ধামইরহাট হাসপাতালে মুমূর্ষু রোগীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি, কর্মকর্তার ঔদ্ধত্য।
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘অ্যাম্বুলেন্স আছে তো ড্রাইভার নেই, হাসপাতাল আছে তো গাড়ি নাই’ এমন চরম অব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিক সংকটে আজ (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এক মুমূর্ষু রোগীর জীবন চরম বিপন্ন হয়েছে। হাসপাতালটি থেকে অক্সিজেন সাপোর্টে থাকা এক অত্যন্ত সংকটাপন্ন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় রেফার করা হলেও, জরুরি মুহূর্তে রোগীকে বহনের জন্য কোনো গাড়ির ব্যবস্থা করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে যখন প্রতি সেকেন্ড অত্যন্ত মূল্যবান, ঠিক তখনই চরম উদাসীনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দেন সংশ্লিষ্ট কর্তারা। এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফ হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিন্দুমাত্র সহমর্মিতা না দেখিয়ে বরং ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও দায় এড়ানোর সুরে সাফ জানিয়ে দেন, “আমাদের এখানে কোনো গাড়ি নেই, বাইরে থেকে কীভাবে নিয়ে আসবেন সেটা আপনাদের ব্যাপার।”
সরকারি একটি হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে এ ধরনের অবহেলা ও ঠান্ডা মাথায় মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন রোগীর অসহায় স্বজনরা। কান্নায় ভেঙে পড়া স্বজনরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, রোগীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক; এই মুহূর্তে বাইরে থেকে তড়িঘড়ি করে গাড়ি জোগাড় করতে গিয়ে বা পথিমধ্যে রোগীর বিন্দুমাত্র ক্ষতি হলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার ডা. আরিফ হাসানসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে নজরদারির অভাবে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল ও গাড়ি সংকট যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। জরুরি মুহূর্তে সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে এমন অবহেলার শিকার হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে এই অব্যবস্থাপনার অবসান ঘটিয়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বহীন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


























