, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গোপালগঞ্জে এস এ পরিবহনে কোটি টাকার মা-দ-ক চোরা-চালান” ম্যানেজার আটক কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নওগাঁ জেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন সিরাজগঞ্জে হ-ত্যা মাম-লার ৬ জনের যাব-জ্জীবন কারাদণ্ড কাউনিয়ায় নিরাপদ অভিবাসন নিয়ে প্রবাসবন্ধু ফোরামের ত্রৈমাসিক সভা কাউনিয়ায় পাকা সেতু না থাকায় ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার সিটি কর্পোরেশনের খেলার মাঠের সুব্যবস্থাকরণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী সদর দলিল লেখক সমিতির পক্ষ থেকে জেলা পরিষদের প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা ভেটেরিনারি চিকিৎসকের ওপর হা-ম-লার ঘটনায় বাকৃবিতে প্রতিবাদ রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব পদে ঠাকূরগাঁওয়ের কৃতি সন্তান আউয়াল আহমেদ

শিবচরে ক্লুলেস হ/ত্যাকা/ণ্ডের রহস্য ভেদ

শিবচরে ক্লুলেস হ/ত্যাকা/ণ্ডের রহস্য ভেদ

১৯

মাদারীপুরের শিবচরে চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস এক হত্যাকাণ্ডের রহস্য ভেদ করেছে জেলা পুলিশ ও র‍্যাব। পরকীয়া বা পারিবারিক বিরোধের জেরে ২৮ বছর বয়সী স্ত্রী শাম্পা খাতুনকে নির্মমভাবে হত্যার পর তার এক বছরের কোলের শিশু সন্তান আবিরকে আড়িয়াল খাঁ নদের পানিতে ফেলে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন প্রধান আসামী ফারুক মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে এবং ভিকটিমের ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার ও পোড়ানো ওড়না উদ্ধার করেছে।

গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ সকাল অনুমান ১১:৩০ ঘটিকার দিকে শিবচর থানাধীন মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি সাকিনস্থ খান বাড়ীর দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদরাসার অপর পাশে জনৈক বিল্লাল শিকদারগণের মালিকানাধীন ভূমির ঝোপের পাশে অজ্ঞাত এক নারীর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে শিবচর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে এবং তার পরিচয় শনাক্ত করে।

নিহত শাম্পা খাতুনের বাবা ছামরুল ইসলাম (সাং-আট্রিকা, থানা-লালপুর, জেলা-নাটোর) থানায় উপস্থিত হয়ে জানান, প্রায় তিন বছর পূর্বে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার ছিদ্দিক হাওলাদারের ছেলে মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সাথে তার মেয়ে শাম্পার ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়। সংসার জীবনে তাদের ঘরে জন্ম নেয় ১ বছরের শিশুপুত্র আবির। গত ১৯ আগস্ট বিকালে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে তার মেয়ের মরদেহ শিবচর থানায় পাওয়া গেছে, তবে শিশুপুত্র আবিরকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

মাদারীপুরের সুযোগ্য পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান মহোদয়ের নির্দেশনায় এবং সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. সালাহ উদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশ ও র‍্যাব-৮, মাদারীপুর যৌথভাবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে ক্লুলেস এই মামলার তদন্ত শুরু করে। শিবচর ও রাজৈর থানা এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ফারুক মোল্লাকে (পিতা-রতন মোল্লা, সাং-জয়সোমা, তেরখাদা, খুলনা; বর্তমান ঠিকানা- বাখরেরকান্দি, শিবচর, মাদারীপুর) আটক করা হয়।

আটককৃত ফারুকের বাসা তল্লাশি করে নিহত শাম্পার ব্যবহৃত স্বর্ণের নাকপিন, রূপার গলার চেন, তার এক জোড়া জুতো এবং ঘরের চুলার ভেতর থেকে পোড়ানো অবস্থায় শাম্পার ওড়না উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী ফারুক স্বীকার করে যে, সে শাম্পা খাতুনকে হত্যার পর তার শিশুপুত্র আবিরকে আড়িয়াল খাঁ ব্রিজের ওপর থেকে নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে। বর্তমানে নদী থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মাদারীপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, হত্যা, ডাকাতি এবং ছিনতাইসহ যেকোনো অপরাধ দমনে তারা সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত অন্যান্যদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দলের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

গোপালগঞ্জে এস এ পরিবহনে কোটি টাকার মা-দ-ক চোরা-চালান” ম্যানেজার আটক

শিবচরে ক্লুলেস হ/ত্যাকা/ণ্ডের রহস্য ভেদ

আপডেট সময় ১০:০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
১৯

মাদারীপুরের শিবচরে চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস এক হত্যাকাণ্ডের রহস্য ভেদ করেছে জেলা পুলিশ ও র‍্যাব। পরকীয়া বা পারিবারিক বিরোধের জেরে ২৮ বছর বয়সী স্ত্রী শাম্পা খাতুনকে নির্মমভাবে হত্যার পর তার এক বছরের কোলের শিশু সন্তান আবিরকে আড়িয়াল খাঁ নদের পানিতে ফেলে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন প্রধান আসামী ফারুক মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে এবং ভিকটিমের ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার ও পোড়ানো ওড়না উদ্ধার করেছে।

গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ সকাল অনুমান ১১:৩০ ঘটিকার দিকে শিবচর থানাধীন মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি সাকিনস্থ খান বাড়ীর দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদরাসার অপর পাশে জনৈক বিল্লাল শিকদারগণের মালিকানাধীন ভূমির ঝোপের পাশে অজ্ঞাত এক নারীর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে শিবচর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে এবং তার পরিচয় শনাক্ত করে।

নিহত শাম্পা খাতুনের বাবা ছামরুল ইসলাম (সাং-আট্রিকা, থানা-লালপুর, জেলা-নাটোর) থানায় উপস্থিত হয়ে জানান, প্রায় তিন বছর পূর্বে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার ছিদ্দিক হাওলাদারের ছেলে মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সাথে তার মেয়ে শাম্পার ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়। সংসার জীবনে তাদের ঘরে জন্ম নেয় ১ বছরের শিশুপুত্র আবির। গত ১৯ আগস্ট বিকালে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে তার মেয়ের মরদেহ শিবচর থানায় পাওয়া গেছে, তবে শিশুপুত্র আবিরকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

মাদারীপুরের সুযোগ্য পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান মহোদয়ের নির্দেশনায় এবং সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. সালাহ উদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশ ও র‍্যাব-৮, মাদারীপুর যৌথভাবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে ক্লুলেস এই মামলার তদন্ত শুরু করে। শিবচর ও রাজৈর থানা এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ফারুক মোল্লাকে (পিতা-রতন মোল্লা, সাং-জয়সোমা, তেরখাদা, খুলনা; বর্তমান ঠিকানা- বাখরেরকান্দি, শিবচর, মাদারীপুর) আটক করা হয়।

আটককৃত ফারুকের বাসা তল্লাশি করে নিহত শাম্পার ব্যবহৃত স্বর্ণের নাকপিন, রূপার গলার চেন, তার এক জোড়া জুতো এবং ঘরের চুলার ভেতর থেকে পোড়ানো অবস্থায় শাম্পার ওড়না উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী ফারুক স্বীকার করে যে, সে শাম্পা খাতুনকে হত্যার পর তার শিশুপুত্র আবিরকে আড়িয়াল খাঁ ব্রিজের ওপর থেকে নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে। বর্তমানে নদী থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মাদারীপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, হত্যা, ডাকাতি এবং ছিনতাইসহ যেকোনো অপরাধ দমনে তারা সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত অন্যান্যদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দলের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে।