রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গদাই গ্রামের ৯ মাস বয়সী শিশু আবু সালেহকে হামের টিকা দেওয়ার পর তার পা ফুলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত দুই মাস ধরে চিকিৎসা ও তিন দফা সার্জারি করেও শিশুটির শারীরিক অবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার।
শিশুটির বাবা ওমর ফারুকের পরিবারের অভিযোগ, হামের টিকা দেওয়ার দিন থেকেই আবু সালেহর পায়ে ফোলা দেখা দেয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত তাকে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে রংপুরে রেফার করা হয়।
পরে রংপুর সরকারি হাসপাতাল ও একটি বেসরকারি ক্লিনিকে প্রায় দুই মাস ধরে শিশুটির চিকিৎসা চলে। এ সময় তার পায়ে তিনবার সার্জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। তবে এত চিকিৎসার পরও শিশুটি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেনি।
পরিবারের দাবি, গত দুই মাসে চিকিৎসা, সার্জারি, ওষুধসহ বিভিন্ন খাতে তাদের এক লাখ টাকারও বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে। এরপরও সন্তানের অবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় তার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তারা।
শিশুটি নিজের কষ্টের কথা বলতে না পারলেও কান্না ও অস্থিরতায় এখনো শারীরিক কষ্টের বিষয়টি বোঝা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
পরিবারের অভিযোগ, টিকাদান কেন্দ্রে কর্মরত শাহীন শিশুটিকে বাম হাতে টিকা দেওয়ার পর থেকেই পায়ে এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে টিকার সঙ্গে পা ফুলে যাওয়ার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. আহসান হাবীব বলেন, “ভুলের ঊর্ধ্বে মানুষ নয়।” তিনি জানান, টিকা দেওয়ার পর শিশুটির পায়ে ইনফেকশন হয়ে থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
তবে ঘটনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় বলে জানিয়েছে শিশুটির পরিবার। তারা ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধান, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিশুটির উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সন্তানের দ্রুত সুস্থতার জন্য এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে অসহায় পরিবারটি।

























