নিজ দলের নেতাদের প্রকাশ্যে মারধর ও হলের সিট দখলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাকিল আহমেদকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় সংসদ। একই সাথে সংগঠনের সাংগঠনিক গতিশীলতা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম আবদুল্লাহ আল মাসুদকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। দলটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের অনুমোদনে এবং দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়েই শাকিল আহমেদের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২১ আগস্ট, যখন শাখা ছাত্রদলের দুই আহ্বায়ক সদস্য—মো. আমান উল্লাহ ও এস এম ইফতে খায়রুল নিজেদের নিরাপত্তা ও সিট পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আমান উল্লাহ অভিযোগ করেন, শাকিল আহমেদ তাঁকে বরাদ্দকৃত কক্ষে প্রবেশে বাধা দেন এবং সিটটি জোরপূর্বক দখল করে নেন। অপর সদস্য এস এম ইফতে খায়রুল জানান, গত ২০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে শাকিল আহমেদ তাঁকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
বহিষ্কৃত নেতা শাকিল আহমেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ এবং চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের খবর গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়। এমনকি এক ভুক্তভোগী চাকরির আশায় নিজের পরিবারের শেষ সম্বল গরু বিক্রি করে শাকিলকে টাকা দিয়েছিলেন বলেও দাবি উঠেছিল। এসব অভিযোগের কোনোটির ফয়সালা হওয়ার আগেই নতুন করে নিজ দলীয় সহযোদ্ধাদের ওপর হামলায় শেষ পর্যন্ত পদ হারাতে হলো তাঁকে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের ৩৭ সদস্যের এই আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছিল। শীর্ষ নেতার এই বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মোড় এল।


























