, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
চাঁদের পাশে ‘সন্ধ্যাতারা’, মুগ্ধ আকাশপ্রেমীরা রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত নিখোঁজের একদিন পর খাল থেকে যুবকের ম-র-দেহ উদ্ধার ভাঙ্গুড়ায় জামায়াতের মেয়র প্রার্থীর গণসংযোগ মাগুরা শ্রীপুরে মহিলা এমপি’র মতবিনিময় ও বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ শিক্ষকতা জীবনের ইতি, ভালোবাসায় সিক্ত ঝর্ণা ইয়াসমিনের বিদায় কাউনিয়ায় ২৯ পিস ই-য়াবা-সহ যুবক গ্রে-প্তা-র ফুলবাড়ীতে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির ঘোষণা গোপালগঞ্জে তিন দিন নিখোঁজের পর পাটখেত থেকে বৃদ্ধার মর-দেহ উ-দ্ধার টুঙ্গিপাড়ায় দুই খাবার হোটেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, জরিমানা ১৪ হাজার টাকা

স্বচ্ছলতার স্বপ্নে প্রবাসে পাড়ি, মাটিচাপায় নিভে গেল শরিফুলের প্রাণ

স্বচ্ছলতার স্বপ্নে প্রবাসে পাড়ি, মাটিচাপায় নিভে গেল শরিফুলের প্রাণ

১৫

মালয়েশিয়ায় কর্মস্থলে মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার এক প্রবাসী যুবক। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কাজ করার সময় মাটিচাপা পড়ে নিহত হন মো. শরিফুল ইসলাম ফকির উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের মধ্যেপাড়া এলাকার মো. নজরুল ইসলাম ফকিরের ছেলে। জীবিকার তাগিদে প্রায় তিন বছর আগে তিনি মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে প্রবাসের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে আসছিলেন তিনি।

প্রতিদিনের মতো সোমবারও কর্মস্থলে কাজে যোগ দিয়েছিলেন শরিফুল। কিন্তু কে জানত, এ দিনটিই হবে তার জীবনের শেষ দিন। কাজের সময় হঠাৎ মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।

স্বজনরা জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও শরিফুলের সঙ্গে হাসিমুখে কথা হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন, “আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে বিয়ে করব।” দেশে ফিরে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ডিসেম্বরে বিয়ের বদলে তার নিথর দেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় এখন পরিবার।

শরিফুলের পরিবারে নেমে এসেছে একের পর এক নির্মম শোক। তার মেজো ভাই মাত্র সাত বছর বয়সে মারা যান। বড় ভাইও প্রতিবন্ধী। ফলে পরিবারের একমাত্র উপার্জনের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছিলেন শরিফুল। পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় প্রবাসে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন তিনি। সেই আশার প্রদীপটিও আজ নিভে গেল।

পরপর দুটি সন্তান হারানোর এই পাহাড়সম শোক এখন বইতে হচ্ছে শরিফুলের বৃদ্ধ বাবা মো. নজরুল ইসলাম ফকিরকে। একদিকে ছোটবেলায় এক সন্তানকে হারানোর বেদনা, অন্যদিকে প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিনের সংগ্রাম—এর মধ্যে পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ছেলেকেও হারিয়ে যেন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি।

শরিফুলের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বর্ণি ইউনিয়নের মধ্যেপাড়া এলাকার পরিবেশ। প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের স্বপ্ন ছিল, প্রবাসে পরিশ্রম করে একদিন শরিফুল হাসিমুখে দেশে ফিরবেন। আপনজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করবেন, নতুন সংসার শুরু করবেন। কিন্তু নির্মম এক দুর্ঘটনায় প্রবাসের মাটিতেই থেমে গেল তার সব স্বপ্ন।

শরিফুল ইসলাম ফকিরের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

চাঁদের পাশে ‘সন্ধ্যাতারা’, মুগ্ধ আকাশপ্রেমীরা

স্বচ্ছলতার স্বপ্নে প্রবাসে পাড়ি, মাটিচাপায় নিভে গেল শরিফুলের প্রাণ

আপডেট সময় ০৭:৩১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৫

মালয়েশিয়ায় কর্মস্থলে মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার এক প্রবাসী যুবক। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কাজ করার সময় মাটিচাপা পড়ে নিহত হন মো. শরিফুল ইসলাম ফকির উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের মধ্যেপাড়া এলাকার মো. নজরুল ইসলাম ফকিরের ছেলে। জীবিকার তাগিদে প্রায় তিন বছর আগে তিনি মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে প্রবাসের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে আসছিলেন তিনি।

প্রতিদিনের মতো সোমবারও কর্মস্থলে কাজে যোগ দিয়েছিলেন শরিফুল। কিন্তু কে জানত, এ দিনটিই হবে তার জীবনের শেষ দিন। কাজের সময় হঠাৎ মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।

স্বজনরা জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও শরিফুলের সঙ্গে হাসিমুখে কথা হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন, “আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে বিয়ে করব।” দেশে ফিরে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ডিসেম্বরে বিয়ের বদলে তার নিথর দেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় এখন পরিবার।

শরিফুলের পরিবারে নেমে এসেছে একের পর এক নির্মম শোক। তার মেজো ভাই মাত্র সাত বছর বয়সে মারা যান। বড় ভাইও প্রতিবন্ধী। ফলে পরিবারের একমাত্র উপার্জনের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছিলেন শরিফুল। পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় প্রবাসে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন তিনি। সেই আশার প্রদীপটিও আজ নিভে গেল।

পরপর দুটি সন্তান হারানোর এই পাহাড়সম শোক এখন বইতে হচ্ছে শরিফুলের বৃদ্ধ বাবা মো. নজরুল ইসলাম ফকিরকে। একদিকে ছোটবেলায় এক সন্তানকে হারানোর বেদনা, অন্যদিকে প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিনের সংগ্রাম—এর মধ্যে পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ছেলেকেও হারিয়ে যেন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি।

শরিফুলের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বর্ণি ইউনিয়নের মধ্যেপাড়া এলাকার পরিবেশ। প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের স্বপ্ন ছিল, প্রবাসে পরিশ্রম করে একদিন শরিফুল হাসিমুখে দেশে ফিরবেন। আপনজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করবেন, নতুন সংসার শুরু করবেন। কিন্তু নির্মম এক দুর্ঘটনায় প্রবাসের মাটিতেই থেমে গেল তার সব স্বপ্ন।

শরিফুল ইসলাম ফকিরের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।