, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পিরোজপুরে বৃক্ষরোপণ ও মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহীর তালাইমারিতে অবস্থিত ক্যামব্রিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল পরিদর্শন পিরোজপুরে দু-র্নী-তি বিরোধী প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জে এসআই পদে পদোন্নতি পেলেন সোহেল মিয়া বাকৃবি সিএএসআরের ৪০তম সমন্বয়ক হলেন অধ্যাপক রুহুল আমিন হামের টিকা দেওয়ার পর ৯ মাসের শি-শুর পা ফুলে যাওয়ার অভিযোগ কালুখালী মহিলা কলেজের অগ্রযাত্রায় এমপির আশ্বাস বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের পীরগঞ্জ উপজেলা শাখা নতুন কমিটি গঠন রায়গঞ্জে এমপির গাড়ি ভাঙচুর: জামায়াতকে জড়িয়ে বক্তব্যের প্রতিবাদে জামায়াতের বিবৃতি লালপুরে ইমো হ্যা-কিং চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফ-তার

সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ

  • MD KAMRUL HASAN, NEWS EDITOR, DAINIK AMAR PATRIKA
  • আপডেট সময় ০৮:৩৬:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • 37

সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ।

৪৯

বৃহস্পতিবার ০৯ জুলাই ২০২৬ সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

উক্ত অভিযানের প্রেক্ষিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হতে অদ্যাবধি ৪৯ টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগান গোলা ও ২টি ওয়াকি-টকি উদ্ধার এবং ৪২ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এসময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এছাড়াও সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনী তার সহযোগীসহ সর্বমোট ৭ জন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। কোস্ট গার্ডের কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত অভিযানের ফলে দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সক্রিয় সদস্য দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এ প্রেক্ষিতে, গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ বুধবার বিকাল ৫ টায় বাগেরহাটের শরনখোলা থানাধীন সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ড এর নিকট আত্মসমর্পণ করে। এসময় তাদের কাছে থাকা ২ টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১ টি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১টি ওয়াকিটকি কোস্ট গার্ড এর নিকট জমা প্রদান করে। এছাড়াও উক্ত সময় ডাকাত সদস্যদের নিকট হতে জিম্মি থাকা ১ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

আত্মসমর্পণকারী ডাকাত আলামিন হোসেন (৪০) বাগেরহাট জেলার মোংলা থানা, তৈবুর রহমান (২৪) সাতক্ষীরা জেলার তালা থানা এবং মনিরুজ্জামান মামুন (২০) খুলনার জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।

জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জেলেকে পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর নিরলস অভিযান এবং কঠোর অবস্থানের কারণেই সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো অনেকাংশে দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সুন্দরবনের সকল সক্রিয় ডাকাতদের দস্যুবৃত্তি পরিহার করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর নিকট আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে ইচ্ছুক, আত্মসমর্পণের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ প্রদান করা হবে। অন্যথায়, যারা আত্মসমর্পণ না করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত “জিরো টলারেন্স” নীতির আলোকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একইসাথে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। সরকারের নির্দেশনা, আপনাদের সকলের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

(ব্রিফিং প্রদানকারী কর্মকর্তাঃ কমান্ডার মোঃ মানসুরুন মাহ্‌দীন, (এনডি), পিএসসি, বিএন, নির্বাহী কর্মকর্তা বিসিজিএস কামরুজ্জামান)। ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ ও জিম্মি।
সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ ও জিম্মি জেলে।
ডাকাত আটক
বৃহস্পতিবার ০৯ জুলাই ২০২৬ সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

উক্ত অভিযানের প্রেক্ষিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হতে অদ্যাবধি ৪৯ টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগান গোলা ও ২টি ওয়াকি-টকি উদ্ধার এবং ৪২ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এসময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এছাড়াও সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনী তার সহযোগীসহ সর্বমোট ৭ জন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। কোস্ট গার্ডের কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত অভিযানের ফলে দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সক্রিয় সদস্য দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এ প্রেক্ষিতে, গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ বুধবার বিকাল ৫ টায় বাগেরহাটের শরনখোলা থানাধীন সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ড এর নিকট আত্মসমর্পণ করে। এসময় তাদের কাছে থাকা ২ টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১ টি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১টি ওয়াকিটকি কোস্ট গার্ড এর নিকট জমা প্রদান করে। এছাড়াও উক্ত সময় ডাকাত সদস্যদের নিকট হতে জিম্মি থাকা ১ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

আত্মসমর্পণকারী ডাকাত আলামিন হোসেন (৪০) বাগেরহাট জেলার মোংলা থানা, তৈবুর রহমান (২৪) সাতক্ষীরা জেলার তালা থানা এবং মনিরুজ্জামান মামুন (২০) খুলনার জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।

জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জেলেকে পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর নিরলস অভিযান এবং কঠোর অবস্থানের কারণেই সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো অনেকাংশে দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সুন্দরবনের সকল সক্রিয় ডাকাতদের দস্যুবৃত্তি পরিহার করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর নিকট আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে ইচ্ছুক, আত্মসমর্পণের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ প্রদান করা হবে। অন্যথায়, যারা আত্মসমর্পণ না করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত “জিরো টলারেন্স” নীতির আলোকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একইসাথে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। সরকারের নির্দেশনা, আপনাদের সকলের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

(ব্রিফিং প্রদানকারী কর্মকর্তাঃ কমান্ডার মোঃ মানসুরুন মাহ্‌দীন, (এনডি), পিএসসি, বিএন, নির্বাহী কর্মকর্তা বিসিজিএস কামরুজ্জামান)।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

পিরোজপুরে বৃক্ষরোপণ ও মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়

সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ

আপডেট সময় ০৮:৩৬:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
৪৯

বৃহস্পতিবার ০৯ জুলাই ২০২৬ সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

উক্ত অভিযানের প্রেক্ষিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হতে অদ্যাবধি ৪৯ টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগান গোলা ও ২টি ওয়াকি-টকি উদ্ধার এবং ৪২ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এসময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এছাড়াও সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনী তার সহযোগীসহ সর্বমোট ৭ জন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। কোস্ট গার্ডের কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত অভিযানের ফলে দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সক্রিয় সদস্য দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এ প্রেক্ষিতে, গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ বুধবার বিকাল ৫ টায় বাগেরহাটের শরনখোলা থানাধীন সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ড এর নিকট আত্মসমর্পণ করে। এসময় তাদের কাছে থাকা ২ টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১ টি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১টি ওয়াকিটকি কোস্ট গার্ড এর নিকট জমা প্রদান করে। এছাড়াও উক্ত সময় ডাকাত সদস্যদের নিকট হতে জিম্মি থাকা ১ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

আত্মসমর্পণকারী ডাকাত আলামিন হোসেন (৪০) বাগেরহাট জেলার মোংলা থানা, তৈবুর রহমান (২৪) সাতক্ষীরা জেলার তালা থানা এবং মনিরুজ্জামান মামুন (২০) খুলনার জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।

জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জেলেকে পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর নিরলস অভিযান এবং কঠোর অবস্থানের কারণেই সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো অনেকাংশে দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সুন্দরবনের সকল সক্রিয় ডাকাতদের দস্যুবৃত্তি পরিহার করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর নিকট আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে ইচ্ছুক, আত্মসমর্পণের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ প্রদান করা হবে। অন্যথায়, যারা আত্মসমর্পণ না করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত “জিরো টলারেন্স” নীতির আলোকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একইসাথে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। সরকারের নির্দেশনা, আপনাদের সকলের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

(ব্রিফিং প্রদানকারী কর্মকর্তাঃ কমান্ডার মোঃ মানসুরুন মাহ্‌দীন, (এনডি), পিএসসি, বিএন, নির্বাহী কর্মকর্তা বিসিজিএস কামরুজ্জামান)। ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ ও জিম্মি।
সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ ও জিম্মি জেলে।
ডাকাত আটক
বৃহস্পতিবার ০৯ জুলাই ২০২৬ সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

উক্ত অভিযানের প্রেক্ষিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হতে অদ্যাবধি ৪৯ টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগান গোলা ও ২টি ওয়াকি-টকি উদ্ধার এবং ৪২ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এসময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এছাড়াও সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনী তার সহযোগীসহ সর্বমোট ৭ জন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। কোস্ট গার্ডের কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত অভিযানের ফলে দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সক্রিয় সদস্য দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এ প্রেক্ষিতে, গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ বুধবার বিকাল ৫ টায় বাগেরহাটের শরনখোলা থানাধীন সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ড এর নিকট আত্মসমর্পণ করে। এসময় তাদের কাছে থাকা ২ টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১ টি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১টি ওয়াকিটকি কোস্ট গার্ড এর নিকট জমা প্রদান করে। এছাড়াও উক্ত সময় ডাকাত সদস্যদের নিকট হতে জিম্মি থাকা ১ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

আত্মসমর্পণকারী ডাকাত আলামিন হোসেন (৪০) বাগেরহাট জেলার মোংলা থানা, তৈবুর রহমান (২৪) সাতক্ষীরা জেলার তালা থানা এবং মনিরুজ্জামান মামুন (২০) খুলনার জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।

জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জেলেকে পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর নিরলস অভিযান এবং কঠোর অবস্থানের কারণেই সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো অনেকাংশে দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সুন্দরবনের সকল সক্রিয় ডাকাতদের দস্যুবৃত্তি পরিহার করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর নিকট আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে ইচ্ছুক, আত্মসমর্পণের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ প্রদান করা হবে। অন্যথায়, যারা আত্মসমর্পণ না করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত “জিরো টলারেন্স” নীতির আলোকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একইসাথে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। সরকারের নির্দেশনা, আপনাদের সকলের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

(ব্রিফিং প্রদানকারী কর্মকর্তাঃ কমান্ডার মোঃ মানসুরুন মাহ্‌দীন, (এনডি), পিএসসি, বিএন, নির্বাহী কর্মকর্তা বিসিজিএস কামরুজ্জামান)।