, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
লালপুরে পৌরসভা কার্যালয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার ১ শ্রেণিকক্ষে ঘুমানোর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষিকাকে শোকজ চৌদ্দগ্রামে ফ্রেন্ডস্ গ্রুপের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় হ্নীলায় যুবকের অংশগ্রহণ বাকৃবিতে স্বল্পমূল্যে কলা বিতরণ শুরু, দুধ-ডিমে পরবর্তী উদ্যোগের কথা জানাল প্রশাসন টুঙ্গিপাড়ায় ৩০০ জেলে পরিবার পেল ৭.৫ টন ভিজিএফের চাল কাশিয়ানীতে ৩০ বোতল স্কাফসহ মাদক কারবারি আটক ভাঙ্গুড়ায় নকল দুধ তৈরির কারখানায় অভিযান, লাখ টাকা জরিমানা ঠাকূরগাঁওয়ে ১০৬ গ্রাহকের সাড়ে ৯ লাখ টাকা নিয়ে উধাও পল্লী বিদ্যুতের মিটার রিডার! কাউনিয়ায় ‘আমাদের ডাক্তার’ স্ট্যাটিক ক্লিনিকের উদ্বোধন

বাকৃবিতে স্বল্পমূল্যে কলা বিতরণ শুরু, দুধ-ডিমে পরবর্তী উদ্যোগের কথা জানাল প্রশাসন

৫

বাকৃবি প্রতিনিধি

শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও অপুষ্টি প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বিভিন্ন আবাসিক হলে স্বল্পমূল্যে কলা বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে হল প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বল্পমূল্যে শিক্ষার্থীদের ফল প্রদানের দিকনির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন হল কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে। তবে প্রশাসনের এই উদ্যোগের প্রতি সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি সমালোচনাও করছেন বিভিন্ন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। পুষ্টি চাহিদা ঘাটতি পূরণের কথা বিবেচনা করলে দুধ, ডিম, মাংসের পরিবর্তে কলা কেনো এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক শিক্ষার্থী।

শহীদ নাজমুল আহসান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সিফাত অয়ন বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধরনের উদ্যোগ সত্যিই অনেক প্রশংসনীয়। তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সম্পদ থাকলেও শিক্ষার্থীরা সরাসরি সেটা থেকে উপকৃত হতে পারেনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পোল্ট্রি, ডেইরি ও ফিশ ফার্ম থাকার পরেও শিক্ষার্থীরা সেখানে প্রাধান্য পায়না। প্রশাসনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎপাদিত ফল, দুধ, ডিম এবং মাছমাংস শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া উচিত।

একই অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুল হক হল, বেগম খালেদা জিয়া হল, কৃষি কন্যা হল সহ অন্যান্য হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ শামসুল হক হলে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিটি কলা মাত্র দুই টাকা করে মোট ৬০০টি কলা বিতরণ করা হয়। অপরদিকে শহীদ নাজমুল আহসান হলেও প্রায় ৫০০ কলা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। একই ভাবে ফজলুল হক হল এবং মাওলানা ভাসানী হলেও হল প্রভোস্টের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বল্পমূল্যে কলা বিতরণ করা হয়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে অন্যান্য হল গুলোতেও বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছে বাকৃবি প্রশাসন।

এ বিষয়ে শহীদ শামসুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইফতেখার আহমেদ অনিক বলেন, প্রশাসন হয়তো এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি এবং বিকাশ নিয়ে তাদের সচেতনতা দেখানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যেই পরিমাণ প্রাচুর্যতা আছে আমরা এর থেকে একটু বেশি আশা করতেই পারি। আমরা অবশ্যই চাইবো উদ্যানতত্ত্ব খামারের মতো ডেইরি এবং পোল্ট্রি ফার্মের পক্ষ থেকেও এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করা হোক ।

ডিম ও দুধের বর্তমান বাজার মূল্য পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ডিমের বর্তমান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা হালি এবং দুধ বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

এ ব্যাপারে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থী রেজওয়ান হোসেন বলেন, বর্তমানে দ্রব্যমূল্যে এতটাই আকাশচুম্বী যা আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে। ডাইনিংয়ে খাবারের মান অতটা ভালো না হওয়ায় দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণে দুধ-ডিম আমাদের শিক্ষার্থীদের ভরসার জায়গা। কিন্তু দাম অনেক বেশি হওয়ার কারণে মধ্যবিত্ত অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে এগুলোও কিনে খাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ফার্মে উৎপাদিত দুধ-ডিম থাকার পরেও আমরা স্বল্পমূল্যে সেগুলো সংগ্রহ করা থেকে বঞ্চিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহবায়ক অধ্যাপক ড. কাজী কামরুল ইসলাম জানান, পূর্ববর্তী উপাচার্য স্যারের সময়েই আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করেছিলাম যেনো আমাদের উৎপাদিত দুধ, ডিম এবং মাংসের কিছু অংশ হলেও আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করতে পারি। যদিও আমাদের উৎপাদনশীলতা কম, তবুও এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে অনেক শিক্ষার্থী এটা থেকে উপকৃত হবেন। খুব শীগ্রই উপাচার্যের সাথে কথা বলে এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম মুজিবর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদার কথা চিন্তা করেই প্রশাসনের এ উদ্যোগ। ধাপে ধাপে উদ্যানতত্ত্ব খামার থেকে কলা সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

শিক্ষার্থীদের সমালোচনার উত্তরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা দুধ-ডিমের চাহিদা প্রকাশ করলেও পর্যাপ্ত উৎপাদন না থাকার কারণে আমরা আপাতত সেটা দিতে পাচ্ছি না। কিন্তু আমি চেষ্টা করছি সামনে খামার বিভাগ গুলোর সাথে আলোচনা সভায় আমি একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করব যেখানে আমাদের উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হবে। সীমিত পরিসরে হলেও আমরা এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

লালপুরে পৌরসভা কার্যালয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার ১

বাকৃবিতে স্বল্পমূল্যে কলা বিতরণ শুরু, দুধ-ডিমে পরবর্তী উদ্যোগের কথা জানাল প্রশাসন

আপডেট সময় ০৬:৪১:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
৫

বাকৃবি প্রতিনিধি

শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও অপুষ্টি প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বিভিন্ন আবাসিক হলে স্বল্পমূল্যে কলা বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে হল প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বল্পমূল্যে শিক্ষার্থীদের ফল প্রদানের দিকনির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন হল কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে। তবে প্রশাসনের এই উদ্যোগের প্রতি সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি সমালোচনাও করছেন বিভিন্ন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। পুষ্টি চাহিদা ঘাটতি পূরণের কথা বিবেচনা করলে দুধ, ডিম, মাংসের পরিবর্তে কলা কেনো এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক শিক্ষার্থী।

শহীদ নাজমুল আহসান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সিফাত অয়ন বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধরনের উদ্যোগ সত্যিই অনেক প্রশংসনীয়। তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সম্পদ থাকলেও শিক্ষার্থীরা সরাসরি সেটা থেকে উপকৃত হতে পারেনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পোল্ট্রি, ডেইরি ও ফিশ ফার্ম থাকার পরেও শিক্ষার্থীরা সেখানে প্রাধান্য পায়না। প্রশাসনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎপাদিত ফল, দুধ, ডিম এবং মাছমাংস শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া উচিত।

একই অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুল হক হল, বেগম খালেদা জিয়া হল, কৃষি কন্যা হল সহ অন্যান্য হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ শামসুল হক হলে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিটি কলা মাত্র দুই টাকা করে মোট ৬০০টি কলা বিতরণ করা হয়। অপরদিকে শহীদ নাজমুল আহসান হলেও প্রায় ৫০০ কলা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। একই ভাবে ফজলুল হক হল এবং মাওলানা ভাসানী হলেও হল প্রভোস্টের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বল্পমূল্যে কলা বিতরণ করা হয়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে অন্যান্য হল গুলোতেও বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছে বাকৃবি প্রশাসন।

এ বিষয়ে শহীদ শামসুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইফতেখার আহমেদ অনিক বলেন, প্রশাসন হয়তো এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি এবং বিকাশ নিয়ে তাদের সচেতনতা দেখানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যেই পরিমাণ প্রাচুর্যতা আছে আমরা এর থেকে একটু বেশি আশা করতেই পারি। আমরা অবশ্যই চাইবো উদ্যানতত্ত্ব খামারের মতো ডেইরি এবং পোল্ট্রি ফার্মের পক্ষ থেকেও এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করা হোক ।

ডিম ও দুধের বর্তমান বাজার মূল্য পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ডিমের বর্তমান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা হালি এবং দুধ বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

এ ব্যাপারে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থী রেজওয়ান হোসেন বলেন, বর্তমানে দ্রব্যমূল্যে এতটাই আকাশচুম্বী যা আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে। ডাইনিংয়ে খাবারের মান অতটা ভালো না হওয়ায় দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণে দুধ-ডিম আমাদের শিক্ষার্থীদের ভরসার জায়গা। কিন্তু দাম অনেক বেশি হওয়ার কারণে মধ্যবিত্ত অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে এগুলোও কিনে খাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ফার্মে উৎপাদিত দুধ-ডিম থাকার পরেও আমরা স্বল্পমূল্যে সেগুলো সংগ্রহ করা থেকে বঞ্চিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহবায়ক অধ্যাপক ড. কাজী কামরুল ইসলাম জানান, পূর্ববর্তী উপাচার্য স্যারের সময়েই আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করেছিলাম যেনো আমাদের উৎপাদিত দুধ, ডিম এবং মাংসের কিছু অংশ হলেও আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করতে পারি। যদিও আমাদের উৎপাদনশীলতা কম, তবুও এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে অনেক শিক্ষার্থী এটা থেকে উপকৃত হবেন। খুব শীগ্রই উপাচার্যের সাথে কথা বলে এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম মুজিবর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদার কথা চিন্তা করেই প্রশাসনের এ উদ্যোগ। ধাপে ধাপে উদ্যানতত্ত্ব খামার থেকে কলা সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

শিক্ষার্থীদের সমালোচনার উত্তরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা দুধ-ডিমের চাহিদা প্রকাশ করলেও পর্যাপ্ত উৎপাদন না থাকার কারণে আমরা আপাতত সেটা দিতে পাচ্ছি না। কিন্তু আমি চেষ্টা করছি সামনে খামার বিভাগ গুলোর সাথে আলোচনা সভায় আমি একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করব যেখানে আমাদের উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হবে। সীমিত পরিসরে হলেও আমরা এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব।