ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দীঘিনালায় ব্রিজ না থাকায় শতাধিক শিক্ষার্থীর পারাপারের ভোগান্তি বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ৩৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভ উদ্বোধন রুয়েটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন রাসিক প্রশাসক দিনাজপুরে ৪ হাজার ২৫০ প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার ও গাছের চারা বিতরণ আওয়ামী লীগ নৈরাজ্যের প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল নাগরপুরে পাট ক্ষেত থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ আত্রাইয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তার চাল বিতরণ চিরিরবন্দরে সন্ধ্যা নামলেই মাদকের বিষাক্ত ছোবলে জর্জরিত দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ: সার্চ কমিটির বৈঠক আজ

ঢাকার কাছেই রহস্যময় ‘ধাঁধার চর’

ধাঁধার চর, ছবি: সংগৃহীত

৪৪

নদীমাতৃক বাংলাদেশের বুকে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য অজানা সৌন্দর্যের গল্প। তেমনই এক অনন্য স্থান গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কাছে শীতলক্ষ্যা ও ব্রহ্মপুত্র নদের মিলনস্থলে গড়ে ওঠা ‘ধাঁধার চর’। স্থানীয়ভাবে এটি ‘মাঝের চর’ বা ‘মাইঝ্যার চর’ নামেও পরিচিত। রাজধানী ঢাকার খুব কাছেই অবস্থিত এই শান্ত-স্নিগ্ধ দ্বীপটি এখনো পুরোপুরি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে না উঠলেও সম্ভাবনার দিক থেকে বেশ আলোচনায় রয়েছে।

‘ধাঁধার চর’ নামটির পেছনে রয়েছে চমকপ্রদ গল্প। একসময় বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে চরের আকার-আকৃতি বারবার বদলে যেত। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর বা রাতে মাঝনদীতে এসে জেলে ও মাঝিরা দিক হারিয়ে ফেলতেন। তাদের কাছে জায়গাটি যেন এক রহস্যময় ধাঁধার মতো মনে হতো। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এর নাম হয়ে যায় ‘ধাঁধার চর’।

ঐতিহাসিকদের মতে, সুলতানি ও মোগল আমলে এই নদী মোহনা ছিল গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। সে সময় নৌ-সেনারা এখানে বিশ্রাম নিতেন এবং নিরাপত্তা তদারকির কাজে দ্বীপটি ব্যবহার করতেন। সময়ের সঙ্গে পলি জমে জমে এটি এখন একটি বিস্তীর্ণ সবুজ দ্বীপে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে ধাঁধার চরে গেলে চোখে পড়ে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। চারপাশে স্বচ্ছ পানির ধারা, দিগন্তজোড়া সবুজ, আর পাখির কোলাহল—সব মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আদর্শ জায়গা। একপাশে শান্ত শীতলক্ষ্যা, অন্যপাশে গম্ভীর ব্রহ্মপুত্র—দুটি ভিন্ন রূপ একই স্থানে দেখা যায়। দর্শনার্থীরা সাধারণত নৌকা বা ট্রলার ভাড়া করে এখানে ঘুরতে আসেন, অনেকেই পিকনিকও করেন। তবে এখনো পর্যাপ্ত অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদেও ধাঁধার চর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকার এটিকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাবনায় রয়েছে ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়ন, পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য আধুনিক ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনা।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কাপাসিয়া অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি হবে, পাশাপাশি হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন খাতেও উন্নয়ন ঘটবে। ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় এটি খুব সহজেই জনপ্রিয় ‘উইকেন্ড ট্যুরিস্ট স্পট’ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ইতিহাসের মেলবন্ধনে ‘ধাঁধার চর’ বাংলাদেশের একটি নতুন পর্যটন সম্ভাবনার নাম। যথাযথ পরিকল্পনা ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এটি হতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

দীঘিনালায় ব্রিজ না থাকায় শতাধিক শিক্ষার্থীর পারাপারের ভোগান্তি

ঢাকার কাছেই রহস্যময় ‘ধাঁধার চর’

আপডেট সময় ০৩:২৮:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
৪৪

নদীমাতৃক বাংলাদেশের বুকে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য অজানা সৌন্দর্যের গল্প। তেমনই এক অনন্য স্থান গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কাছে শীতলক্ষ্যা ও ব্রহ্মপুত্র নদের মিলনস্থলে গড়ে ওঠা ‘ধাঁধার চর’। স্থানীয়ভাবে এটি ‘মাঝের চর’ বা ‘মাইঝ্যার চর’ নামেও পরিচিত। রাজধানী ঢাকার খুব কাছেই অবস্থিত এই শান্ত-স্নিগ্ধ দ্বীপটি এখনো পুরোপুরি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে না উঠলেও সম্ভাবনার দিক থেকে বেশ আলোচনায় রয়েছে।

‘ধাঁধার চর’ নামটির পেছনে রয়েছে চমকপ্রদ গল্প। একসময় বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে চরের আকার-আকৃতি বারবার বদলে যেত। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর বা রাতে মাঝনদীতে এসে জেলে ও মাঝিরা দিক হারিয়ে ফেলতেন। তাদের কাছে জায়গাটি যেন এক রহস্যময় ধাঁধার মতো মনে হতো। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এর নাম হয়ে যায় ‘ধাঁধার চর’।

ঐতিহাসিকদের মতে, সুলতানি ও মোগল আমলে এই নদী মোহনা ছিল গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। সে সময় নৌ-সেনারা এখানে বিশ্রাম নিতেন এবং নিরাপত্তা তদারকির কাজে দ্বীপটি ব্যবহার করতেন। সময়ের সঙ্গে পলি জমে জমে এটি এখন একটি বিস্তীর্ণ সবুজ দ্বীপে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে ধাঁধার চরে গেলে চোখে পড়ে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। চারপাশে স্বচ্ছ পানির ধারা, দিগন্তজোড়া সবুজ, আর পাখির কোলাহল—সব মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আদর্শ জায়গা। একপাশে শান্ত শীতলক্ষ্যা, অন্যপাশে গম্ভীর ব্রহ্মপুত্র—দুটি ভিন্ন রূপ একই স্থানে দেখা যায়। দর্শনার্থীরা সাধারণত নৌকা বা ট্রলার ভাড়া করে এখানে ঘুরতে আসেন, অনেকেই পিকনিকও করেন। তবে এখনো পর্যাপ্ত অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদেও ধাঁধার চর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকার এটিকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাবনায় রয়েছে ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়ন, পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য আধুনিক ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনা।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কাপাসিয়া অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি হবে, পাশাপাশি হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন খাতেও উন্নয়ন ঘটবে। ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় এটি খুব সহজেই জনপ্রিয় ‘উইকেন্ড ট্যুরিস্ট স্পট’ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ইতিহাসের মেলবন্ধনে ‘ধাঁধার চর’ বাংলাদেশের একটি নতুন পর্যটন সম্ভাবনার নাম। যথাযথ পরিকল্পনা ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এটি হতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য।