, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ভাঙ্গুড়ায় দফায় দফায় বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর, এলাকায় আতঙ্ক ভাঙ্গুড়ায় মাছোকাটা বিলে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু গোপালগঞ্জে নিখোঁজ গ্রীন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ শিবচরে গাছ কেটে মাটির নিচে গোড়া ঢাকার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ শাহজাহানপুরের ৫নং খরনা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী মোঃ ফজলুল হক উজ্জ্বল স্বপ্নের আধুনিক শিবচর গড়ার প্রত্যয়ে এনসিপির প্রার্থী ফেরদৌসের গণর‍্যালি নির্জন পুকুর পাড়ে অসহায় বৃদ্ধার একাকী বসবাস এ.এস.আই (নিরস্ত্র) নিয়োগে প্রথম দিনের কর্যক্রম স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন বড়ো দরগাহ হাইওয়ে পুলিশের জোরালো ভূমিকায় নিরাপদ সড়ক,স্বস্তিতে যাত্রীরা
নোটিশ :
দৈনিক আমরা পত্রিকার জন্য সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে। যোগাযোগঃ 01736-633859, 01715-145105, 01615-304076

শিবচরে গাছ কেটে মাটির নিচে গোড়া ঢাকার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ৭ নম্বর চরসম্ভুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাছ কাটার সরকারি অনুমতি নিয়ে আরও দুটি মূল্যবান মেহগনি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত কাটা গাছের গোড়া মাটি দিয়ে ঢেকে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে উপজেলা শিক্ষা বিভাগ।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়ের একটি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত চাম্বুল গাছ কাটার জন্য উপজেলা প্রশাসন প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে ২ হাজার ২৬০ টাকায় বিক্রির অনুমোদন দেয়। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, মাত্র ২ হাজার ২৬০ টাকার সেই গাছটি বাস্তবে বিক্রি করা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকায়। একই সঙ্গে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অনুমতি ছাড়াই কেটে ফেলা হয়েছে আরও দুটি মূল্যবান মেহগনি গাছ।

বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা প্রশ্ন করলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে দুটি গাছ কাটার অনুমোদন রয়েছে বলে দাবি করে। তবে তারা সংবাদকর্মীদের সামনে মাত্র একটি গাছ কাটার কাগজ দেখাতে সক্ষম হন।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হেমায়েত হোসেন বলেন, “আমরা দুটি গাছ কাটার অনুমতি পেয়েছি এবং দুটি গাছই কেটেছি।” তিনি তিনটি গাছ কাটার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

অন্যদিকে বিদ্যালয়ের দপ্তরি লোকমান মিয়া জানান, বিদ্যালয়ে দুটি গাছ কাটা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে আরও একটি মেহগনি গাছের তাজা গোড়া বের হয়ে আসলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। এতে মোট তিনটি গাছ কাটার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অনুমতি ছিল একটি গাছের, কিন্তু বিক্রি করা হয়েছে তিনটি। অনুমোদিত গাছটি স্থানীয় ব্যবসায়ী রাজা কাজির কাছে প্রায় ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। আর বাকি দুটি গাছ বিক্রি করা হয় অন্য একজনের কাছে। গাছ কাটা থেকে শুরু করে বিক্রির পুরো প্রক্রিয়াটি রাতের আঁধারে সম্পন্ন করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে স্থানীয় সাবেক এক ইউপি সদস্য সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, একটি গাছের অনুমতি নিয়ে তিনটি গাছ কেটে ফেলার ঘটনা বরদাশত করার মতো নয়। আমরা চাই ঘটনার পেছনে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা উর্মী আক্তার মুঠোফোনে জানান, বিদ্যালয় থেকে তাকে জানানো হয়েছিল একটি গাছ কাটার সময় দুর্ঘটনাবশত আরেকটি গাছ ভেঙে পড়ে এবং পরে সেটির অনুমতি চাওয়া হয়। তবে তিনটি গাছ কাটার আসল সত্যতা জানতে পেরে তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়্যেদাতুন নেসা রুপা বলেন, গত ১৪ জুলাই ২০২৬ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. ইবনে মিজানের সভাপতিত্বে প্রকাশ্য নিলামে একটি চাম্বুল গাছ ২ হাজার ২৬০ টাকায় বিক্রি করা হয় এবং সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত দুটি গাছ কাটার সত্যতা মেলায় সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সম্পদ আত্মসাতের এই ঘটনায় নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে

শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

শিবচরে গাছ কেটে মাটির নিচে গোড়া ঢাকার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

আপডেট সময় ১০:৩৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ৭ নম্বর চরসম্ভুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাছ কাটার সরকারি অনুমতি নিয়ে আরও দুটি মূল্যবান মেহগনি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত কাটা গাছের গোড়া মাটি দিয়ে ঢেকে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে উপজেলা শিক্ষা বিভাগ।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়ের একটি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত চাম্বুল গাছ কাটার জন্য উপজেলা প্রশাসন প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে ২ হাজার ২৬০ টাকায় বিক্রির অনুমোদন দেয়। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, মাত্র ২ হাজার ২৬০ টাকার সেই গাছটি বাস্তবে বিক্রি করা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকায়। একই সঙ্গে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অনুমতি ছাড়াই কেটে ফেলা হয়েছে আরও দুটি মূল্যবান মেহগনি গাছ।

বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা প্রশ্ন করলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে দুটি গাছ কাটার অনুমোদন রয়েছে বলে দাবি করে। তবে তারা সংবাদকর্মীদের সামনে মাত্র একটি গাছ কাটার কাগজ দেখাতে সক্ষম হন।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হেমায়েত হোসেন বলেন, “আমরা দুটি গাছ কাটার অনুমতি পেয়েছি এবং দুটি গাছই কেটেছি।” তিনি তিনটি গাছ কাটার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

অন্যদিকে বিদ্যালয়ের দপ্তরি লোকমান মিয়া জানান, বিদ্যালয়ে দুটি গাছ কাটা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে আরও একটি মেহগনি গাছের তাজা গোড়া বের হয়ে আসলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। এতে মোট তিনটি গাছ কাটার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অনুমতি ছিল একটি গাছের, কিন্তু বিক্রি করা হয়েছে তিনটি। অনুমোদিত গাছটি স্থানীয় ব্যবসায়ী রাজা কাজির কাছে প্রায় ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। আর বাকি দুটি গাছ বিক্রি করা হয় অন্য একজনের কাছে। গাছ কাটা থেকে শুরু করে বিক্রির পুরো প্রক্রিয়াটি রাতের আঁধারে সম্পন্ন করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে স্থানীয় সাবেক এক ইউপি সদস্য সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, একটি গাছের অনুমতি নিয়ে তিনটি গাছ কেটে ফেলার ঘটনা বরদাশত করার মতো নয়। আমরা চাই ঘটনার পেছনে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা উর্মী আক্তার মুঠোফোনে জানান, বিদ্যালয় থেকে তাকে জানানো হয়েছিল একটি গাছ কাটার সময় দুর্ঘটনাবশত আরেকটি গাছ ভেঙে পড়ে এবং পরে সেটির অনুমতি চাওয়া হয়। তবে তিনটি গাছ কাটার আসল সত্যতা জানতে পেরে তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়্যেদাতুন নেসা রুপা বলেন, গত ১৪ জুলাই ২০২৬ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. ইবনে মিজানের সভাপতিত্বে প্রকাশ্য নিলামে একটি চাম্বুল গাছ ২ হাজার ২৬০ টাকায় বিক্রি করা হয় এবং সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত দুটি গাছ কাটার সত্যতা মেলায় সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সম্পদ আত্মসাতের এই ঘটনায় নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।