, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শেষ মুহূর্তে বড় সিদ্ধান্ত: যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া কাটছাঁট! ডলার দুর্বল হতেই চাঙ্গা স্বর্ণের বাজার, দাম রেকর্ড ছোঁয়ার পথে আবার কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া: ৫.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প! গোয়ালন্দে বৈষম্যবিরোধী মামলায় ইউপি সদস্য রাসেল মাহমুদ গ্রেফতার শিরট্রী হাটবাজারে বিএনপির সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাদের মন্ডলের গণসংযোগ উজিরপুরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদ্বোধন করলেন-এমপি সান্টু কুমিল্লার লালমাইয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৯ জন নিবন্ধিত যুবকের মাঝে ক্ষুদ্র ঋণের চেক বিতরণ বরিশালে ট্রাষ্ট জাপান-কোরিয়া ল্যাংগুয়েজ ইনস্টিটিউট এর পথচলা শুরু লালমাইয়ে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী কুলু বাড়ি: পিরোজপুরের এক শতবর্ষী জমিদার বাড়ির সংক্ষিপ্ত বিবরণ

মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী কুলু বাড়ি: পিরোজপুরের এক শতবর্ষী জমিদার বাড়ির সংক্ষিপ্ত বিবরণ

মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী কুলু বাড়ি: পিরোজপুরের এক শতবর্ষী জমিদার বাড়ির সংক্ষিপ্ত বিবরণ

১৩

মঠবাড়িয়া মিরুখালী কুলু বাড়ি হলো বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নে অবস্থিত প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ বছরের প্রাচীন একটি ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি,যা বর্তমানে স্থানীয়ভাবে রায় বাড়ি নামেও পরিচিত।

এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটির ইতিহাস এবং সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:ইতিহাস ও উৎপত্তিপ্রতিষ্ঠাতা: ১৮৩৫ থেকে ১৮৪০ সালের মধ্যে বরিশালের বাবুগঞ্জ এলাকা থেকে বৃন্দাবনচন্দ্র রায় নামক এক ব্যক্তি মিরুখালী গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেন।

বৃন্দাবনচন্দ্র রায় শুরুতে এই অঞ্চলে এসে চুনের ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি এখানে বড় পরিসরে নারকেল তেলের কারখানা বা ঘানি স্থাপন করেন। স্থানীয় ভাষায় তেলের ব্যবসায়ের সাথে জড়িতদের ‘কুলু’ বলা হতো, যার কারণে এটি ‘কুলু বাড়ি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীতে এই পরিবারটি জমিদারি ও বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠার পর তাদের পারিবারিক পদবি অনুযায়ী এটি ‘রায় বাড়ি’ নামেও পরিচিতি পায়। স্থাপত্যশৈলী ও নিদর্শনএই জমিদার বাড়িটি মুঘল ও প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিশ্র স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। বাড়ির ভেতর রয়েছে বিশাল উঠান, দৃষ্টিনন্দন প্রবেশদ্বার (গেট), কারুকার্যখচিত দোতলা ভবন এবং বিশাল পুকুর। রায় বাড়ির ভেতরে একটি শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী দুর্গামন্দির রয়েছে, যা এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। বর্তমান অবস্থাদীর্ঘদিন সংস্কার ও অযত্ন-অবহেলার কারণে এই প্রাচীন পুরাকীর্তিটি বর্তমানে ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

২০২১ সালের ১৮ই আগস্ট রাতে পরিত্যক্ত এই জমিদার বাড়ির প্রধান দ্বিতল ভবনের সম্মুখভাগ বিকট শব্দে ধসে পড়ে। বর্তমানে ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রাচীন ইতিহাস এবং নজরকাড়া নির্মাণশৈলীর কারণে পিরোজপুর অঞ্চলের অন্যতম একটি ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান হিসেবে এটি পরিচিত।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

শেষ মুহূর্তে বড় সিদ্ধান্ত: যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া কাটছাঁট!

মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী কুলু বাড়ি: পিরোজপুরের এক শতবর্ষী জমিদার বাড়ির সংক্ষিপ্ত বিবরণ

আপডেট সময় ০৯:০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
১৩

মঠবাড়িয়া মিরুখালী কুলু বাড়ি হলো বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নে অবস্থিত প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ বছরের প্রাচীন একটি ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি,যা বর্তমানে স্থানীয়ভাবে রায় বাড়ি নামেও পরিচিত।

এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটির ইতিহাস এবং সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:ইতিহাস ও উৎপত্তিপ্রতিষ্ঠাতা: ১৮৩৫ থেকে ১৮৪০ সালের মধ্যে বরিশালের বাবুগঞ্জ এলাকা থেকে বৃন্দাবনচন্দ্র রায় নামক এক ব্যক্তি মিরুখালী গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেন।

বৃন্দাবনচন্দ্র রায় শুরুতে এই অঞ্চলে এসে চুনের ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি এখানে বড় পরিসরে নারকেল তেলের কারখানা বা ঘানি স্থাপন করেন। স্থানীয় ভাষায় তেলের ব্যবসায়ের সাথে জড়িতদের ‘কুলু’ বলা হতো, যার কারণে এটি ‘কুলু বাড়ি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীতে এই পরিবারটি জমিদারি ও বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠার পর তাদের পারিবারিক পদবি অনুযায়ী এটি ‘রায় বাড়ি’ নামেও পরিচিতি পায়। স্থাপত্যশৈলী ও নিদর্শনএই জমিদার বাড়িটি মুঘল ও প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিশ্র স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। বাড়ির ভেতর রয়েছে বিশাল উঠান, দৃষ্টিনন্দন প্রবেশদ্বার (গেট), কারুকার্যখচিত দোতলা ভবন এবং বিশাল পুকুর। রায় বাড়ির ভেতরে একটি শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী দুর্গামন্দির রয়েছে, যা এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। বর্তমান অবস্থাদীর্ঘদিন সংস্কার ও অযত্ন-অবহেলার কারণে এই প্রাচীন পুরাকীর্তিটি বর্তমানে ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

২০২১ সালের ১৮ই আগস্ট রাতে পরিত্যক্ত এই জমিদার বাড়ির প্রধান দ্বিতল ভবনের সম্মুখভাগ বিকট শব্দে ধসে পড়ে। বর্তমানে ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রাচীন ইতিহাস এবং নজরকাড়া নির্মাণশৈলীর কারণে পিরোজপুর অঞ্চলের অন্যতম একটি ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান হিসেবে এটি পরিচিত।