আজ রক্তাক্ত ১৫ই আগস্ট-বাঙালি জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাবিধুর, কলঙ্কিত ও ট্র্যাজিক দিন। ১৯৭৫ সালের এই কালরাত্রিতে স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহীয়সী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এই শোকাবহ দিনে ১৫ই আগস্টের সকল শহীদের পবিত্র স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা এবং তাঁদের রূহের মাগফিরাত কামনা করি।
সাংবাদিকতার মৌলিক অঙ্গীকার হলো সত্যের পক্ষে অবিচল থাকা এবং পক্ষপাতহীনভাবে ইতিহাসের সঠিক মূল্যায়ন তুলে ধরা। আজ যখন আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ভূখণ্ডে দাঁড়িয়ে ইতিহাসকে পর্যবেক্ষণ করি, তখন কিছু নির্মম বাস্তবতা বিবেকবান গণমাধ্যমকর্মীদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে।
লাখো শহীদের আত্মত্যাগ, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম বীরত্ব এবং মা-বোনদের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এক রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের বর্বর শাসন থেকে এই বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাসের চরম পরিহাস-আজ সেই স্বাধীন ভূখণ্ডেই পরাজিত শক্তির যেকোনো আখ্যান বা দিবস চর্চায় কোনো অদৃশ্য দ্বিধা থাকে না; অথচ এই সার্বভৌম রাষ্ট্রের রূপকার ও স্বাধীনতার মহানায়কের শাহাদাত বার্ষিকী পালন কিংবা শ্রদ্ধা নিবেদন নিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতা ও কৃত্রিম বিতর্কের সৃষ্টি করা হয়।
একটি স্বাধীন জাতির জন্য এই ধরনের রাজনৈতিক দ্বিচারিতা চরম আত্মপ্রবঞ্চনার শামিল। ব্যক্তিকে নিয়ে মতপার্থক্য কিংবা রাজনীতির পরিবর্তন থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের জন্ম-ইতিহাস ও তার স্থপতির অবদানকে অস্বীকার করা মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার সঙ্গেই সরাসরি সাংঘর্ষিক।
ক্ষমতার পালাবদল কিংবা সাময়িক রাজনৈতিক বাতাবরণ দিয়ে ইতিহাসের চিরন্তন সত্যকে আড়াল করার অপচেষ্টা অতীতেও সফল হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। বন্দুকের নল বা রাষ্ট্রীয় নিস্তব্ধতা দিয়ে ক্ষণিকের বিভ্রান্তি তৈরি করা যায়, কিন্তু সাড়ে সাত কোটি মানুষের মুক্তির লড়াই আর রক্তের কালিতে লেখা বঙ্গবন্ধুর নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার সাধ্য কোনো শক্তির নেই।
গণমাধ্যমের নেতৃত্ব ও মুক্তচিন্তার একজন সচেতন প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের স্পষ্ট অবস্থান-ইতিহাস কারও রাজনৈতিক অভিরুচির মুখাপেক্ষী নয়। ইতিহাস নিজেই নিজের পথ তৈরি করে নেয়।
আজকের এই শোকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক-ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে কলম ও বিবেককে জাগ্রত রাখা। শোক যেন নিছক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে পরিণত হয় সত্যের পক্ষে অবিচল থাকার শক্তিতে ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের দৃঢ় প্রত্যয়ে।

























