, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আত্রাইয়ে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি, জেলেদের মাছ শিকারের ধুম রুমায় দুর্গম আমইপাড়ায় সুপেয় পানির ট্যাংক দিল রুমা জোন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: ফুলবাড়ীতে ১৮তম দিনের মানববন্ধনে জেলা পরিষদ প্রশাসক কায়কোবাদ। বাগেরহাটের কচুয়ায় হাজেরা খাতুন হেলথ কেয়ারে মাসিক সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত লালমনিরহাটে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মহোদয়ের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন চিরিরবন্দরে ​বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ ফকির পাড়া গ্রামে বসুন্ধরা শুভসংঘের চারা বিতরণ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬: কারাতে শিক্ষার্থী আতিকুলকে জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তা প্রদান কাউনিয়া উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত কুড়ুলগাছি ধান্যঘরায় বাস চাপায় প্রাণ গেল শিশু সিয়ামের মৃত্যু জাতীয় অনলাইন জরিপে সেরা চারে মধ্যে ঠাকূরগাঁও লিগ্যাল এইড অফিস

আত্রাইয়ে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি, জেলেদের মাছ শিকারের ধুম

  • রুহুল আমিন
  • আপডেট সময় ১০:৫৬:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • 5

নওগাঁ আত্রাই উপজেলার নদী ও খাল-বিল বন্যার পানিতে পরিপূর্ণ হওয়ায় জেলেদের মাছ শিকারের ধুম পড়েছে। অনেকেই নদী ও খাল-বিলের বিভিন্ন স্থানে তাদের বড়ফাসের জাল, খেপলা জাল, ঠেলা জাল, চারু, খলসান, খড়া জাল স্থাপন করে মাছ শিকার শুরু করেছেন। আবার অনেক পরিবারের মাঝে মাছ শিকারের প্রস্তুতি হিসেবে জাল স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থায় ব্যস্ত রয়েছেন।

​আত্রাই উপজেলা যুগ যুগ ধরে বন্যা কবলিত এলাকা। ভৌগলিক দিক থেকে এ উপজেলার বুক চিড়ে ঐতিহাসিক আত্রাই নদী প্রবাহিত হওয়ায় নদীর দুই পাশের খাল-বিলগুলো অল্পতেই পানিতে ডুবে যায়। এবারও গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই হয়ে গেছে। এসব পানি বিভিন্ন খাল-বিলে প্রবেশ করায় খাল-বিলগুলোও এখন পানিতে পরিপূর্ণ।

শুষ্ক মৌসুমে নদী ও খাল-বিল পানি শূন্য হওয়ায় বেশ কয়েক মাস ধরে জেলে পরিবারের মাঝে অভাব অনটন দেখা দেয়। মাছ শিকার করতে না পেরে অনেক জলদাস পেশা পরিবর্তন করে জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্য পেশা অবলম্বন করেন। সম্প্রতি নদী ও খাল-বিলে পানি আসায় তাদের চোখ মুখে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠেছে। তারা এখন কোমরে কাপড় গুঁজে মাছ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

​জানা যায়, উপজেলার ৮ ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার জেলে পরিবার রয়েছে। যারা নিয়মিত মাছ শিকার করে বাজারে বিক্রি অর্থে নিজের পরিবারের ভরণপোষণ করে থাকেন। শুধু বর্ষা মৌসুমে মাছ শিকারের অর্থ দ্বারা সারা বছর পরিবার পরিজনের জীবিকা নির্বাহ কষ্টকর হয়ে যায় বলে অনেক জেলে জানিয়েছেন। উপজেলার খঞ্জর গ্রামের মৎস্যজীবী অজিত কুমার হাওলাদার বলেন, আগে সারা বছরই আমরা মাছ শিকার করতে পারতাম। কিন্তু এখন শুষ্ক মৌসুমে নদী ও খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় বছরের অর্ধেকের বেশি সময় মাছ শিকার করতে পারিনা। ফলে ওই সময়গুলোতে আমাদের অন্য পেশা অবলম্বন করতে হয়।

মৎস্যজীবী স্বপন কুমার হাওলাদার বলেন, বর্তমান বর্ষা মৌসুমেও আগের মত আর মাছ হচ্ছে না। এখন যত্রতত্র রিংজালের ব্যবহার ব্যাপক হারে মাছ নিধন করা হচ্ছে। এ জাল এতটাই মারাত্মক যে, মাছের একেবারে ছোট পোনাও রেহাই পায়না। ফলে মাছের বংশ বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে। তাই আগের মত আর আমরা মাছ পাচ্ছি না।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, আত্রাই উপজেলা মাছের জন্য বিখ্যাত। এখানকার মাছ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত হয়। উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে মাছের প্রজনন ও বংশ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিষিদ্ধ রিংজাল ব্যবহার না করার জন্য আমরা ব্যাপক ভাবে প্রচার প্রচারণা করছি। সেই সাথে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে রিং ও কারেন্টজাল জব্দ এবং তাৎক্ষণিক আগুন পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

প্রকৃত মৎস্যজীবীরা যাতে উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন এ জন্য আমরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছি। আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অবৈধ মাছ শিকারিদের কবল থেকে দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় আমরা বিভিন্ন হাট-বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। সেখানে নিষিদ্ধ জাল জব্দ এবং বিক্রেতাদের জরিমানাও করছি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আত্রাইয়ে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি, জেলেদের মাছ শিকারের ধুম

আত্রাইয়ে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি, জেলেদের মাছ শিকারের ধুম

আপডেট সময় ১০:৫৬:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

নওগাঁ আত্রাই উপজেলার নদী ও খাল-বিল বন্যার পানিতে পরিপূর্ণ হওয়ায় জেলেদের মাছ শিকারের ধুম পড়েছে। অনেকেই নদী ও খাল-বিলের বিভিন্ন স্থানে তাদের বড়ফাসের জাল, খেপলা জাল, ঠেলা জাল, চারু, খলসান, খড়া জাল স্থাপন করে মাছ শিকার শুরু করেছেন। আবার অনেক পরিবারের মাঝে মাছ শিকারের প্রস্তুতি হিসেবে জাল স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থায় ব্যস্ত রয়েছেন।

​আত্রাই উপজেলা যুগ যুগ ধরে বন্যা কবলিত এলাকা। ভৌগলিক দিক থেকে এ উপজেলার বুক চিড়ে ঐতিহাসিক আত্রাই নদী প্রবাহিত হওয়ায় নদীর দুই পাশের খাল-বিলগুলো অল্পতেই পানিতে ডুবে যায়। এবারও গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই হয়ে গেছে। এসব পানি বিভিন্ন খাল-বিলে প্রবেশ করায় খাল-বিলগুলোও এখন পানিতে পরিপূর্ণ।

শুষ্ক মৌসুমে নদী ও খাল-বিল পানি শূন্য হওয়ায় বেশ কয়েক মাস ধরে জেলে পরিবারের মাঝে অভাব অনটন দেখা দেয়। মাছ শিকার করতে না পেরে অনেক জলদাস পেশা পরিবর্তন করে জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্য পেশা অবলম্বন করেন। সম্প্রতি নদী ও খাল-বিলে পানি আসায় তাদের চোখ মুখে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠেছে। তারা এখন কোমরে কাপড় গুঁজে মাছ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

​জানা যায়, উপজেলার ৮ ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার জেলে পরিবার রয়েছে। যারা নিয়মিত মাছ শিকার করে বাজারে বিক্রি অর্থে নিজের পরিবারের ভরণপোষণ করে থাকেন। শুধু বর্ষা মৌসুমে মাছ শিকারের অর্থ দ্বারা সারা বছর পরিবার পরিজনের জীবিকা নির্বাহ কষ্টকর হয়ে যায় বলে অনেক জেলে জানিয়েছেন। উপজেলার খঞ্জর গ্রামের মৎস্যজীবী অজিত কুমার হাওলাদার বলেন, আগে সারা বছরই আমরা মাছ শিকার করতে পারতাম। কিন্তু এখন শুষ্ক মৌসুমে নদী ও খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় বছরের অর্ধেকের বেশি সময় মাছ শিকার করতে পারিনা। ফলে ওই সময়গুলোতে আমাদের অন্য পেশা অবলম্বন করতে হয়।

মৎস্যজীবী স্বপন কুমার হাওলাদার বলেন, বর্তমান বর্ষা মৌসুমেও আগের মত আর মাছ হচ্ছে না। এখন যত্রতত্র রিংজালের ব্যবহার ব্যাপক হারে মাছ নিধন করা হচ্ছে। এ জাল এতটাই মারাত্মক যে, মাছের একেবারে ছোট পোনাও রেহাই পায়না। ফলে মাছের বংশ বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে। তাই আগের মত আর আমরা মাছ পাচ্ছি না।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, আত্রাই উপজেলা মাছের জন্য বিখ্যাত। এখানকার মাছ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত হয়। উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে মাছের প্রজনন ও বংশ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিষিদ্ধ রিংজাল ব্যবহার না করার জন্য আমরা ব্যাপক ভাবে প্রচার প্রচারণা করছি। সেই সাথে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে রিং ও কারেন্টজাল জব্দ এবং তাৎক্ষণিক আগুন পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

প্রকৃত মৎস্যজীবীরা যাতে উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন এ জন্য আমরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছি। আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অবৈধ মাছ শিকারিদের কবল থেকে দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় আমরা বিভিন্ন হাট-বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। সেখানে নিষিদ্ধ জাল জব্দ এবং বিক্রেতাদের জরিমানাও করছি।