলাশয় ও নদ-নদী থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ রিং জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা এসব জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। একই অভিযানে একটি আড়াআড়ি বাঁধও অপসারণ করা হয়।

সোমবার (২৪ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নেতৃত্ব দেন কাউনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অঙ্কন পাল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ রিং জাল জব্দ করা হয়।

উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন জলাশয় ও নদ-নদীতে নিষিদ্ধ রিং জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ ধরার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে জলজ সম্পদ ও দেশীয় মাছ রক্ষায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জব্দ করা জাল পরে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

কাউনিয়া উপজেলা মৎস্য দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মিনারা হাফিজা ফেরদৌস বলেন, “রিং জালের ফাঁস অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় এতে বড় মাছের পাশাপাশি মাছের পোনা, ডিম ও বিভিন্ন প্রজাতির ছোট জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। এতে দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়। নিষিদ্ধ রিং জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে জলজ সম্পদ ও দেশীয় মাছ রক্ষায় সারা বছর কার্যকর নজরদারি থাকবে।”

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অঙ্কন পাল বলেন, “জলজ সম্পদ ও দেশীয় মাছের প্রজনন রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ নিষিদ্ধ রিং জাল ব্যবহার করে মাছ ধরলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথাও জানান তিনি।

অভিযান চলাকালে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মিনারা হাফিজা ফেরদৌস, মৎস্য দপ্তরের ক্ষেত্র সহকারী আশরাফুল ইসলাম, অফিস সহকারী মো. হাবিবুর রহমান এবং সফল মৎস্যচাষি জিয়াউর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের এ অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, নিষিদ্ধ রিং জালের ব্যবহার বন্ধে শুধু জাল জব্দ ও ধ্বংস করলেই হবে না, নিয়মিত নজরদারি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে। নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে দেশীয় মাছের প্রজনন, জলজ জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।