মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মোঃ মোজাহারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। তিনি শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর এলাকার বাসিন্দা। আদালতের আদেশে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে একটি মিস মামলা দায়েরের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
শাহজাদপুর চৌকি আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মোসলেম উদ্দীন এ আদেশ দেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আদালত সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের হাতিয়ার পাড়া গ্রামের মৃত প্লালান সরকারের ছেলে মোঃ মোজাহার বাদী হয়ে কায়েমপুর গ্রামের মৃত আলীমুদ্দিনের ছেলে মোঃ উজ্জল আলী প্রামানিকের বিরুদ্ধে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন।
নালিশি দরখাস্তে বাদী উল্লেখ করেন, তিনি ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৯০ তারিখে চাঁদ আলীর কাছ থেকে কায়েমপুর মৌজার এসএ ১৫৫২ খতিয়ান, আরএস ২৩৭৬ খতিয়ানের ৬টি দাগের ভুমি ১৭২৭ নম্বর দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি প্রাপ্ত হয়ে ভোগদখলে ছিলেন।
বাদীর অভিযোগ, বিবাদী তাঁর নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে অন্য কোনো ব্যক্তির স্বাক্ষর সংযুক্ত করে ২২ এপ্রিল ১৯৯২ তারিখে শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২৪৫২ নম্বর বিনিময় দলিল তৈরি করে গোপন রাখেন। ফরিয়াদীর দাবি, তিনি ওই তারিখে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কোনো দলিল সম্পাদন করেননি এবং ওই দলিলে স্বাক্ষরও করেননি।
নালিশি দরখাস্তে তিনি আরও দাবি করেন, ওই দলিলটি যোগসাজশপূর্ণ ও জাল এবং ওই দলিলে উল্লেখিত সম্পত্তি তিনি বিবাদীকে দখল দেননি।
আদালত মামলার তদন্তের দায়িত্বে সিআইডি’র উপর ন্যস্ত করেন। তদন্তে বাদীর অভিযোগের কোন সত্যতা পায়না সিআইডির তদন্ত দল। তদন্তকালে প্রাপ্ত সাক্ষ্য, হস্তলিপি বিশারদের মতামত, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এক্সপার্টের মতামত এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা পর্যালোচনা করে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেন।
আদালত বলেন, কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে যথাযথ ও আইনগত কারণ না থাকা সত্ত্বেও আক্রোশবশত এবং ধারণাপ্রসূত অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মিথ্যা মামলা দায়ের করলে তিনি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ২১১ ধারার অপরাধে দোষী হতে পারেন।
এ কারণে উক্ত ধারার অপরাধ আমলে নেওয়ার বিষয়ে কেন ফরিয়াদীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জন্য ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের ১২ নম্বর আদেশে বাদী মোঃ মোজাহারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে আদালতের আদেশ অনুযায়ী ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি কোনো কারণ দর্শানোর ব্যাখ্যা দেননি। পরে কয়েকবার আদালতের সমন পেয়েও তিনি হাজির না হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেই সাথে বারবার আদালতে অনুপস্থিত থাকা এবং কারণ দর্শানোর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আদালত বাদী মোঃ মোজাহারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।




























