, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেপামধুপুর ইউনিয়নে কমিউনিটি ঝুঁকি মূল্যায়ন

টেপামধুপুর ইউনিয়নে কমিউনিটি ঝুঁকি মূল্যায়ন

জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নে কমিউনিটি ঝুঁকি মূল্যায়ন (সিআরএ) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার( ১৮ আগস্ট)টেপামধুপুর ইউনিয়ন ফেডারেশনে আরডিআরএস বাংলাদেশের Climate Resilience and Nurturing Growth for Poverty Upliftment (CRANGPU) প্রকল্পের উদ্যোগে এ মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি Brot für die Welt-এর সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

কমিউনিটি ঝুঁকি মূল্যায়নে ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি জহির উদ্দিন, আব্দুল মালেক, সংরক্ষিত নারী সদস্য রুপিয়া বেগম ও মালতী রানী, নিজদর্পা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রবিউল ইসলামসহ কৃষক, নারী, যুব, প্রবীণ, দরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবারের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

অংশগ্রহণমূলক এ মূল্যায়নের মাধ্যমে টেপামধুপুর ইউনিয়নের প্রধান দুর্যোগ ও জলবায়ু ঝুঁকি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও জনগোষ্ঠী, দুর্যোগের কারণে জীবন-জীবিকা ও কৃষির ওপর প্রভাব এবং স্থানীয়ভাবে বিদ্যমান সম্পদ ও সক্ষমতা চিহ্নিত করা হয়। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতে ঝুঁকি কমানোর সম্ভাব্য করণীয় এবং অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়।

আলোচনায় বন্যা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, খরা ও বজ্রপাতসহ স্থানীয়ভাবে প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এসব দুর্যোগের ফলে কৃষি, বসতবাড়ি, যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, পশুপালন ও কর্মসংস্থানের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়।

অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় বিদ্যমান সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন। বিশেষ করে দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি, কৃষি ও জীবিকা সুরক্ষা, নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, কমিউনিটি ঝুঁকি মূল্যায়নের মাধ্যমে চিহ্নিত ঝুঁকি এবং স্থানীয় জনগণের প্রস্তাবিত করণীয় ভবিষ্যতে ইউনিয়নের দুর্যোগ প্রস্তুতি, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, জীবিকা সুরক্ষা ও স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে কাজে লাগানো হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে এ ধরনের মূল্যায়ন টেপামধুপুর ইউনিয়নে দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ এবং জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

আলোচনা সভা শেষে অংশগ্রহণকারীদের একটি করে ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয।

জনপ্রিয় সংবাদ

টেপামধুপুর ইউনিয়নে কমিউনিটি ঝুঁকি মূল্যায়ন

আপডেট সময় ০৫:১০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নে কমিউনিটি ঝুঁকি মূল্যায়ন (সিআরএ) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার( ১৮ আগস্ট)টেপামধুপুর ইউনিয়ন ফেডারেশনে আরডিআরএস বাংলাদেশের Climate Resilience and Nurturing Growth for Poverty Upliftment (CRANGPU) প্রকল্পের উদ্যোগে এ মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি Brot für die Welt-এর সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

কমিউনিটি ঝুঁকি মূল্যায়নে ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি জহির উদ্দিন, আব্দুল মালেক, সংরক্ষিত নারী সদস্য রুপিয়া বেগম ও মালতী রানী, নিজদর্পা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রবিউল ইসলামসহ কৃষক, নারী, যুব, প্রবীণ, দরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবারের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

অংশগ্রহণমূলক এ মূল্যায়নের মাধ্যমে টেপামধুপুর ইউনিয়নের প্রধান দুর্যোগ ও জলবায়ু ঝুঁকি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও জনগোষ্ঠী, দুর্যোগের কারণে জীবন-জীবিকা ও কৃষির ওপর প্রভাব এবং স্থানীয়ভাবে বিদ্যমান সম্পদ ও সক্ষমতা চিহ্নিত করা হয়। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতে ঝুঁকি কমানোর সম্ভাব্য করণীয় এবং অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়।

আলোচনায় বন্যা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, খরা ও বজ্রপাতসহ স্থানীয়ভাবে প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এসব দুর্যোগের ফলে কৃষি, বসতবাড়ি, যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, পশুপালন ও কর্মসংস্থানের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়।

অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় বিদ্যমান সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন। বিশেষ করে দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি, কৃষি ও জীবিকা সুরক্ষা, নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, কমিউনিটি ঝুঁকি মূল্যায়নের মাধ্যমে চিহ্নিত ঝুঁকি এবং স্থানীয় জনগণের প্রস্তাবিত করণীয় ভবিষ্যতে ইউনিয়নের দুর্যোগ প্রস্তুতি, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, জীবিকা সুরক্ষা ও স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে কাজে লাগানো হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে এ ধরনের মূল্যায়ন টেপামধুপুর ইউনিয়নে দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ এবং জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

আলোচনা সভা শেষে অংশগ্রহণকারীদের একটি করে ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয।