, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পিরোজপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ও অবজারভেশন ওয়ার্ডের কার্যক্রম শুরু রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হলো ‘জেলাপ্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’ ঐতিহাসিক স্মারকের পুনঃস্থাপন ও উন্মোচন রা-ম-দা হাতে সড়ক অবরোধ—মানসিক স্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন পিরোজপুর নেছারাবাদে ৯ পিস ই-য়া-বাসহ মা-দক কারবারি রাজু গ্রে-ফ-তার গোপালগঞ্জে নি-ষি-দ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, আইনের আওতাই ৬জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ায় শূন্য ঠাকূরগাঁও-১ আসন, উপ-নির্বাচনে প্রস্তুতি ​নাটোর গুরুদাসপুরে শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক ও প্রশাসনের মতবিনিময় সভা দৈনিক লাল সবুজের দেশ পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি হলেন আবুল কালাম মল্লিক টুঙ্গিপাড়ায় সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

অবাধে টুঙ্গিপাড়ায় মধুমতির নদীর মাটি কেটে বিক্রি, নীরব প্রশাসন

অবাধে টুঙ্গিপাড়ায় মধুমতির নদীর মাটি কেটে বিক্রি, নীরব প্রশাসন

১৩

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় মধুমতির নদীর মাটি কেটে বেচাকেনার হিড়িক পড়েছে। নদীর চরসহ তীরবর্তী তিন কিলোমিটার এলাকায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাটি তোলা ও বিক্রি চললেও প্রশাসনের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই ।

‎টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের গহরডাঙ্গা, শ্রীরামকানন্দী, সিঙ্গিপাড়া, পাটগাতী ব্রিজ এলাকা এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ট্রলার ও পল্টনের উপরে  ভেকু দিয়ে মাটি বিক্রি করছে চক্রটি। নদীর পাড়জুড়ে প্রতিদিন ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নেওয়ায় নদীর বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। নদী চরে ফসলি জমিও হারিয়ে যাচ্ছে। মাটি বহনের ভারী যানবাহনের কারণে নদীপাড়ের সড়কগুলো বেহাল হয়ে পড়েছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযান চালালেও মাটি খেকোদের সঙ্গে আঁতাত করে থাকে স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা। মাটি পরিবহনের পথে বাধা দিলে সাধারণ মানুষকে হামলা ও হেনস্তার শিকার হতে হয়। সরেজমিন দেখা গেছে,  প্রতিনিয়ত চলছে নদী থেকে ট্রলার দিয়ে মাটিকাটা এবং পল্টনের উপরে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে চলার ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় বিভিন্ন ইটভাটায়

‎এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটার ফলে নদীর গতিপ্রকৃতি বদলে যাচ্ছে। নদীর বাঁধের ওপর দিয়ে মাটি পরিবহন করায় বাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ কেটে বানানো হয়েছে গাড়ি ওঠানামার রাস্তা। ফলে নদীর চরাঞ্চল ও ফসলি জমি ডোবায় পরিণত হচ্ছে।

‎চরশ্রী রামকান্দির শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম প্রিন্স বলেন, ‘প্রতিদিন ট্রালার ভর্তি মাটি যায়। বাড়িতে থাকতে ভয় লাগে—কখন যে নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যায়।’ অভিভাবক সুজা মিয়া বলেন, ‘সন্তানদের নিয়ে রাতে বাড়িতে থাকতে ভয় হয়। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা হতে পারে।’ চর শ্রীরামকান্দির মাটি ব্যবসায়ী মোঃ এনামুল বলেন, ‘প্রশাসন কখনো আসে না। সাংবাদিকরা ফোন করলে তাতে ও তারা আসেনা।’ একই গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী মাহবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের জমি নদীর মধ্যে  থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছে কিছু প্রভাবশালীরা কিন্তু প্রশাসকে বারবার বিষয়টি জানালেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি তারা।’

‎অভিযোগ উঠেছে, মাটিখেকোদের পরামর্শ দিয়ে প্রশাসন তাঁদের কাছে পুকুর বা জলাশয় খননের আবেদন করতে বলেন। এ সুযোগে নদীর চর ও আশপাশের মাটি বিক্রি করা হচ্ছে  এবিসি ইটভাটা সহ ও আশপাশের বিভিন্ন ইটভাটায় এবং নির্মাণকাজে বিক্রি করা হচ্ছে এই মাটি

‎উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাউদ্দিন বলেন, ‘প্রশাসনের নীরবতায় মাটি ব্যবসা দিনের পর দিন চলছে। গ্রামীণ গতিপ্রকৃতি বদলে যাচ্ছে। অবৈধভাবে মাটি পরিবহন বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’

‎টুঙ্গিপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃশাহিন আলম বলেন, ‘প্রথমবার আপনার কাছ থেকে শুনলাম। তারপরও বিষয়টি প্রশাসনের সঙ্গে শেয়ার করব।’ টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ দিদারুল আলম বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

‎তবে স্থানীয়দের দাবি মধুমতি নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাটি কেটে বিভিন্ন ইট ভাটায় ও ট্রাকে করে মাটি বিক্রি করে আসছে এই চক্রটি তবে কেন প্রশাসন এই মাটিকাটা বন্ধ করতে পারছেন না এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

পিরোজপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ও অবজারভেশন ওয়ার্ডের কার্যক্রম শুরু

অবাধে টুঙ্গিপাড়ায় মধুমতির নদীর মাটি কেটে বিক্রি, নীরব প্রশাসন

আপডেট সময় ০৯:৫৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
১৩

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় মধুমতির নদীর মাটি কেটে বেচাকেনার হিড়িক পড়েছে। নদীর চরসহ তীরবর্তী তিন কিলোমিটার এলাকায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাটি তোলা ও বিক্রি চললেও প্রশাসনের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই ।

‎টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের গহরডাঙ্গা, শ্রীরামকানন্দী, সিঙ্গিপাড়া, পাটগাতী ব্রিজ এলাকা এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ট্রলার ও পল্টনের উপরে  ভেকু দিয়ে মাটি বিক্রি করছে চক্রটি। নদীর পাড়জুড়ে প্রতিদিন ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নেওয়ায় নদীর বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। নদী চরে ফসলি জমিও হারিয়ে যাচ্ছে। মাটি বহনের ভারী যানবাহনের কারণে নদীপাড়ের সড়কগুলো বেহাল হয়ে পড়েছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযান চালালেও মাটি খেকোদের সঙ্গে আঁতাত করে থাকে স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা। মাটি পরিবহনের পথে বাধা দিলে সাধারণ মানুষকে হামলা ও হেনস্তার শিকার হতে হয়। সরেজমিন দেখা গেছে,  প্রতিনিয়ত চলছে নদী থেকে ট্রলার দিয়ে মাটিকাটা এবং পল্টনের উপরে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে চলার ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় বিভিন্ন ইটভাটায়

‎এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটার ফলে নদীর গতিপ্রকৃতি বদলে যাচ্ছে। নদীর বাঁধের ওপর দিয়ে মাটি পরিবহন করায় বাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ কেটে বানানো হয়েছে গাড়ি ওঠানামার রাস্তা। ফলে নদীর চরাঞ্চল ও ফসলি জমি ডোবায় পরিণত হচ্ছে।

‎চরশ্রী রামকান্দির শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম প্রিন্স বলেন, ‘প্রতিদিন ট্রালার ভর্তি মাটি যায়। বাড়িতে থাকতে ভয় লাগে—কখন যে নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যায়।’ অভিভাবক সুজা মিয়া বলেন, ‘সন্তানদের নিয়ে রাতে বাড়িতে থাকতে ভয় হয়। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা হতে পারে।’ চর শ্রীরামকান্দির মাটি ব্যবসায়ী মোঃ এনামুল বলেন, ‘প্রশাসন কখনো আসে না। সাংবাদিকরা ফোন করলে তাতে ও তারা আসেনা।’ একই গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী মাহবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের জমি নদীর মধ্যে  থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছে কিছু প্রভাবশালীরা কিন্তু প্রশাসকে বারবার বিষয়টি জানালেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি তারা।’

‎অভিযোগ উঠেছে, মাটিখেকোদের পরামর্শ দিয়ে প্রশাসন তাঁদের কাছে পুকুর বা জলাশয় খননের আবেদন করতে বলেন। এ সুযোগে নদীর চর ও আশপাশের মাটি বিক্রি করা হচ্ছে  এবিসি ইটভাটা সহ ও আশপাশের বিভিন্ন ইটভাটায় এবং নির্মাণকাজে বিক্রি করা হচ্ছে এই মাটি

‎উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাউদ্দিন বলেন, ‘প্রশাসনের নীরবতায় মাটি ব্যবসা দিনের পর দিন চলছে। গ্রামীণ গতিপ্রকৃতি বদলে যাচ্ছে। অবৈধভাবে মাটি পরিবহন বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’

‎টুঙ্গিপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃশাহিন আলম বলেন, ‘প্রথমবার আপনার কাছ থেকে শুনলাম। তারপরও বিষয়টি প্রশাসনের সঙ্গে শেয়ার করব।’ টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ দিদারুল আলম বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

‎তবে স্থানীয়দের দাবি মধুমতি নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাটি কেটে বিভিন্ন ইট ভাটায় ও ট্রাকে করে মাটি বিক্রি করে আসছে এই চক্রটি তবে কেন প্রশাসন এই মাটিকাটা বন্ধ করতে পারছেন না এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।।