পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের খাবার সরবরাহ ও ডায়েট চার্টে খাদ্যপণ্যের দামে বড় ধরনের গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাজারদরের তুলনায় ডায়েট চার্টে কয়েকটি খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেশি উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত পরিমাণ ও মান অনুযায়ী খাবার না দেওয়া, সময়মতো খাবার সরবরাহ না করা এবং রোগীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও করেছেন রোগী ও স্বজনরা।
হাসপাতালের ডায়েট চার্ট অনুযায়ী, বয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজি ৪০০ টাকা ধরা হয়েছে। অথচ স্থানীয় বাজারে একই ধরনের মুরগির দাম প্রায় ১৮০ টাকা। আলুর দাম চার্টে কেজিপ্রতি ৫৫ টাকা, বাজারে প্রায় ৩০ টাকা। পেঁয়াজের দাম ১৪৫ টাকা ধরা হলেও বাজারে তা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ডিমের দাম প্রতিটি ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে বাজারে দাম ১০ থেকে ১২ টাকা। প্যাকেট লবণের দাম ৪৫ টাকা ধরা হয়েছে, বাজারে যার দাম প্রায় ৩৫ টাকা। কাঁচা মরিচের বাজারদর প্রায় ৮০ টাকা হলেও চার্টে ১৫০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ডায়েট চার্টে তেলাপিয়া মাছের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় বাজারে এ মাছের দাম প্রায় ১২০ থেকে ২২০ টাকা। ইরি-স্বর্ণা চালের দাম কেজিপ্রতি ৭৫ টাকা ধরা হলেও স্থানীয় বাজারে এর দাম প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ টাকা বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন রোগী ভর্তি থাকেন।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ডায়েট চার্ট অনুযায়ী দুপুরের খাবারে মাছ বা মাংস দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক সময় তার পরিবর্তে ডিম দেওয়া হয়। সকালের নাস্তায় কখনো নষ্ট কলা ও রুটি দেওয়া হয়। নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী ভাত, মাছ-মাংসসহ অন্যান্য খাবারও দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় দুপুর ও রাতের খাবার একসঙ্গে সরবরাহ করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
ভর্তিরোগী হাফিজা আক্তার বলেন, ‘গত পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি। এই কয়দিন একই অবস্থা চলছে। ভাত দিলে তরকারি দেয় না, তরকারি দিলে ভাত দেয় না। ভাতও খুব কম দেওয়া হয়। সাংবাদিক আসার কারণে আজ রোগীদের সবকিছু পর্যাপ্ত ও ভালোভাবে দেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকরা চলে গেলে আচরণও খারাপ করা হয়।’
হাসপাতালের বাবুর্চি বুলবুলি বেগম বলেন, ‘আমি রাতের ভাত বিকেলে রান্না করে গরম গরম দিয়ে যাই। দুপুরের খাবার দুপুর ১টার মধ্যে দিই। তবে আমার সমস্যার কারণে মাঝে মাঝে দেরি হয়, তবে ২টার মধ্যেই দেওয়া হয়। এখানে দুজন স্টাফ থাকার কথা থাকলেও আমি একাই আছি। ডায়েট চার্টে দুপুরে ডিম দেওয়ার কথা না থাকলেও মাঝে মাঝে ডিম দেওয়া হয়।’
খাবার সরবরাহের বিষয়ে ঠিকাদার ইয়াসিন রিফাত বলেন, ‘খাবারের মান খুবই ভালো। খাবারের মান যাচাই-বাছাই করা নার্সিং সুপারভাইজার ও আরএমওর দায়িত্ব। আমার দায়িত্ব খাবার সরবরাহ করা। খাবার পরিবেশন করা অফিস কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।’
এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক স্টাফের বিরুদ্ধে সেবা দেওয়ার পর রোগীর স্বজনের কাছে অর্থ বা ‘হাদিয়া’ চাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এক শিশুর মা অভিযোগ করেন, ড্রেসিং ও গ্যাস দেওয়ার পর এক অফিস স্টাফ তার কাছে টাকা চান।
অভিযোগের বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মী জহিরুল বলেন, ড্রেসিং করার পর ‘চা খাওয়ার জন্য হাদিয়া’ চাওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ডায়েট চার্ট অনুযায়ী বাবুর্চির খাবার গ্রহণ এবং রোগীদের মধ্যে সঠিকভাবে তা পরিবেশন করার কথা। খাবার সরবরাহ ও পরিবেশনে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা তদারকির দায়িত্বও কর্তৃপক্ষের।
জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ননী গোপাল রায় বলেন, ‘ডায়েট রিসিভ করার জন্য লোক আছে। ঠিকমতো ডায়েট দেওয়া হচ্ছে কি না এবং ডায়েটে কোনো অসংগতি আছে কি না, তারা তা মনিটর করে আমাকে জানাবে। ইতোমধ্যে কিছু অভিযোগ পেয়েছি। সে বিষয়ে ঠিকাদারকে শোকজ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে ঠিকাদারকে ডেকে সতর্ক করা হবে।’
ডায়েট চার্টে খাদ্যপণ্যের তুলনামূলক বেশি দামের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দামটি ই-জিপি সিস্টেমের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।’


























