, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ত্রিশাল-বালিপাড়া সড়কে ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সং-ঘ-র্ষে নারীসহ নি-হ-ত ২, আহত ৪ সিলেট জেলা ক্যাব এর কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষে ২টি সভা উখিয়ায় পৃথক অভিযানে এক লাখ ই-য়া-বা উদ্ধার, পালিয়ে গেল পাচারকারী শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজ শুরু পীরগঞ্জে নজরুল বর্ষ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও উদ্ধোধন বাউরেসের উদ্যোগে হাওরাঞ্চলের কৃষি গবেষণার ২২ প্রকল্পের ফলাফল উপস্থাপন পিরোজপুরে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে হাজার কোটি টাকা লুটপাটের মঠবাড়িয়ায় পানি সংকট নিরসনে নতুন বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের সিদ্ধান্ত সেফটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে নিহত বাবুরামের পরিবারের পাশে জামায়াতের আমির লংমার্চ ও লালদিঘী সমাবেশ ঘিরে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে চট্টগ্রাম জামায়াতের মতবিনিময়

বাউরেসের উদ্যোগে হাওরাঞ্চলের কৃষি গবেষণার ২২ প্রকল্পের ফলাফল উপস্থাপন

বাউরেসের উদ্যোগে হাওরাঞ্চলের কৃষি গবেষণার ২২ প্রকল্পের ফলাফল উপস্থাপন

১০

হাওরাঞ্চলের কৃষি গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) উদ্যোগে কৃষি গবেষণা বিষয়ক প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্যালোচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০ টার দিকে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সমাপনী কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, ‘ফাইনাল রিভিউ ওয়ার্কশপ অব সিটি ব্যাংক’স এগ্রিকালচারাল রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট আন্ড ইনোভেশন ইন দি অগ্র ইকোলজিক্যাল রিজিওন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রকল্পের অর্থায়ন করে সিটি ব্যাংক। তিন বছর মেয়াদী প্রকল্পের আওতায় বাকৃবির গবেষকদের তত্ত্বাবধানে ২২টি উপ প্রকল্প পরিচালিত হয়।

বাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সমাপনী কর্মশালায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুস সালাম, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মো. মনোয়ার করিম খান, সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশরুর আরেফিন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাউরেসের সাবেক সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাভিদুল হক ভূঁঞা।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাউরেসের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. হাম্মাদুর রহমান। তিনি বলেন, হাওর অঞ্চলের কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, পরিবেশ ও জীবিকার নানা সংকট মোকাবিলার উদ্দ্যেশে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গবেষণায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি উৎপাদন, ফসল বহুমুখীকরণ, রোগ ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দেশের হাওর বেস্টিত সাত জেলায় ২২ টি গবেষণা পরিচালিত হয়। সম্পূর্ণ প্রকল্পে চার কোটি টাকা অর্থায়ন করে সিটি ব্যাংক।

তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির উদ্বোধনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পুরো প্রকল্পে বাকৃবির ২২ জন প্রধান গবেষকসহ মোট ৮১ জন গবেষক, ৩৬ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও চারজন পিএইচডি ফেলো গবেষণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে ২১টি কর্মশালা ও ১৩ টি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্পূর্ণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ৯০৪ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। উপ প্রকল্পসমূহের গবেষণালব্ধ ফলাফলসমূহের মধ্যে ইতোমধ্যে নয়টি ইমপ্যাক্ট জার্নালে ৪৩টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমে ১২৪টি স্বল্পমেয়াদি কর্মক্ষেত্র সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্পের সফলতা নিয়ে ড. হাম্মাদুর রহমান বলেন, সিটি ব্যাংকের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) বিনিয়োগের মাধ্যমে কৃষি গবেষণায় অর্থায়নের মাধ্যমে শুরু হয়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও উদ্ভাবন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত কৃষকের জীবনযাত্রার মান ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা উন্নত করেছে৷ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ, শিল্প, শিক্ষা ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়, আন্তর্জাতিক জ্ঞান বিনিময়, কৃষককেন্দ্রিক উদ্ভাবন প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত, শক্তিশালী বাজার সংযোগ, কার্যকর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন এবং ডিজিটাল জ্ঞানভান্ডারের মাধ্যমে গবেষণার ফলাফল, তথ্য-উপাত্ত ও প্রশিক্ষণসামগ্রী সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।

এসময় বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, দেশের হাওরাঞ্চলের কৃষির উন্নয়নে এত বড় অর্থায়ন করার জন্য সিটি ব্যাংককে ধন্যবাদ জনাই। আমি গবেষকদের অনুরোধ করবো এই ২২ গবেষণা থেকে জনসাধারণের জন্য সমস্যা ভিত্তিক সমাধানগুলো পত্রিকায় লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরেন। আমি বিশ্বাস করি গবেষণা এত সহজ নয়। কিন্তু বাকৃবির গ্রাজুয়েটরা তাদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশের খাদ্য উৎপাদন, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও কৃষির উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। খামারির কান্নাকে হাসিতে পরিণত করার জন্য সেইরকম মানসিকতা দিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের তৈরি করি।

দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রকল্পধীন ২২ টি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট গবেষকবৃন্দ। এরপর গবেষকদের স্মারক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

ত্রিশাল-বালিপাড়া সড়কে ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সং-ঘ-র্ষে নারীসহ নি-হ-ত ২, আহত ৪

বাউরেসের উদ্যোগে হাওরাঞ্চলের কৃষি গবেষণার ২২ প্রকল্পের ফলাফল উপস্থাপন

আপডেট সময় ১০:০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১০

হাওরাঞ্চলের কৃষি গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) উদ্যোগে কৃষি গবেষণা বিষয়ক প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্যালোচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০ টার দিকে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সমাপনী কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, ‘ফাইনাল রিভিউ ওয়ার্কশপ অব সিটি ব্যাংক’স এগ্রিকালচারাল রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট আন্ড ইনোভেশন ইন দি অগ্র ইকোলজিক্যাল রিজিওন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রকল্পের অর্থায়ন করে সিটি ব্যাংক। তিন বছর মেয়াদী প্রকল্পের আওতায় বাকৃবির গবেষকদের তত্ত্বাবধানে ২২টি উপ প্রকল্প পরিচালিত হয়।

বাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সমাপনী কর্মশালায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুস সালাম, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মো. মনোয়ার করিম খান, সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশরুর আরেফিন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাউরেসের সাবেক সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাভিদুল হক ভূঁঞা।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাউরেসের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. হাম্মাদুর রহমান। তিনি বলেন, হাওর অঞ্চলের কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, পরিবেশ ও জীবিকার নানা সংকট মোকাবিলার উদ্দ্যেশে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গবেষণায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি উৎপাদন, ফসল বহুমুখীকরণ, রোগ ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দেশের হাওর বেস্টিত সাত জেলায় ২২ টি গবেষণা পরিচালিত হয়। সম্পূর্ণ প্রকল্পে চার কোটি টাকা অর্থায়ন করে সিটি ব্যাংক।

তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির উদ্বোধনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পুরো প্রকল্পে বাকৃবির ২২ জন প্রধান গবেষকসহ মোট ৮১ জন গবেষক, ৩৬ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও চারজন পিএইচডি ফেলো গবেষণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে ২১টি কর্মশালা ও ১৩ টি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্পূর্ণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ৯০৪ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। উপ প্রকল্পসমূহের গবেষণালব্ধ ফলাফলসমূহের মধ্যে ইতোমধ্যে নয়টি ইমপ্যাক্ট জার্নালে ৪৩টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমে ১২৪টি স্বল্পমেয়াদি কর্মক্ষেত্র সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্পের সফলতা নিয়ে ড. হাম্মাদুর রহমান বলেন, সিটি ব্যাংকের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) বিনিয়োগের মাধ্যমে কৃষি গবেষণায় অর্থায়নের মাধ্যমে শুরু হয়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও উদ্ভাবন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত কৃষকের জীবনযাত্রার মান ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা উন্নত করেছে৷ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ, শিল্প, শিক্ষা ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়, আন্তর্জাতিক জ্ঞান বিনিময়, কৃষককেন্দ্রিক উদ্ভাবন প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত, শক্তিশালী বাজার সংযোগ, কার্যকর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন এবং ডিজিটাল জ্ঞানভান্ডারের মাধ্যমে গবেষণার ফলাফল, তথ্য-উপাত্ত ও প্রশিক্ষণসামগ্রী সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।

এসময় বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, দেশের হাওরাঞ্চলের কৃষির উন্নয়নে এত বড় অর্থায়ন করার জন্য সিটি ব্যাংককে ধন্যবাদ জনাই। আমি গবেষকদের অনুরোধ করবো এই ২২ গবেষণা থেকে জনসাধারণের জন্য সমস্যা ভিত্তিক সমাধানগুলো পত্রিকায় লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরেন। আমি বিশ্বাস করি গবেষণা এত সহজ নয়। কিন্তু বাকৃবির গ্রাজুয়েটরা তাদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশের খাদ্য উৎপাদন, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও কৃষির উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। খামারির কান্নাকে হাসিতে পরিণত করার জন্য সেইরকম মানসিকতা দিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের তৈরি করি।

দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রকল্পধীন ২২ টি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট গবেষকবৃন্দ। এরপর গবেষকদের স্মারক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।