, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর বিএনপির কর্মসূচির উদ্বোধন ৯নং সুজানগর ইউনিয়নে আমবাড়ি বে-সরকারি ইস্কুলে উন্নয়নে এমপির ১ লক্ষ ২০ হাজার ৩৫০ টাকা বরাদ্দ নানান আয়োজনে পালিত হলো বড়লেখায় ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ৬৪০ কৃষককে নিয়ে নিরাপদ বালাইনাশক ব্যবহারে বাকৃবির মাঠ কার্যক্রম কালুখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন শাহজাদপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন কালুখালীতে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি বিধবা ভাতার অভিযোগ তদন্তে গিয়ে ‘মীমাংসার’ প্রস্তাব ইউনিয়ন সমাজকর্মীর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পঞ্চগড়ে মৎস্যজীবী দলের ব্যতিক্রমী আয়োজন, নদী-জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত শেরপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা

বিধবা ভাতার অভিযোগ তদন্তে গিয়ে ‘মীমাংসার’ প্রস্তাব ইউনিয়ন সমাজকর্মীর

বিধবা ভাতার অভিযোগ তদন্তে গিয়ে ‘মীমাংসার’ প্রস্তাব ইউনিয়ন সমাজকর্মীর

১২

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বিধবা ভাতার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ তদন্তে গিয়ে বিষয়টি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এক ইউনিয়ন সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে। আপসে রাজি না হয়ে বিচার চাওয়ার কথা জানালে ভুক্তভোগীর স্বামীর প্রায় দুই দশক আগের একটি ঋণের প্রসঙ্গ তুলে তা পরিশোধের কথা বলা হয় বলেও অভিযোগ পরিবারের।

অভিযুক্ত সমাজকর্মীর নাম মোঃ আশেকুর রহমান। তিনি দেবীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ইউনিয়ন সমাজকর্মী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন এবং টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করছেন।

গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বানেশ্বরপাড়ায় ভুক্তভোগী রহিমা বেগমের বাড়িতে তদন্তের জন্য যান আশেকুর রহমান। সেখানে তিনি রহিমা বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

ভুক্তভোগীর ছেলে জহিরউদ্দিন বলেন, “ইউনিয়ন সমাজকর্মী আশেকুর রহমান তদন্তের জন্য আমাদের বাড়িতে আসেন। তিনি বলেন, ‘মেম্বারের যে মান-সম্মান যাওয়ার, তা তো গেছেই। এগুলো নিয়ে বাড়াবাড়ি করে লাভ নেই। এর চেয়ে আপস করে নেন। আপনারা কত টাকা চান? আপনারা কী চান—টাকা নাকি বিচার?’ আমরা আপস করতে রাজি না হয়ে বিচার চাই বলে জানালে তিনি বলেন, আমার বাবা ১৬ বছর আগে সমাজসেবা অফিস থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন এবং সেই টাকা পরিশোধ করতে হবে।”

জহিরউদ্দিন আরও বলেন, “আমার বাবা মারা গেছেন প্রায় ১৬ বছর হলো। স্থানীয় একজন ইউপি সদস্যের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, ওই ঋণ আরও পুরোনো প্রায় ২০ থেকে ২২ বছর আগে নেওয়া হয়েছিল। বিধবা ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্তের সময় প্রায় দুই দশক আগের ওই ঋণের প্রসঙ্গ তোলা হয়েছে।”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, “সমাজকর্মী যখন ঋণের বিষয়টি বলেন, তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করি- বিধবা ভাতার অভিযোগ তদন্ত করতে এসে এত পুরোনো ঋণের কথা কেন বলা হচ্ছে? তিনি এ বিষয়ে আর কিছু বলেননি। পরে জহিরউদ্দিনের মোবাইল নম্বর নিয়ে যান এবং জানান, ফোন দেওয়া হলে তাঁদের দেবীগঞ্জে যেতে হবে।”

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন সমাজকর্মী মোঃ আশেকুর রহমান। তিনি বলেন, “আমি অভিযোগকারীর বাড়িতে গিয়ে বিধবা ভাতার অভিযোগের বিষয়ে কথা বলেছি। কাউকে আপস বা মীমাংসার প্রস্তাব দিইনি। কথার একপর্যায়ে অভিযোগকারীর মৃত বাবার সমাজসেবা কার্যালয়ের একটি ঋণের কথা উল্লেখ করেছি। তবে ওই ঋণ পরিশোধ করতে হবে- এমন কোনো কথা বলিনি।”

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আবু রায়হান বলেন, “আশেকুর রহমান টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের সমাজকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই তাঁকে সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগীর খোঁজখবর নেওয়া এবং তাঁদের দেবীগঞ্জে আসতে বলার জন্য পাঠিয়েছি। আপস-মীমাংসা কিংবা ঋণের বিষয়ে কথা বলতে তাঁকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আমি ভুক্তভোগীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবো।”

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, “ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের জন্য সমাজসেবা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সঠিকভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

উল্লেখ্য, গত ২৭ আগস্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে রহিমা বেগমের বিধবা ভাতার টাকা নিজের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে উত্তোলনের অভিযোগ উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ছয় বছর ধরে ওই ভাতার টাকা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন রহিমা বেগম।

অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর গত ৩০ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বিষয়টি সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগটি তদন্ত করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আবু রায়হানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর বিএনপির কর্মসূচির উদ্বোধন

বিধবা ভাতার অভিযোগ তদন্তে গিয়ে ‘মীমাংসার’ প্রস্তাব ইউনিয়ন সমাজকর্মীর

আপডেট সময় ০৮:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১২

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বিধবা ভাতার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ তদন্তে গিয়ে বিষয়টি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এক ইউনিয়ন সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে। আপসে রাজি না হয়ে বিচার চাওয়ার কথা জানালে ভুক্তভোগীর স্বামীর প্রায় দুই দশক আগের একটি ঋণের প্রসঙ্গ তুলে তা পরিশোধের কথা বলা হয় বলেও অভিযোগ পরিবারের।

অভিযুক্ত সমাজকর্মীর নাম মোঃ আশেকুর রহমান। তিনি দেবীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ইউনিয়ন সমাজকর্মী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন এবং টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করছেন।

গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বানেশ্বরপাড়ায় ভুক্তভোগী রহিমা বেগমের বাড়িতে তদন্তের জন্য যান আশেকুর রহমান। সেখানে তিনি রহিমা বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

ভুক্তভোগীর ছেলে জহিরউদ্দিন বলেন, “ইউনিয়ন সমাজকর্মী আশেকুর রহমান তদন্তের জন্য আমাদের বাড়িতে আসেন। তিনি বলেন, ‘মেম্বারের যে মান-সম্মান যাওয়ার, তা তো গেছেই। এগুলো নিয়ে বাড়াবাড়ি করে লাভ নেই। এর চেয়ে আপস করে নেন। আপনারা কত টাকা চান? আপনারা কী চান—টাকা নাকি বিচার?’ আমরা আপস করতে রাজি না হয়ে বিচার চাই বলে জানালে তিনি বলেন, আমার বাবা ১৬ বছর আগে সমাজসেবা অফিস থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন এবং সেই টাকা পরিশোধ করতে হবে।”

জহিরউদ্দিন আরও বলেন, “আমার বাবা মারা গেছেন প্রায় ১৬ বছর হলো। স্থানীয় একজন ইউপি সদস্যের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, ওই ঋণ আরও পুরোনো প্রায় ২০ থেকে ২২ বছর আগে নেওয়া হয়েছিল। বিধবা ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্তের সময় প্রায় দুই দশক আগের ওই ঋণের প্রসঙ্গ তোলা হয়েছে।”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, “সমাজকর্মী যখন ঋণের বিষয়টি বলেন, তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করি- বিধবা ভাতার অভিযোগ তদন্ত করতে এসে এত পুরোনো ঋণের কথা কেন বলা হচ্ছে? তিনি এ বিষয়ে আর কিছু বলেননি। পরে জহিরউদ্দিনের মোবাইল নম্বর নিয়ে যান এবং জানান, ফোন দেওয়া হলে তাঁদের দেবীগঞ্জে যেতে হবে।”

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন সমাজকর্মী মোঃ আশেকুর রহমান। তিনি বলেন, “আমি অভিযোগকারীর বাড়িতে গিয়ে বিধবা ভাতার অভিযোগের বিষয়ে কথা বলেছি। কাউকে আপস বা মীমাংসার প্রস্তাব দিইনি। কথার একপর্যায়ে অভিযোগকারীর মৃত বাবার সমাজসেবা কার্যালয়ের একটি ঋণের কথা উল্লেখ করেছি। তবে ওই ঋণ পরিশোধ করতে হবে- এমন কোনো কথা বলিনি।”

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আবু রায়হান বলেন, “আশেকুর রহমান টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের সমাজকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই তাঁকে সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগীর খোঁজখবর নেওয়া এবং তাঁদের দেবীগঞ্জে আসতে বলার জন্য পাঠিয়েছি। আপস-মীমাংসা কিংবা ঋণের বিষয়ে কথা বলতে তাঁকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আমি ভুক্তভোগীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবো।”

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, “ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের জন্য সমাজসেবা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সঠিকভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

উল্লেখ্য, গত ২৭ আগস্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে রহিমা বেগমের বিধবা ভাতার টাকা নিজের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে উত্তোলনের অভিযোগ উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ছয় বছর ধরে ওই ভাতার টাকা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন রহিমা বেগম।

অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর গত ৩০ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বিষয়টি সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগটি তদন্ত করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আবু রায়হানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।