গভীর রাত। চারপাশ যখন নীরবতায় ঢাকা, ঠিক তখনই মজলিসের গানের সুরে মুখর হয়ে উঠল চর দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজদ্দিন মৃধার পাড়া। জামতলা এলাকার তালেব মোল্লার চায়ের দোকানকে ঘিরে জমে ওঠে প্রাণের মজলিস। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে শত শত মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো এলাকা।
মজলিসের গানে কখনো আনন্দ, কখনো বেদনা, আবার কখনো স্বজন হারানোর কষ্টে আবেগঘন হয়ে ওঠে পরিবেশ। মজলিসের আসর মাতিয়ে তোলেন বিল্লাল মোল্লা। ভাই হারানোর বেদনা, সন্তান হারানোর কষ্টসহ জীবনের নানা দুঃখ-বেদনার কথা গানের সুরে তুলে ধরে তিনি উপস্থিত মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যান। গানের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কারও চোখে পানি, আবার কেউ গানের তালে তালে মিশে যান আনন্দের উচ্ছ্বাসে।
অনুষ্ঠানের সার্বিক আয়োজন ও গানের কার্যক্রমে ছিলেন রাসেল সাংবাদিক, দৈনিক নয়া কন্ঠ পত্রিকা। তাঁর সার্বিক উদ্যোগে আয়োজিত এই মজলিসে সহযোগিতায় ছিলেন আরব মোল্লা (প্রবাসী) এবং ফরিদুল ইসলাম ফরিদ, সভাপতি, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন অটো শ্রমিকদল ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী।
মজলিসে গান পরিবেশন করেন বারেক মোল্লার শিল্পী দল। পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন শিল্পী ও গায়ক দলও গান পরিবেশন করেন। তাঁদের পরিবেশনায় গভীর রাত পর্যন্ত জমে থাকে মজলিসের আসর।
এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝেও দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। স্থানীয় কয়েকজন বলেন, “রাসেল সাংবাদিক হিসেবে তাঁর দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে অল্প সময়ের মধ্যে এত সুন্দর একটি আয়োজন করেছেন—এমন আয়োজন আমরা আগে কখনো দেখিনি। পুরো এলাকার মানুষ আনন্দ পেয়েছে।”
অনুষ্ঠান ঘিরে স্থানীয়দের মুখে মুখে ছিল একই কথা—“এমন মজলিস আগে কখনো দেখিনি, আয়োজনটা ছিল অসাধারণ।”
জানা যায়, আয়োজনটি সফল করতে রাসেল সাংবাদিক নিজ উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করেন। তবে অর্থ খরচকে বড় করে দেখছেন না তিনি। রাসেল সাংবাদিক বলেন, “টাকা-পয়সা বড় বিষয় নয়, মূল বিষয় হলো মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করা। মানুষকে নিয়ে আনন্দ করতে পারাটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। কেউ টাকা দিয়ে আনন্দ কিনতে পারে না; মানুষের ভালোবাসার মধ্যেই আসল আনন্দ।”
গভীর রাতের এই মজলিসে গান, হাসি, আবেগ আর ভালোবাসার মেলবন্ধনে যেন কিছু সময়ের জন্য ভুলে গিয়েছিল সবাই জীবনের ব্যস্ততা ও দুঃখ-কষ্ট। স্থানীয়দের মতে, এমন আয়োজন শুধু বিনোদন নয়—এটি মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ও ভালোবাসার বন্ধন আরও দৃঢ় করে।

























