কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে র্যালি ও পথসভা।
৩৬ জুলাই: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় গত ৩৬ জুলাই দেশব্যাপী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘১১ দলীয় ঐক্য, ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রাম’ এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
বিকেল ৫.৩০ মিনিটে ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের প্রধান সড়কগুলোতে বিশাল এই র্যালি প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা স্বৈরাচারবিরোধী স্লোগান এবং ‘গণভোটের গণরায় কার্যকর’ ও ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের’ দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার প্রদর্শন করেন। র্যালির পুরোভাগে ছিল একটি বিশাল ব্যানার, যাতে লেখা ছিল: ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। গণভোটের গণরায় কার্যকর ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে গণমিছিল। ১১ দলীয় ঐক্য, ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রাম।’ র্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের চোখে-মুখে জুলাইয়ের স্মৃতির প্রতি আবেগ ও আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা ফুটে ওঠে। অনেকেই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
র্যালি শেষে একটি সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুল মালেক আমীর,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফুলবাড়ী উপজেলা শাখা।
বক্তব্য রাখেন মিরাজ হোসেন সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, বক্তব্য রাখেন মাওলানা সেকেন্দার আলী সভাপতি, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, ফুলবাড়ী উপজেলা শাখা। আরো বক্তব্য রাখেন মাস্টার রফিকুল ইসলাম সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, ফুলবাড়ী উপজেলা ও শুরা সদস্য কুড়িগ্রাম জেলা শাখা।
সঞ্চালনা করেন মাওলানা আব্দুর রহমান সেক্রেটারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফুলবাড়ী উপজেলা শাখা।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানকে বাংলার ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন যে, এই আন্দোলন শুধু ছাত্র সমাজের নয়, বরং গণমানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। তারা জুলাই সনদের দ্রুত ও সঠিক বাস্তবায়নের দাবি জানান এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সভায় বক্তারা ‘জুলাই গণমিছিল’ এর মাধ্যমে যে আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে, তা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন। তারা রাজনৈতিক দলের নেতাদের গণভোটের রায় মেনে চলার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে আজীবন ধরে রাখার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং উপস্থিত সকলের মধ্যে এক নতুন উদ্যম তৈরি করে।

























