কিছু মুহূর্ত কোনো পরিচয়ের নয়, কোনো স্লোগানের নয়—শুধুই মানুষের।
এ যেন কেবল একটি শিশুর মাথায় হাত রাখা নয়—এ যেন স্নেহ, মমতা ও আশীর্বাদের নীরব এক ভাষা। ব্যস্ত জনসমুদ্রের কোলাহল, অসংখ্য উচ্ছ্বসিত হাত আর ক্যামেরার ঝলকানির মাঝেও কোমল সেই হাত যখন শিশুটির মাথায় আলতো করে বুলিয়ে যায়, মুহূর্তটুকু যেন হঠাৎ করেই সব কোলাহলকে ছাপিয়ে এক নীরব কবিতায় পরিণত হয়।
কী আশ্চর্য মায়া—একটি হাত, অথচ তার স্পর্শে যেন ঝরে পড়ে অগণিত আশীর্বাদ; কোনো শব্দ নেই, অথচ তার ভাষা কত গভীর! শিশুটির নিষ্পাপ চোখে বিস্ময়, মুখে মুগ্ধতার হাসি, আর মাথার ওপর স্নেহের সেই পরশ—যেন শব্দহীনভাবে বলে যায়, “ভালো থেকো, তোমার স্বপ্নগুলো বড় হোক, তোমার পথ আলোকিত হোক।”
কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই, নেই দূরত্বের দেয়াল; নেই কোনো বক্তব্য, স্লোগান কিংবা প্রচারের ভাষা—আছে কেবল একজন মানুষের সঙ্গে আরেকটি নিষ্পাপ হৃদয়ের আন্তরিক সংযোগ। একজন বড় মানুষের স্নেহ আর একটি শিশুর নির্মল অনুভূতির এই ছোট্ট মুহূর্তটি যেন মনে করিয়ে দেয়—মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে সবসময় বড় কোনো কথার প্রয়োজন হয় না; কখনো একটি আন্তরিক হাসি, একটি করমর্দন কিংবা মাথায় আলতো করে বুলিয়ে দেওয়া একটি হাতই হয়ে ওঠে হাজার কথার চেয়েও গভীর মানবিকতার প্রকাশ।
এমন একটি কোমল স্পর্শ নিছক আদর নয়—এ যেন ভবিষ্যতের কপালে ভালোবাসার পরশ, একটি শিশুর স্বপ্নের প্রতি নীরব আশীর্বাদ। শিশুটি শুধু আজকের ভিড়ের একটি মুখ নয়; সে আগামী দিনের স্বপ্ন, আগামী দিনের সম্ভাবনা। তাই তার মাথায় রাখা সেই স্নেহের হাত যেন অদৃশ্যভাবে ছুঁয়ে যায় ভবিষ্যতের দিগন্তকেও।
ক্ষমতা, পদ, পরিচয় কিংবা কোলাহলের ঊর্ধ্বে উঠে এমন একটি মুহূর্ত মানুষকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে আসে। কারণ শেষ পর্যন্ত পরিচয়ের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে মানুষের প্রতি মানুষের মমতা। মানুষের জীবনে এমন ছোট ছোট মুহূর্তই কখনো কখনো সবচেয়ে গভীর হয়ে থেকে যায়—হৃদয়ের কোনো এক নীরব কোণে, দীর্ঘদিনের জন্য।
পরিচয়ের ঊর্ধ্বে, কোলাহলের বাইরে—এ যেন মানুষের প্রতি মানুষের এক মুঠো মমতা; একটি কোমল স্পর্শ, যা হাজার কথার চেয়েও গভীর, হাজার ফুলের চেয়েও সুবাসিত।
লেখক- মুক্তচিন্তক ও গণমাধ্যমকর্মী


























