নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে পূর্বঘোষণা ছাড়াই হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে তিনি চিকিৎসাসেবার মান, ওষুধের সরবরাহ ও মজুত, রোগীদের খাবার এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনের শুরুতে মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। চিকিৎসাসেবা নিয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা জানতে চান এবং প্রয়োজনীয় সেবা যথাযথভাবে দেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে রোগীদের কাছ থেকে সরাসরি মতামত নেন। পরে তিনি জানান, রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা চিকিৎসাসেবা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে হাসপাতালের কয়েকটি টয়লেট ও বাথরুম অপরিষ্কার থাকায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এর আগে আজ সকাল ১০টার দিকে মাননীয় মন্ত্রী নওগাঁ সদর হাসপাতালে আকস্মিক ভাবে সাদামাটা ভাবেই প্রবেশ করে সামগ্রিক বিষয়ে খোজ খবর নেন। এছাড়া মাননীয় মন্ত্রী নিজে রোগীদের জন্য রান্না করা খাবার খেয়ে দেখেন এবং কয়েকটি ওয়ার্ডে রোগী ও চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেন।
হাসপাতালের রোগীদের খাবারের মান যাচাই করতেও রান্নাঘরে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা খাবার নিজে পরীক্ষা করে দেখেন। রোগীদের প্রতিদিন কী ধরনের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে এবং খাবারের মান ঠিক আছে কি না, তা সরেজমিনে দেখতেই রান্নাঘর পরিদর্শন করেছেন বলে জানান তিনি।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোগীদের প্রয়োজনীয় অ্যাজিথ্রোমাইসিন ওষুধ এক মাস ২৩ দিন ধরে সরবরাহ করা হয়নি। অথচ হাসপাতালের স্টোরে ওই ওষুধ মজুত ছিল বলে তিনি জানান।
মজুত থাকা সত্ত্বেও রোগীদের কাছে ওষুধ পৌঁছায়নি কেন—এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিষয়টি তদন্ত করে দেখার কথা জানান। তিনি বলেন, স্টোরে ওষুধ থাকার পরও রোগীরা দীর্ঘ সময় ধরে সেটি না পাওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা হবে। এ ঘটনায় হাসপাতালের স্টোরকিপারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও ইঙ্গিত দেন তিনি। বিষয়টি ঢাকায় গিয়ে পর্যালোচনা করার পর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানানো হবে বলে জানান মন্ত্রী।
এদিকে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী। তিনি জানান, হাসপাতালের পুরোনো ভবন ভেঙে সেখানে নতুন করে নয়তলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বর্তমান হাসপাতালটিকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের শুরু থেকেই স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য ও মানসম্মত করতে বিভিন্ন হাসপাতাল নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ যেন প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
স্বাস্থ্য খাতে জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী জানান, চলতি বছরে আড়াই হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি এ বছর ৪১ হাজার ৩৯০ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রাম পর্যায়ে গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন। এ ছাড়া দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক এই পরিদর্শনকে ঘিরে হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়। বিশেষ করে পুরোনো ভবনের পরিবর্তে নতুন নয়তলা ভবন নির্মাণ এবং হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণাকে স্থানীয়রা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। একই সঙ্গে স্টোরে ওষুধ থাকার পরও রোগীদের তা না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রীর অসন্তোষ ও তদন্তের ঘোষণাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিদর্শনকালে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পাল, বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানা, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকির হোসেন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হাসানসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

























