পঞ্চগড়, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: পঞ্চগড়ে খাবার ও শরবতের সঙ্গে বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে আলম হক নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রী মৌসুমী আক্তার ও বাবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। অপর অভিযুক্ত বাবুল হোসেনকে আটকের জন্য অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে খাবার ও শরবতের সঙ্গে বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে আলম হককে খাওয়ানো হয়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মৃত্যু হয়। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বিষক্রিয়া কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত আলম হকের বড় ভাই আব্দুল করিম জানান, ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের স্ত্রী মৌসুমী আক্তারের কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, “আমি আলমের বউকে বলি, তুমি যদি কিছু করে থাকো তাহলে বল। বাচ্চাদের কথা চিন্তা করে তোমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করব। এরপরও সে কিছু বলেনি। পরে আমাদের ভাগনে মকছেদুলের কাছে বাবুলের সঙ্গে তার এক বছর ধরে প্রেমের কথা স্বীকার করেছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।”
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাবুল হোসেনের সঙ্গে মৌসুমী আক্তারের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়টি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে ওই সম্পর্কের কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, কিংবা ঘটনার সঙ্গে দুজনের প্রকৃত সম্পৃক্ততা কতটুকু—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
পরিবারের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলম হকের মৃত্যুর পর প্রথমদিকে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, নিহতের স্ত্রী ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, “আলমের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রোববার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছিল। সোমবার স্থানীয়রা ফোন করে জানায়, নিহতের স্ত্রী ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৌসুমী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।”
ওসি আরও বলেন, “নিহতের ছোট ভাই জাকির হোসেনের করা ইউডি মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রূপান্তর করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই মামলায় মৌসুমীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে আদালতে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় অপর অভিযুক্ত বাবুল হোসেনকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে তদন্তে বিষাক্ত কোনো পদার্থ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আলম হকের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলাটি অপমৃত্যু থেকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং হত্যার সম্ভাব্য কারণও তদন্ত করে দেখা হবে। অপর অভিযুক্ত বাবুল হোসেনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, পুলিশের তদন্ত এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আলম হকের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

























