, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মঠবাড়িয়ায় ৫৩ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে অনিয়ম: পানীয় জলের তীব্র সংকটে জনজীবন নওগাঁয় অ-বৈধ কারখানায় অভিযান, ৩০হাজার টাকা জরিমানা শিরোইল বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে আরডিএ চেয়ারম্যান, আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণের আশ্বাস রাজশাহীতে অনিয়মের জেরে কৃষি কর্মকর্তা বদলী সারের খোঁজে দ্বারে দ্বারে কৃষক লালপুরে স্যালোচালিত গাড়ির ধাক্কায় ইজিবাইক চালক নি-হত, চালক আটক কাউনিয়ায় অবৈধ রিং জালের বিরুদ্ধে অভিযান, জব্দের পর বিনষ্ট কাউনিয়ায় সোনালী আঁশে সোনালী স্বপ্ন কৃষকের কাউনিয়ায় সারাই ইউনিয়নে ১ হাজার ৮০০ বৃক্ষচারা রোপণ ১০০ বছর পর জমি ফেরত পেলেন লালমাইয়ের ওয়ারিশরা পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া ৬৭ নং সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অ-বৈধ ট্রাক পার্কিং

মঠবাড়িয়ায় ৫৩ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে অনিয়ম: পানীয় জলের তীব্র সংকটে জনজীবন

মঠবাড়িয়ায় ৫৩ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে অনিয়ম: পানীয় জলের তীব্র সংকটে জনজীবন

পিরোজপুরের প্রথম শ্রেণির মঠবাড়িয়া পৌরসভায় ৫৩ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে বাস্তবায়িত পানি সরবরাহ প্রকল্প নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না পৌরবাসী। অনিয়মিত পানি সরবরাহ, পাইপ ফেটে যাওয়া, দুর্গন্ধ ও কর্দমাক্ত পানি পাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

পৌরবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে সি.টি.ই.আই.পি প্রকল্পের আওতায় ৫৩ কোটি ৯ লাখ ৯৫ হাজার ৮৬ টাকা ব্যয়ে পানি সরবরাহ প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। গোপালগঞ্জের সিনোকোনোস্ট-এমটি অ্যান্ড এসএস কনসোর্টিয়াম নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটির কাজ করে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ৫৪ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করে বাসাবাড়িতে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ চলাকালে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে শুরু থেকেই নানা সমস্যা দেখা দেয়। কাজ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে পাইপ ফেটে যাচ্ছে, নিয়মিত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় দুর্গন্ধযুক্ত ও ময়লাযুক্ত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে, যা পান করা তো দূরের কথা, দৈনন্দিন কাজেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

ভুক্তভোগীরা জানান, ২০১৪ সালে কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারের লোকজন মঠবাড়িয়া পৌরসভার অফিসে অসাধু কর্মকর্তা যোগসাজশে প্রকল্পের অবকাঠামো কাজে খুবই নিম্নমানের পাইপ, লোহা, পাথর, সিমেন্ট ব্যবহার করে পাম্প, হাউজ, বেজ ঢালাইসহ আনুষঙ্গিক নির্মাণ কাজ করেছেন। ওই সময় অভিযোগ করলেও পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো গুরুত্ব দেয়নি বরং বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছে।

পৌর বাসিন্দাদের অভিযোগ, পানির প্রকল্পের কাজ শেষ হতে না হতেই বিভিন্নস্থান থেকে পাইপ ফেটে পানি বের হচ্ছে। অনিয়মিত পানি সরবরাহ, দুর্গন্ধ ও কর্দমাক্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে। এই পানি পান করাতো দূরের কথা দৈনন্দিন কাজেও ব্যবহারের প্রায় অনুপযোগী।

পৌর শহরের ২ নং ওয়ার্ডের গৃহিণী মাহমুদা আক্তার বলেন, সময় মতন আমরা পানি পাই না। যে কারণে বাসাবাড়ির কাজ করতে সমস্যা হয়। পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয়, কখন পানি আসবে। বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে গেলে এসে আর পানি পাওয়া যায় না। আমরা খুব সমস্যার ভিতরে আছি।

নিউমার্কেট এলাকার বাসিন্দা আবির জামান ফেইসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেন, পৌরসভার পানি প্রকল্পের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতের বরাদ্দ আত্মসাৎ করে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা একটি চরম অন্যায় এবং নিন্দনীয় অপরাধ। দুর্নীতির কারণে পৌরসভায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সত্যিই পীড়াদায়ক। তৎকালীন সময়ের পৌরসভার এই দুর্নীতিবাজদের আল্লাহ তুমি হেদায়েত করো।

পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান কাওসার বলেন, প্রকল্পটির প্রায় পাঁচ বছর আগে শেষ হয়ে গেছে, আমি এখানে নতুন জয়েন করেছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর আসে, পানি লাইনের পাইপ ফেটে যায়। আমরা চেষ্টা করছি নিম্নমানের পাইপগুলো মেরামত করার। লো ভোল্টেজের কারণে সঠিক সময় পানি উত্তোলন করা সম্ভব হয় না এজন্য পৌরবাসীর ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা অমল কৃষ্ণ সাহা বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে গ্রাহকরা সময় মতন পানি পাচ্ছে না। পূর্বে নিম্নমানের কাজ হওয়ার কারণে বিভিন্ন সময় পাইপ গুলো ফেটে যায় সেগুলো সংস্কার করতে হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

মঠবাড়িয়ায় ৫৩ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে অনিয়ম: পানীয় জলের তীব্র সংকটে জনজীবন

মঠবাড়িয়ায় ৫৩ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে অনিয়ম: পানীয় জলের তীব্র সংকটে জনজীবন

আপডেট সময় ০৮:১৬:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

পিরোজপুরের প্রথম শ্রেণির মঠবাড়িয়া পৌরসভায় ৫৩ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে বাস্তবায়িত পানি সরবরাহ প্রকল্প নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না পৌরবাসী। অনিয়মিত পানি সরবরাহ, পাইপ ফেটে যাওয়া, দুর্গন্ধ ও কর্দমাক্ত পানি পাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

পৌরবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে সি.টি.ই.আই.পি প্রকল্পের আওতায় ৫৩ কোটি ৯ লাখ ৯৫ হাজার ৮৬ টাকা ব্যয়ে পানি সরবরাহ প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। গোপালগঞ্জের সিনোকোনোস্ট-এমটি অ্যান্ড এসএস কনসোর্টিয়াম নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটির কাজ করে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ৫৪ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করে বাসাবাড়িতে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ চলাকালে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে শুরু থেকেই নানা সমস্যা দেখা দেয়। কাজ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে পাইপ ফেটে যাচ্ছে, নিয়মিত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় দুর্গন্ধযুক্ত ও ময়লাযুক্ত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে, যা পান করা তো দূরের কথা, দৈনন্দিন কাজেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

ভুক্তভোগীরা জানান, ২০১৪ সালে কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারের লোকজন মঠবাড়িয়া পৌরসভার অফিসে অসাধু কর্মকর্তা যোগসাজশে প্রকল্পের অবকাঠামো কাজে খুবই নিম্নমানের পাইপ, লোহা, পাথর, সিমেন্ট ব্যবহার করে পাম্প, হাউজ, বেজ ঢালাইসহ আনুষঙ্গিক নির্মাণ কাজ করেছেন। ওই সময় অভিযোগ করলেও পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো গুরুত্ব দেয়নি বরং বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছে।

পৌর বাসিন্দাদের অভিযোগ, পানির প্রকল্পের কাজ শেষ হতে না হতেই বিভিন্নস্থান থেকে পাইপ ফেটে পানি বের হচ্ছে। অনিয়মিত পানি সরবরাহ, দুর্গন্ধ ও কর্দমাক্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে। এই পানি পান করাতো দূরের কথা দৈনন্দিন কাজেও ব্যবহারের প্রায় অনুপযোগী।

পৌর শহরের ২ নং ওয়ার্ডের গৃহিণী মাহমুদা আক্তার বলেন, সময় মতন আমরা পানি পাই না। যে কারণে বাসাবাড়ির কাজ করতে সমস্যা হয়। পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয়, কখন পানি আসবে। বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে গেলে এসে আর পানি পাওয়া যায় না। আমরা খুব সমস্যার ভিতরে আছি।

নিউমার্কেট এলাকার বাসিন্দা আবির জামান ফেইসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেন, পৌরসভার পানি প্রকল্পের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতের বরাদ্দ আত্মসাৎ করে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা একটি চরম অন্যায় এবং নিন্দনীয় অপরাধ। দুর্নীতির কারণে পৌরসভায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সত্যিই পীড়াদায়ক। তৎকালীন সময়ের পৌরসভার এই দুর্নীতিবাজদের আল্লাহ তুমি হেদায়েত করো।

পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান কাওসার বলেন, প্রকল্পটির প্রায় পাঁচ বছর আগে শেষ হয়ে গেছে, আমি এখানে নতুন জয়েন করেছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর আসে, পানি লাইনের পাইপ ফেটে যায়। আমরা চেষ্টা করছি নিম্নমানের পাইপগুলো মেরামত করার। লো ভোল্টেজের কারণে সঠিক সময় পানি উত্তোলন করা সম্ভব হয় না এজন্য পৌরবাসীর ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা অমল কৃষ্ণ সাহা বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে গ্রাহকরা সময় মতন পানি পাচ্ছে না। পূর্বে নিম্নমানের কাজ হওয়ার কারণে বিভিন্ন সময় পাইপ গুলো ফেটে যায় সেগুলো সংস্কার করতে হচ্ছে।